20/02/2026
হাতির বাচ্চা কাণ্ডে সংসারে উত্তাপ
আমাদের সংসারে শান্তি থাকে ঠিক যতক্ষণ না কেউ কাউকে কোনো নতুন নামে ডাকে। আর নামটা যদি হয় “হাতির বাচ্চা”, তাহলে তো কথাই নেই!
ঘটনার শুরু একেবারে সিনেমার মতো। শশুর আব্বু নাকি আড়ালে শাশুড়ি আম্মাকে “হাতির বাচ্চা” বলে ডাকেন। অবশ্য আমার সামনে না—আমি তো ভদ্র বউ, আমার সামনে সবাই সাধু! কিন্তু সেদিন ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, পানি আনতে গিয়ে আমি কানে কানে শুনে ফেললাম—
“এই যে হাতির বাচ্চা, চা দিবা না?”
আমি থমকে গেলাম। চা-টা কাপেই জমে গেল, কিন্তু ঝড় জমলো ঘরের ভিতর।
শাশুড়ি আম্মা প্রথমে চুপ। তারপর বজ্রপাতের মতো ঘোষণা দিলেন,
“আমি এই সংসারের ভাত আর খাবো না! এই ঘরে আমাকে অপমান করা হচ্ছে!”
আমার হাজবেন্ড তখন কিছুই জানে না। সে ভাবছে, নিশ্চয়ই আমি কিছু করেছি। তাই এসে বললো,
“তুমি গিয়ে মাফ চাও। আম্মাকে কষ্ট দিলে চলবে?”
আমি তো ভেতরে ভেতরে পুরো খবর জানি। তবুও ভালো বউয়ের মতো শাড়ির আঁচল ঠিক করে গিয়ে বললাম,
“মা, আমার দ্বারা যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন, মাফ করে দেন। দুটো ভাত খান, আপনার ছেলে কষ্ট পাচ্ছে।”
শাশুড়ি মা চোখ রাঙিয়ে বিড়বিড় করলেন,
“গোলামের পুত যতক্ষণ না আমার কাছে মাফ চাইছে, আমি কিছুই খাবো না!”
আমি তো অবাক। “মা, কোন গোলামের পুত?”
পাশ থেকে দাদি শাশুড়ি ধীরে ধীরে আগুনে ঘি ঢাললেন,
“তোমার শশুরকেই কইছে। বউয়ের কাছে পোলার কোনো দাম নাই!”
এই কথা শুনে শাশুড়ি মা তেলে-বেগুনে চ্যাৎ!
“মুখ খুলতে বাধ্য করিয়েন না আম্মা! বিয়ের পর দেখছি, আপনি শশুরকে বটি নিয়ে তাড়া করতেন!”
ঠিক তখনই শশুর আব্বু বাইরে থেকে ঢুকে বললেন,
“সত্যি কথা! আগে আম্মা করতো, এখন তুমি করো!”
আমি বুঝলাম—এটা আর আমার লেভেলের ঝগড়া না। এটা ইতিহাস, ভূগোল, সমাজবিজ্ঞান মিলিয়ে পারিবারিক মহাকাব্য। চুপচাপ রুম থেকে কেটে পড়লাম।
এদিকে রুমে তুমুল ঝগড়া।
আমার জামাই আমার সামনে দাঁড়িয়ে অপরাধীর মতো বলছে,
“আমার বাপ আছে আমার মায়ের যন্ত্রণায়, আর আমি আছি আমার বউয়ের যন্ত্রণায়…”
তারপর তিন মাসের ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো,
“তোর এই বাপ বেঁচে থাকতে তোকে কখনও বিয়ে করতে দিবো না!”
আমি ছেলেকে কোলে নিয়ে বললাম,
“বাবা, তুই বড় হয়ে বিয়ে করিস, তবে আগে জেনে নিস—তোর বউকে কোনোদিন হাতির বাচ্চা বলবি না!”
পেছন থেকে শশুর আব্বুর গলা ভেসে এলো,
“আরে মজা করে বলছিলাম!”
শাশুড়ি মা চিৎকার করে উঠলেন,
“তাহলে তুমি চিড়িয়াখানায় গিয়ে মজা করো!”
সেদিন ভাত রান্না হলো তিনবার। রাগ ভাঙলো চারবার। আর “হাতির বাচ্চা” শব্দটা সংসারে অফিসিয়ালি নিষিদ্ধ হলো।
তবে মাঝে মাঝে শশুর আব্বু ভুল করে বলে ফেলেন,
“এই যে… হাতি—মানে, আমার রানী!”
আমরা সবাই তখন হাসি চেপে রাখি।
কারণ আমাদের সংসারে ভালোবাসার ভাষা একটু ভারী হলেও, মনটা কিন্তু বেশ হালকা। 🐘😄
MAAT