09/08/2025
বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম থেকে তিন বছর আগে ৩০টি ইঞ্জিন আমদানি করেছিল। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবহারে ইঞ্জিনগুলোর বেশিরভাগই বিকল হয়ে গেছে। বর্তমানে অর্ধেকের বেশি ইঞ্জিন কারখানায় অচল অবস্থায় পড়ে আছে। সচল ইঞ্জিনগুলোও প্রায় প্রতিদিন চলন্ত অবস্থায় বিকল হয়ে যাত্রীসেবায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
তিন বছর আগের কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ
সাবেক রেল সচিব মাহাবুবুর কবির মিলন তার ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, তিন বছর আগে তৎকালীন রেলমন্ত্রী ও রেলের কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কমিশন খেয়ে হুন্দাই রোটেম থেকে নিম্নমানের ইঞ্জিন আমদানি করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “সম্পূর্ণ দুই নম্বর যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে নিন্মমানের ইঞ্জিন দেশে আনা হয়েছিল, যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার মতো নয়।”
তিনি জানান, সে সময় দুর্নীতির প্রমাণসহ অভিযোগপত্র দুদকের তৎকালীন সচিবের হাতে দেওয়া হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহলের প্রভাবে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। বর্তমানে সেই মন্ত্রী কারাগারে থাকলেও জড়িত কিছু কর্মকর্তা এখনো সক্রিয় আছেন বলে দাবি মিলনের।
নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু:
মিলনের অভিযোগ, এবার দোহাজারী–কক্সবাজার রেল প্রকল্পের অর্থ ব্যবহার করে নতুন করে ৩০টি ইঞ্জিন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু টেন্ডারের শর্ত এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যাতে হুন্দাই রোটেম ছাড়া অন্য কোনো নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করতে না পারে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “আবারও দুই নম্বর ইঞ্জিন দেশে আনার চেষ্টা চলছে। যেগুলো দিয়ে রেলের সেবা আরও অচল হয়ে পড়বে।”
বিদেশ থেকে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, আগের কেনাকাটায় জড়িত কিছু সাবেক কর্মকর্তা বিদেশে পালিয়ে গিয়ে সেখান থেকে হুন্দাই রোটেমকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ প্রক্রিয়ায় রেলের ভেতরের কিছু কর্মকর্তাও জড়িত।
ইঞ্জিন সংকটে রেলের বিপর্যয়:
বর্তমানে রেলের বহু ট্রেন ইঞ্জিন সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে। ঢাকা-কক্সবাজার রুটের পর্যটক এক্সপ্রেসসহ একাধিক ট্রেন চলন্ত অবস্থায় বিকল হওয়ার ঘটনা এখন নিয়মিত। এতে যাত্রীসেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং রেলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ওপেন টেন্ডারের দাবি:
মিলন তার পোস্টে বলেন, “আমরা চাই টেন্ডার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হোক, যাতে বিশ্বের যেসব প্রতিষ্ঠান ভালো মানের ইঞ্জিন তৈরি করে, তারা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে।”
তিনি বর্তমান উপদেষ্টা, রেল সচিব এবং রেলের ডিজির প্রতি আহ্বান জানান, যেন এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, “টেন্ডারে কী শর্ত দেওয়া হয়, তা জাতিকে জানাবো ইনশাআল্লাহ।”
#বাংলাদেশ #রেলওয়ে #ইঞ্জিন #অনিয়ম #মিলন #পোস্ট