পৃথিবীর পাঠশালায় -Prithibir Pathshalay

পৃথিবীর পাঠশালায়  -Prithibir Pathshalay দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে

যাবে না ফিরে!

’ও আমার জানতোর বাঁশি যেন যাদু জানে রেকত সোহাগে আদরে কাছে টানি রে.................... ’আব্দুল হাই আল হাদি বাংলাদেশের সিনে...
18/08/2026

’ও আমার জান
তোর বাঁশি যেন যাদু জানে রে
কত সোহাগে আদরে কাছে টানি রে.................... ’

আব্দুল হাই আল হাদি

বাংলাদেশের সিনেমার দর্শকরা তখনও রাজ্জাক, আলমগীর, সোহেল রানা, জসিম,ইলিয়াস কাঞ্চন, জাফর ইকবালদের মতো একই মুখগুলো ঘুরে ফিরে বারবার দেখতে দেখতে ক্লান্ত হচ্ছিল। ঠিক তখনই (১৯৯১) বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রবাদ পুরুষ , পরিচালক এহতেশাম সাহেব একেবারে অপরিচিত ও টগবগে দুই তরুণ ও তরুণী নাঈম-শাবনাজ’কে নিয়ে নির্মাণ করলেন ‘চাঁদনী’ নামের এক প্রেম কাহিনী নির্ভর চলচ্চিত্র । যার অভাবনীয় সাফল্য বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকেও পাল্টে দিয়েছিল। প্রবীণ জনপ্রিয় তারকাদের পাশাপাশি শুরু হয় তারুণ্যর জয়গান, চলচ্চিত্রের আকাশে নতুনের কেতন ওড়ে যার ফলশ্রুতিতে আমরা পেয়েছিলাম সালমান শাহ, ওমর সানি, আমিন খান, রিয়াজ, মৌসুমি, শাবনুরদের মতো নতুন কজন সফল তরুণ তারকা যারা আজও অনেকের আইডল হয়ে আছেন ।
কিন্তু অনেকেরই হয়তো অজানা যে, মোড় ঘোরানো সে ‘চাঁদনী’ নামের মুভি এবং ধারাবাহিকভাবে নির্মিত তুমুল জনপ্রিয় অন্যান্য চলচ্চিত্রের সাথে সিলেটের শ্রীপুরের রাংপানি, নলজুরি, লালাখালের সারি নদী, জাফলংয়ের ডাউকি ও পিয়াইন নদী এবং পাশ্ববর্তী অন্যান্য এলাকার নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশেষ করে শ্রীপুরের রাংপানির কথা খুবই উল্ল্যেখ করার মতো। ওয়াসিম, শাবানা ও বাবর অভিনিত ’বাঞ্জারাম’ মুভিটির শ্যুটিং টানা ৩ মাস ধরে এসব এলাকায় হয়েছিল। বলা হয়, পুরো এ মুভির প্রায় ৯০ ভাগ দৃশ্যায়ন এখানেই সম্পন্ন হয়েছিল। পাহাড়-টিলা-নদী-ঝরণা-অরণ্যেঘেরা প্রকৃতির দান এখানকার সৌন্দর্য যে তখন কেমন ছিল, তা সহজেই অনুমান করা যেতে পারে।
এছাড়া ওমর সানি ও মুক্তি (নায়িকা আনোয়ারার মেয়ে) অভিনিত ’চাঁদের আলো’; ’চাঁদের হাসি’ ’বন্ধু আমার’; সালমান শাহ ও মৌসুমি অভিনিত ’দেন-মোহর’; রুবেল-সোনিয়া-অমিত হাসান অভিনিত ’মা মাটি দেশ’; ’অধিনায়ক’, সিংহ পুরুষ’, ’ট্রাক ড্রাইভার’ কিংবা ’বন্ধু আমার’ প্রভৃতি কালজয়ী ও তুমুল জনপ্রিয় ছবিতে আবদ্ধ হয়ে আছে এখানকার সৌন্দর্য।
সে সময়ের টগবগে তরুণ, পরবর্তীর্তে নিজপাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মরহুম মুখলিছুর রহমান দৌলা, সাংবাদিক মরহুম কুদরত উল্ল্যাহ সর্বদাই এসব শ্যুটিং টিমকে পৃষ্টপোষকতা করেছেন। যার কারণে কোনদিনই কোথাও কোন ব্যাঘাত ঘটেনি। শ্যুুটিং টিমের সদস্যরা থাকতেন নলজুরি ডাকবাংলো ও জৈন্তাপুর থানার পাশ্ববর্তী সওজের ডাকবাংলোতে।

দৈনিক প্রথম আলো কিছুদিন আগে ’শ্রীভূমির শ্রীপুর’ ছবি প্রতিবেদনে শ্রীপুরের সৌন্দর্য আবার সবার সামনে নিয়ে আসে। আজকেও সে ছবির কারিগর প্রতিশ্রুতিশীল ফটো সাংবাদিক আনিস মাহমুদ ’শ্রীপুরের রাংপানি’ নামে প্রতিবেদন লিখেছেন। সে লেখাতেও শ্রীপুর যে তার হারানো শ্রী পুনরায় ফিরে পেয়েছে, তার চিত্র উঠে এসেছে অত্যন্ত সাবলীল ভাষায়। ধন্যবাদ আনিস মাহমুদ। একইসাথে ধন্যবাদ প্রথম আলো-কে।
তথ্য দিয়ে সহযোগিতার জন্য জসীম ও ওলিউর রহমান গুলশান ভাইয়ের প্রতি অনি:শেষ কৃতজ্ঞতা।

24/07/2026

বন্যেরা বনে সুন্দর......

নরবলি/কল্লাকাটা: মিথ না বাস্তবতা-এক মোহাম্মদ আব্দুল হাই রচিত ’সিলেটের প্রত্নসম্পদ’ বইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হচ্ছে-...
22/07/2026

নরবলি/কল্লাকাটা:
মিথ না বাস্তবতা-এক

মোহাম্মদ আব্দুল হাই রচিত ’সিলেটের প্রত্নসম্পদ’ বইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হচ্ছে-’জৈন্তেশ্বরী বাড়ি’ । সে বাড়ির মধ্যে ’নরবলির পাটাতন’ নামে একটি স্থাপনা আছে যেটির প্রতœতাত্বিক বর্ণনা করতে গিয়ে লেখক প্রসঙ্গক্রমে ’নরবলি’ প্রথা সম্পকে খানিকটা আলোকপাত করেছেন। স্যার এডওয়ার্ড গেইটের বয়ানে সেখানে নরবলি অর্থাৎ দেবতার সামনে কিভাবে মানুষকে বলি দেওয়া হত- সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

সেটির চুম্বক অংশ এখানে তুলে ধরা হল: ’আশ্বিন মাসের (শুক্ল পক্ষে) সান্ধি ডে (সম্ভবত:শনিবারে) ফালজুর পরগনার পবিত্র ’পীঠ’ ও নিজপাটের পবিত্র ’জৈন্তেশ্বরী মন্দিরে’ বিভিন্ন উপলক্ষে নরবলি দেওয়া হতো। কোচ বিহারের ঐধভঃ ওয়ষরস এর মতো এখানেও ভিকটিম ব্যক্তিটি স্বত:স্ফূর্তভাবে স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসতো আত্ববলির জন্য। শ্রাবণ মাসের শেষ দিনে সাধারণভাবে আত্ববলিদানে আগ্রহীরা রাজার সামনে আসতো এবং ঘোষণা করতো যে, দেবী তাদের ডেকেছেন। তাদের নিয়ত বা সদিচ্ছার যথাযথ তদন্ত করা হতো এবং এতে যদি সে ব্যক্তি অর্থাৎ ভিকটিম বা ’ভোগ-খাওরা’ উপযুক্ত বলে বিবেচিত হতো তবে রাজা তাকে প্রথমে সোনার নুপুর উপহার দিতেন। সে যেভাবে ইচ্ছা মনের মতো করে বসবাসের সুযোগ পেত এবং সে সন্তুষ্ট হয় এমন যেকোন কিছুই করার জন্য তাকে অনুমতি প্রদান করা হয়। জীবনে তাঁর দ্বারা সংঘটিত যেকোন ক্ষতিপুরণ রাজকীয় কোষাগার হতে প্রদান করা হত। কিন্তু এসব সুযোগ-সুবিধা ভোগের সময় হতো খুবই কম। দুর্গাপূজার নবমী দিনে গোসল ও পবিত্রতার পর ’ভোগ-খাওরা’ কে নতুন সুন্দর পোশাক পরিধান করানো হয়। লাল চন্দন কাঠ ও সিন্দুর এবং মালা দিয়ে সজ্জিত করা হতো। এসব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের পর, সে ব্যক্তি অর্থাৎ শিকার ব্যক্তিকে দেবীর সামনে একটি উচুঁ মঞ্চের উপর বসানো হতো ।এরপর সে কিছু সময় ধ্যান (জপ) এবং মন্ত্র উচ্চারণের জন্য ব্যয় করতো। সর্বশেষ সে হাতের আঙ্গুল দিয়ে একটি বিশেষ চিহ্ন তৈরি করতো এবং জল্লাদ বলির স্বাভাবিক মন্ত্র উচ্চারণের পর তার মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হতো। এরপর মাথাকে দেবীর সামনে সোনার থালায় রাখা হতো। এরপর তার ফুসফুস রান্না করা হতো এবং উপস্থিত ’খান্দ্র-যোগীদের’ দ¦ারা খাওয়া হতো ।বলা হয় যে, রাজকীয় পরিবার মৃতের রক্ত দিয়ে রান্না করা ভাত খাওয়ার ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতো। অনুষ্ঠানটি বিশাল জনতার দর্শকরা দেখতে পেত যারা রাজ্যের সব পরগণা থেকে অংশগ্রহন করতো।
কখনও কখনও স্বেচ্ছা আত¦বলিদানের লোকের অভাব দেখা দিত। কিংবা প্রতিশ্রæত বিশেষ বলি যেমন একটি পুত্র সন্তানের জন্ম ও বিপদ থেকে আসান ইত্যাদির জন্য হঠাৎ লোকের প্রয়োজন হত । সে রকম অনুষ্ঠানের জন্য, তখন ’ছেলেধরা’ বা ’গলাকাটরা’ নিয়োগ করা হতো যারা রাজ্যের বাইরে থেকে লোক ধরে নিয়ে আসতো ।’
দেবীর উদ্দেশে মানুষকে বলি দেওয়ার এ দাবির প্রায় শতাধিক বছর পেরিয়ে গেছে। সে দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন কিংবা কেউ খারিজ করতে পেরেছেন বলে জানা নেই। মানুষকে বলি দেওয়ার পাটাতনটি আজও কালের সাক্ষী হিসেবে টিকে আছে। তবে কী নরবলি মিথ, না এক কঠিন বাস্তবতা??

10/07/2026
এক সুফি সাধকের আলো: যশোরের কারবালা ও পীর নূর বোরহান শাহচতুর্দশ শতকের মধ্যভাগ। চারদিকে তখন অরণ্যের ঘন অন্ধকার, আর মানুষের...
10/07/2026

এক সুফি সাধকের আলো:
যশোরের কারবালা ও পীর নূর বোরহান শাহ

চতুর্দশ শতকের মধ্যভাগ। চারদিকে তখন অরণ্যের ঘন অন্ধকার, আর মানুষের মনে অজ্ঞতার কুয়াশা। ভৈরব নদের তীরবর্তী যশোর অঞ্চলে তখন সুফি সাধক হযরত খানজাহান আলী (রহঃ) তাঁর বারো জন প্রধান আউলিয়াকে নিয়ে ইসলাম ও মানবতার বাণী ছড়িয়ে দিতে আগমন করেছেন। তাঁদেরই একজন ছিলেন আধ্যাত্মিক সাধক হযরত শাহ নূর বোরহান শাহ (রহঃ)।

খানজাহান আলী (রহঃ)-এর নির্দেশে নূর বোরহান শাহ এবং তাঁর সহচর হযরত গরীব শাহ (রহঃ) যশোর শহরের উপকণ্ঠে 'মুরলী কসবা' এলাকায় আস্তানা গাড়েন। তবে নূর বোরহান শাহ একাকী ইবাদত ও ধ্যানের জন্য বেছে নেন শহর থেকে কিছুটা দূরের এক নির্জন, ঘন জঙ্গলাকীর্ণ স্থান। দিনে দিনে তাঁর সততা, অলৌকিক আধ্যাত্মিক শক্তি এবং মানুষের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দেখে স্থানীয় সাধারণ মানুষ দলে দলে ইসলামের আলোয় দীক্ষিত হতে থাকে।
জনশ্রুতি আছে, ইরাকের পবিত্র কারবালার মাটি ও স্মৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে এই সাধক তাঁর আস্তানার চারপাশের পরিবেশকে এক পবিত্র রূপ দিয়েছিলেন। তিনি যেখানে বসে দিনের পর দিন আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকতেন, তাঁর ইন্তেকালের পর সেখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। তাঁর পবিত্র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং ইরাকের কারবালার সাথে আধ্যাত্মিক সংযোগের কারণে পরবর্তীকালে এই পুরো এলাকাটি 'কারবালা' নামে পরিচিতি লাভ করে।

আজকের জুমার দিনে কারবালা শরীফের সেই ঐতিহাসিক দিঘির শান্ত জল আর প্রাচীন মসজিদের গাম্ভীর্য যেন শত শত বছরের সেই ইতিহাসকে চোখের সামনে জীবন্ত করে তোলে। যুগের পর যুগ ধরে নূর বোরহান শাহের এই মাজার প্রাঙ্গণ কেবল একটি ধর্মীয় স্থানই নয়, বরং শান্তি ও হেদায়েতের এক শাশ্বত প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

08/07/2026
08/07/2026

ফিলিস্তিন। ফিলিস্তিন।

আশফল।
29/06/2026

আশফল।

Address

Sylhet

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when পৃথিবীর পাঠশালায় -Prithibir Pathshalay posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share