18/07/2026
বর্তমান কোচের উপর ভিত্তি করেই রাজশাহী-খুলনা রুটে নতুন একটি ট্রেন চালানো সম্ভব,, বিস্তারিত পড়ার জন্য অনুরোধ রইল,,
রাজশাহী ও খুলনার মধ্যে যাত্রী চাহিদা দিন দিন বাড়লেও রাতের বেলায় সরাসরি ট্রেন না থাকায় সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি আজও কাটেনি। বিশেষ করে খুলনাগামী অনেক রোগী ও তাদের স্বজন রাজশাহীতে চিকিৎসকের পরামর্শ ও রিপোর্ট দেখানোর কাজ শেষ করে রাতেই স্টেশনে এসে অপেক্ষা করেন। রাতভর স্টেশনে কাটিয়ে পরদিন সকালে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসে ট্রেনে যাত্রা করতে বাধ্য হন। অসুস্থ মানুষ, নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য এই কষ্ট সত্যিই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে খুলনা থেকে সন্ধ্যার পর রাজশাহীর উদ্দেশ্যে আসার কোনো আন্তঃনগর ট্রেন না থাকায় যাত্রীদের বিকেলের সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনের ওপরই নির্ভর করতে হয়। ফলে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সৃষ্টি হয় এবং অনেক যাত্রী দাঁড়িয়ে বা চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যাত্রা করেন। সন্ধ্যার পর একটি নতুন ট্রেন চালু হলে যেমন যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে, তেমনি সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের ওপর অতিরিক্ত চাপও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই সমস্যার সমাধানে নতুন কোচ বা নতুন লোকোমোটিভ কেনার প্রয়োজন নাও হতে পারে। বর্তমানে যে কোচ ও ইঞ্জিন রয়েছে, সেগুলোর আরও কার্যকর ব্যবহার করেই একটি নতুন ট্রেন পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস রাজশাহীতে পৌঁছে সারারাত অপেক্ষায় থাকে। একইভাবে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস খুলনায় পৌঁছানোর পরও পরবর্তী নির্ধারিত যাত্রার আগে দীর্ঘ সময় অলস অবস্থায় থাকে। এই অব্যবহৃত সময়কে কাজে লাগিয়ে যদি রাজশাহীতে অবস্থানরত সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসকে নতুন একটি ট্রেনের নাম দিয়ে রাতে খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং খুলনায় থাকা কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসকেও ঐ একই নামে রাতে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে পরিচালনা করা হয়, তাহলে ভোরের মধ্যেই উভয় ট্রেন নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। এরপর যথাসময়ে আবার আগের নামেই সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস হিসেবে নিয়মিত সেবা চালিয়ে যেতে পারবে।
এভাবে একই রেক ও লোকোমোটিভের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে কার্যত যাত্রীসেবায় একটি অতিরিক্ত ট্রেন যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে। ঠিক যেমন পদ্মা, সিল্কসিটি, ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনের দুইটা রেককে তিনটা করা হয় ঠিক তেমনটা করলেই হবে।।
এতে সরকারের অতিরিক্ত বিনিয়োগের চাপও তুলনামূলক কম থাকবে, আবার হাজারো যাত্রীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তিও লাঘব হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সবসময় যাত্রীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে। তাই রাজশাহী–খুলনা রুটের এই সম্ভাবনাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করবেন—এমন প্রত্যাশা সাধারণ যাত্রীদের।
সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারই হতে পারে উন্নত সেবার অন্যতম চাবিকাঠি। সেই বিবেচনায় রাজশাহী–খুলনা রুটে রাতের একটি নতুন ট্রেন সময়ের দাবি, যাত্রীদের ন্যায্য প্রত্যাশা এবং বাস্তবসম্মত একটি উদ্যোগ হতে পারে।
ছবি এবং তথ্য: Md Joynal Abedin ভাই