Hill Tours & Travels

Hill Tours & Travels Bandarban is a distract in South Eastern Bangladesh

06/11/2016

সুরাজের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ আথিয়া

বলিউড অভিনেতা সুরাজ পাঞ্চোলির জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আথিয়া শেঠি। তাই বলে মনে করার কোনো কারণ নেই তাঁরা প্রেম করছেন। আথিয়ার সঙ্গে সুরাজের বাড়তি খাতির থাকলে তাতে কপাল কুঁচকানোর কিছুই নেই। কারণ, এই দুজনের বলিউড অভিষেক হয়েছিল একই সঙ্গে। আথিয়ার জন্মদিনে বিশেষ শুভেচ্ছা তাঁর এই সহশিল্পী তাই জানাতেই পারেন।
শনিবার ছিল আথিয়ার ২৪তম জন্মদিন। বন্ধুর জন্মদিনে সুরাজ তাঁর টুইটারে আথিয়াকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন কার্টুন। ধন্যবাদ আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ার জন্য। অনেক ভালোবাসি।’
আদর করে আথিয়াকে কার্টুন বলে ডাকেন তাঁর প্রথম ছবির নায়ক। সুরাজ এই শুভেচ্ছাবার্তার সঙ্গে নিজেদের মজার একটি যুগল ছবিও প্রকাশ করেছেন।
২০১৫ সালে সালমান খান প্রযোজিত ‘হিরো’ ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন সুনীল শেঠি-কন্যা আথিয়া ও আরেক বলিউড অভিনেতা আদিত্য পাঞ্চোলির ছেলে সুরাজ।
আথিয়া শেঠি এখন শুটিং করছেন অর্জুন কাপুরের বিপরীতে ‘মুবারাকা’ ছবিতে। এই ছবিতে অনিল কাপুরও আছেন।

06/11/2016

হোঁচট খেল ম্যানচেস্টার সিটি

চ্যাম্পিয়নস লিগে আগের ম্যাচেই বার্সেলোনাকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সে ফর্ম টেনে আনতে পারল না পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। কাল ঘরের মাঠে সার্জিও আগুয়েরোর গোলে এগিয়ে গিয়েও মিডলসবরোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে সিটি। বুন্দেসলিগায় একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে বায়ার্ন মিউনিখকেও। নিজেদের মাঠে হফেনহেইমের সঙ্গে তাদের ম্যাচও শেষ হয়েছে ১-১ গোলে। লা লিগায় অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ অবশ্য ড্রও করতে পারেনি, রিয়াল সোসিয়েদাদের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে ডিয়েগো সিমিওনের দল।

06/11/2016

‘বিএমসি’তে বর্ণহীন শুধু রোনালদো!

ম্যাচের আগেই আলভারো মোরাতা পেলেন পুরস্কার। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে নিয়মিত স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা নেই, রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জিনেদিন জিদান তাই সুযোগ দিলেন মৌসুমের শুরু থেকে দুর্দান্ত খেলতে থাকা স্প্যানিশ স্ট্রাইকারকে। রিয়ালের বিখ্যাত ‘বিবিসি’ ত্রয়ীও তা-ই আজ হয়ে গেল ‘বিএমসি’—বেল, মোরাতা, ক্রিস্টিয়ানো।

তবে বদলে যাওয়া এই ত্রিরত্নের মধ্যে একজনই ম্যাচ শেষে আজ নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশ থাকবেন—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। লেগানেসের বিপক্ষে ঘরের মাঠে আজ জিদানের দল জিতেছে ৩-০ গোলে। তাতে ফরোয়ার্ড লাইনের অন্য দুই সঙ্গী গ্যারেথ বেল (দুই গোল) ও মোরাতা গোল পেলেও অনুজ্জ্বল আরেকটি দিন কাটল রিয়ালের সবচেয়ে বড় তারাটির।
এবার স্প্যানিশ লিগটা বেশ জমে উঠেছে। এখন পর্যন্ত লড়াইটা চার দলের। তাতে আজ জেতাটা রিয়ালের জন্য বেশ দরকার ছিল। গতকাল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ হেরেছে রিয়াল সোসিয়েদাদের মাঠে, আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে অন্য দুই শিরোপা প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও সেভিয়া। তার আগে লেগানেসের বিপক্ষে এই জয় দিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা রিয়াল নিজেদের এগিয়ে নিল আরেকটু। দুই থাকা বার্সার (১০ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট) চেয়ে এখন এক ম্যাচ বেশি খেলে পাঁচ পয়েন্ট এগিয়ে রোনালদোরা (১১ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট)।
তবু ম্যাচ শেষে জিদানের একটু যদি আক্ষেপ থাকে, সেটি রোনালদো। মৌসুমের শুরু থেকেই এবার অনেকটা অচেনা পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। এক ম্যাচে ভালো খেলছেন, তো পরের ম্যাচে অচেনা। যদিও লিগে আগের ম্যাচে আলাভেসের বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কিন্তু বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে ও আজ—টানা দুটি ম্যাচে আবার বর্ণহীন ৩১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। আকাশ-সমান উঁচুতে উড়তে অভ্যস্ত পাখিটিই এখন যেন ডানা ছাটা।
তবে রিয়ালের স্বস্তি, বেল উড়ছেন ডানা মেলে। চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে লেগিয়ার মাঠে ৫৭ সেকেন্ডেই গোল করেছিলেন। আজ ওয়েলশ ফরোয়ার্ডের পায়ে গোল এল একটি বেশি। ৩৮ মিনিটে প্রথমটি, বাঁ দিক থেকে ইসকোর দুর্দান্ত লব পাস এল তাঁর দিকে, ট্রেডমার্ক দৌড়ে লেগানেসের রক্ষণকে ছিটকে পেছনে ফেলে দেন বেল। এরপরের কাজটা তো তাঁর জন্য সহজ, গোলকিপারকে কাটিয়ে বলটাকে জালে ঠেলে দেওয়া।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই বেল করলেন নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটিও। এবারেরটি ফ্রি কিক থেকে। ভেসে আসা বলটি লেগানেস বক্সে ভিড়ের মধ্যে পড়ে, সবার আগে এসে সেটিকে জালে ঠেলে দেন বেল। রিয়াল তৃতীয় গোলটি পেল ৭৬ মিনিটে। নিজের সুযোগটা কাজে লাগালেন মোরাতা। চোট কাটিয়ে এই ম্যাচেই দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফেরা লুকা মডরিচের পাস পেয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার।
এই ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক বিরতিতে যাচ্ছে ক্লাব ফুটবল। রিয়াল সমর্থকেরা হয়তো আশা করছেন, বিরতি শেষে পুরোনো রোনালদোকেই পাবেন তাঁরা।

06/11/2016

সঠিক যত্ন চান ওয়ালশ মোস্তাফিজের

মোস্তাফিজুর রহমানের জন্য অধীর অপেক্ষায় সবাই। কবে তিনি ফিরবেন। আপাতত নিউজিল্যান্ড সফরের প্রাথমিক দলে আছেন। নিউজিল্যান্ড সফরকে পাখির চোখ করেই চলছে যাবতীয় প্রস্তুতি। কাঁধে অস্ত্রোপচারের পর এরই মধ্যে বোলিং করা শুরু করেছেন তিনি। তবে পুরো শক্তিতে নয়। বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ কাজ করছেন তাঁর সঙ্গে। বলেছেন, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে তাঁর যত্নটা যেন ঠিকমতো নেওয়া হয়।’
সুস্থ হয়ে উঠছেন বাংলাদেশের ‘কাটার-মাস্টার।’ তাঁর শারীরিক অবস্থার একটা বিবরণ দিয়েছেন ওয়ালশ, ‘এখনো পর্যন্ত যা উন্নতি, তাতে আমি সন্তুষ্ট। কাঁধে যদিও একটু জড়তা রয়ে গেছে, তবে এটি খুব বড় কিছু নয়। প্রতিটি দিনই তার কাঁধের অবস্থা বিশ্লেষণ করা হবে। আগামীকাল আবার তার বোলিং দেখব। তবে আমি মনে করি, সে ভালোভাবেই সুস্থ হয়ে উঠছে। যখন সে পুরো শক্তিতে বল করবে, তখনই সবকিছু বোঝা যাবে। তবে এই মুহূর্তে সে বোলিংটা কেবল শুরু করেছে। শক্তির ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ দিয়ে বোলিং করেছে সে। আগামীকাল খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কাল বল করলে সে পরপর দুই দিন বল করবে। তবে কাল অবশ্যই বোলিংয়ের পরিমাণটা খুব বেশি হবে না। এ মাসের ৯ অথবা ১১ তারিখে আমরা আবার পরীক্ষা করে দেখব, সে শারীরিকভাবে কেমন সুস্থ থাকে।’
ওয়ালশও জানেন দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মোস্তাফিজ। গুরুত্বের বিচারেই বাংলাদেশ দল চাইবে যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে ফেরাতে। তবে এ নিয়ে দল, কোচ, ফিজিও কেউই তাড়াহুড়ো করবেন না, ‘আমরা ওকে অবশ্যই খেলাতে চাইব। তবে খেলা নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো নেই। পুরো ফিটনেস ফিরে পাওয়ার পরই ওকে খেলাব আমরা। এই মুহূর্তে যেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেটি হলো মোস্তাফিজের পুনর্বাসনটা যেন ঠিকমতো হয়।’
নিউজিল্যান্ড সফরকে নিজের পরীক্ষাই মনে করেন ওয়ালশ, ‘ইংল্যান্ড সিরিজে ফাস্ট বোলারদের তেমন একটা ব্যবহার করা হয়নি। নিউজিল্যান্ড সফর তাই পরীক্ষারই। বাংলাদেশে প্রচুর ফাস্ট বোলিং প্রতিভা আছে, আমি এই প্রতিভাদের নিয়ে কাজ করার জন্য মুখিয়ে আছি।’

01/11/2016

সিরিজ শেষে উত্সবের রাত


অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সতীর্থ ছিলেন তাঁরা দুজন। মেহেদী হাসান মিরাজের অধিনায়কত্বেই খেলেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। দুজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুও। মোস্তাফিজ বিশ্ব ক্রিকেটে ঝড় তুলেছেন আগেই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে মিরাজও আবির্ভূত হন এক বিস্ময় হয়ে। কাল দুই বালক-বীরের দেখা বিসিবির একাডেমি ভবনে। বাড়িতে যাওয়ার আগে মিরাজ গিয়েছিলেন প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে। তিনিই প্রথম আলোর আলোকচিত্রী শামসুল হককে অনুরোধ করলেন দুজনের একটা ছবি তুলে দিতেউত্সবের রাত বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেকই এসেছে। কিন্তু এমন উত্সবের রাত আসেনি। যে রাতে কোচ-খেলোয়াড়-কর্মকর্তা—সবাই মিশে গেলেন আনন্দস্রোতে। এই উত্সব মাঠ ও মাঠের বাইরের সাফল্য উদ্যাপনে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি টেস্ট জয় একই সঙ্গে বহু বিজয় দেখাল বাংলাদেশকে। টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ডকে প্রথম হারানোর স্বাদ তো আছেই, বাংলাদেশকে ক্রিকেটের জন্য নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণের চ্যালেঞ্জও কি জেতা হয়ে গেল না তাতে! নিরাপত্তাশঙ্কার কারণে ইংল্যান্ড আসবে না আসবে না করে শেষ পর্যন্ত এল। তিন ওয়ানডে ও দুই টেস্টের সিরিজ খেলে কাল দুপুরে দলের বেশির ভাগ সদস্য চলে যাবেন ভারতে। বাকিরা ফিরবেন দেশে। মাঠ ও মাঠের বাইরে—সব দিক দিয়েই তাই সফল একটা সিরিজ শেষ করল বাংলাদেশ।
তো এমন সাফল্যের উদ্‌যাপন তো চাই! পরশু রাতে সে কারণেই ‘পার্টি’ জমে ওঠে র‍্যাডিসন হোটেলে। পার্টি বলতে পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশের জন্মদিন ও টেস্ট জয় উপলক্ষে দুটি বিশাল কেক কাটা, সবাই একসঙ্গে নৈশভোজ করা। রাত নয়টায় শুরু হয়ে পার্টি চলেছে মধ্যরাত পর্যন্ত। এরই মধ্যে রাত পৌনে ১১টার দিকে সিঙ্গাপুর থেকে পৌঁছে উৎসবে যোগ দেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। কোচ-খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, সহ-অধিনায়ক তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন তিনি।
বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরীও সে সময় সেখানে ছিলেন। মুঠোফোনে তিনিই জানালেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। খেলোয়াড়দের একদিন গণভবনে আমন্ত্রণ জানাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেওয়ারও পরিকল্পনা আছে বিসিবির। ৭ নভেম্বর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেই ২-৩ হাজার মানুষের ‘মেজবান’ হওয়ার কথা সে উপলক্ষে। আমন্ত্রণ জানানো হবে ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে।
এ রকম বড় সাফল্যে খেলোয়াড়দের দিক থেকে বোনাসের একটা দাবি ওঠেই। এবারও ব্যতিক্রম নয়। তবে এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বোর্ড। ৫ নভেম্বর পরিচালনা পর্ষদের সভা। সেখানে একটা সিদ্ধান্ত হলেও হতে পারে। তবে ম্যাচ জিতলে খেলোয়াড়েরা এমনিতেই একটা উইনিং বোনাস পান এবং সেটা এবারও পাবেন।
পরশু রাতটা হোটেলে কাটিয়ে কাল সকাল থেকেই খেলোয়াড়েরা যে যাঁর ঠিকানায় চলে যেতে থাকেন। বিপিএলের আগে এই দু-এক দিন ছুটিতে থাকবেন তাঁরা। বিদেশি কোচদের অনেকেও ফিরেছেন নিজেদের বাসায়। প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেসহ কয়েকজন ২ নভেম্বর থেকে ছুটিতে যাবেন। তবে মোস্তাফিজুর রহমানসহ নতুন কয়েকজন পেস বোলারকে নিয়ে কোর্টনি ওয়ালশ আরও কয়েকটা দিন ঢাকায় থাকবেন বলে জানা গেছে।
পরশু রাত থেকেই বন্ধুবান্ধব আর পরিচিতজনদের অভিনন্দনে সিক্ত হচ্ছেন ইমরুল কায়েস। কাল বাসায় ফেরার সেই জোয়ার আরও বাড়ল, ‘বোঝেনই তো...এটা অনেক বড় অর্জন। সবাই খুব এক্সাইটেড...আমরাও। যেকোনো বিচারে এটাই তো এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অর্জন। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
মাঠের সাফল্যের সঙ্গে বিসিবির আনন্দ মাঠের বাইরের সাফল্যেও। নিরাপত্তাশঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করে শেষ পর্যন্ত ভালোভাবেই শেষ হয়েছে ইংল্যান্ড সিরিজ। গত সপ্তাহে ঢাকা ঘুরে যাওয়া ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শন ক্যারলও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ড সিরিজে নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখে। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কথায় তাই স্বস্তি, ‘আমাদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এই সিরিজ এবং আমার মনে হয় আমরা সেই চ্যালেঞ্জ জিতেছি। সিরিজ সফল করতে আমরা সম্ভাব্য সব রকম ব্যবস্থাই নিয়েছিলাম।’

01/11/2016

হাবিবুল সেই স্মৃতি এবার ভুলতে পারবেন !

২০০৫ সালের ইংল্যান্ড সফরের কথা বললে প্রথমে কী মনে পড়ে?
হাবিবুল বাশার: সেবার আমরা প্রথম লর্ডসে খেলি। এটাই প্রথম মনে পড়ে।
এমন নয় যে প্রশ্নের ইঙ্গিতটা হাবিবুল বোঝেননি। তবু এড়িয়ে যেতে চাইলেন, কারণ বিষাদের স্মৃতি কেউ মনে রাখতে চায় না। জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে ওই সফরেই যে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে তাঁকে।
প্রথমে লর্ডস ও চেস্টার-লি-স্ট্রিটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ, পরে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তিন জাতি ন্যাটওয়েস্ট ওয়ানডে সিরিজ—এই ছিল সেবারের ইংল্যান্ড সফর। টেস্ট খেলতে ওটাই ছিল বাংলাদেশ দলের প্রথম ইংল্যান্ডে যাওয়া।
কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় ন্যাটওয়েস্ট সিরিজটাকে এখনো স্মরণীয় করে রেখেছে। কিন্তু ক্রিকেটের জন্মভূমিতে গিয়ে ক্রিকেট নিয়ে বিরূপ অভিজ্ঞতা যে তার আগেই হয়ে যায় বাংলাদেশ দলের! দুই টেস্টেই লজ্জাজনক হার। তিন দিন পুরো খেলা হয়নি কোনোটিতেই। দ্বিতীয় টেস্টে তো তৃতীয় দিনে খেলা হলো মাত্র ২৬ বল! ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) নিয়ম অনুযায়ী ওই টেস্টের পাঁচ দিনের টিকিট কাটা দর্শকদের পুরো টাকাই ফেরত দিতে হয়েছিল। লর্ডসেও ফেরত দিতে হয়েছিল ৫০ শতাংশ দাম।
বাংলাদেশ টেস্ট কেন খেলে—সুযোগ পেয়ে সেই প্রশ্নও তুলে দিয়েছিল ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম। সঙ্গে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ তো আছেই। টেস্ট সিরিজের সংবাদ সম্মেলনে যাওয়াটা তাই বিব্রতকরই হয়ে দাঁড়িয়েছিল হাবিবুল বাশারের জন্য। তাঁকে প্রশ্নের তির থেকে বাঁচাতে কোচ ডেভ হোয়াটমোরই বেশি মুখোমুখি হতেন সংবাদমাধ্যমের।
এ রকম একটা সফরের স্মৃতি হাবিবুলের ভুলে যেতে চাওয়াই স্বাভাবিক। ক্রিকেট-তীর্থ লর্ডসে খেলেছেন—টেস্ট সিরিজ থেকে সেই স্মৃতিটাই শুধু মনে রাখতে চান তিনি। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের সমালোচনার জবাবে লর্ডসেই একটা কথা বলে এসেছিলেন বর্তমানে বিসিবির এই নির্বাচক, ‘অধিনায়ক হিসেবে আমার সবচেয়ে বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছিল ওই সিরিজেই। আমাদের নিয়ে ওরা অনেক কথাই বলেছিল। সব এখন মনে নেই। তবে আমি বলেছিলাম, এরপর যখন বাংলাদেশ দল লর্ডসে খেলবে, পরিস্থিতি এ রকম থাকবে না। দিন বদলাবে।’
২০১০ সালের ইংল্যান্ড সফরে সাবেক অধিনায়কের কথা কিছুটা হলেও প্রমাণ করতে পেরেছিলেন তাঁর অনুজরা। ৮ উইকেটে হারলেও লর্ডস টেস্টটা সেবার পঞ্চম দিনে নিয়েছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সামর্থ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছিল তামিম ইকবালের সেঞ্চুরি আর শাহাদাত হোসেনের ৫ উইকেট। অনার্স বোর্ডে নাম উঠেছিল দুজনেরই।
মাইকেল ভনের নেতৃত্বে ২০০৫ সালের ইংল্যান্ড দলটা ছিল দুর্দান্ত। তার ওপর ওই কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল না ক্রিকেটারদের। আর টেস্ট দল হিসেবে তো তখনো বাংলাদেশ নতুনই। হাবিবুলের দৃষ্টিতে বিপর্যয়ের কারণ ছিল এসবই, ‘ওই সফরের ওয়ানডেতে আমরা ভালো খেলেছিলাম। কিন্তু টেস্টে বাজে ফলাফলের বড় কারণ ছিল কন্ডিশন। তা ছাড়া ইংল্যান্ডের ওই সময়ের দলটাও ছিল বেশ শক্তিশালী।’
দুই দলের সেই আকাশ-পাতাল ব্যবধান যে এখন বেশ কমে এসেছে, এবারের সিরিজই সেটিরই প্রমাণ। তবে ইংল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডার ইয়ান বোথাম আবার তা মানেন না। বাংলাদেশের জয়ের পেছনে টার্নিং উইকেটের ভূমিকাই নাকি বেশি দেখছেন তিনি। উইকেট বানানো হয়েছে বাংলাদেশ দলের শক্তিমত্তার দিকটা চিন্তা করে। বাংলাদেশ দলের দিকে তাই বিদেশের মাটিতে ভালো কিছু করে দেখানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বোথাম।
তাঁর কথার জবাব হাবিবুল সরাসরি না দিলেও বলেছেন, ‘কে কী বলল না বলল, আমি সেসব নিয়ে ভাবতে চাই না। কারণ এসবের জবাব আমরা আমাদের খেলা দিয়েই দিচ্ছি।’ উইকেট নিয়ে বোথামের অমন মন্তব্যও গ্রহণযোগ্য নয় সাবেক এই অধিনায়কের কাছে, ‘আমরা যখন অন্য দেশে খেলতে যাই, তারা কি আমাদের কথা চিন্তা করে উইকেট বানায় নাকি তাদের শক্তিমত্তার দিকটাই ভাবে? ফাস্ট বোলারদের জন্য সুবিধা থাকলে কোনো সমস্যা নেই, আর স্পিন উইকেট হলেই সমস্যা! পৃথিবীর সব দেশেই স্বাগতিক দল নিজেদের শক্তিমত্তার দিকটা ভেবে উইকেট বানায়, এটা নতুন কিছু নয়।’
বোথামকে জবাব দিতে পারছেন যখন, এবারের সিরিজের পর হাবিবুল নিশ্চয়ই ভুলতে পারবেন ২০০৫-এর দুঃসহ স্মৃতিটাও।

01/11/2016

বন্ধু মোস্তাফিজের পরামর্শ বিফলে গেল মিরা
খুলনায় আসার আগে মেহেদী হাসান মিরাজকে মোস্তাফিজুর রহমানের সাবধানী বার্তা, ‘গতবার আমি বুঝেছিলাম। এবার তোর পালা। বাড়ি যা, মানুষের ভিড় কাকে বলে বুঝবি!’
বন্ধু হলে কী হবে, এদিক দিয়ে মোস্তাফিজ তো ঢের সিনিয়র। মানুষের এই ভালোবাসার মধুর যন্ত্রণা এড়ানোর সাবধানী টিপসও দিয়েছিলেন গোটাকয়।

কাল দুপুরে বিসিবি একাডেমি ভবনে এসেছিলেন মিরাজ। সেখানেই মোস্তাফিজের সঙ্গে তাঁর দেখা। দুজন এমনিতে ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দীর্ঘদিন বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলেছেন একসঙ্গে। দুজনের একটা আশ্চর্য মিল—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেই উপহার দিয়েছেন বিস্ময়।
মোস্তাফিজ যখন গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ শেষে সাতক্ষীরায় ফিরলেন, হুলুস্থুল কাণ্ড হয়েছিল। যশোর বিমানবন্দর থেকে তাঁর কালীগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রাম পর্যন্ত তাঁকে এক পলক দেখতে মানুষের ভিড়।
মিরাজের ক্ষেত্রে কাল অতটা লোকারণ্য হয়নি বটে, তবু এত গোপনীয়তার পরও কী করে যেন সবাই টের পেয়ে গেল। ভালোবাসার বুঝি অদ্ভুত এক তরঙ্গ আছে।
মিরাজ চাননি তাঁকে নিয়ে বেশি মাতামাতি হোক। কদিন পর আবার ক্রিকেটের ব্যস্ততা। বিপিএলের আগে মনটা সতেজ, চনমনে করতে মাত্র এক দিনের জন্য খুলনার খালিশপুরের বাসায় ঘুরে আসতে চেয়েছেন। কাল সকালে তাঁর কাছে রওনা হওয়ার সময়টা জানতেই অনুরোধ করেছিলেন, ‘বাড়ি যাচ্ছি, কাউকে বলবেন না প্লিজ।’
সংক্ষিপ্ত সফরটা নিরিবিলি ও নিজের মতো করেই কাটাতে চেয়েছিলেন মিরাজ। কিন্তু তা কি আর হয়! ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টে রেকর্ড ১৯ উইকেট পেয়েছেন। বিস্ময়-বালকের প্রতি মানুষের তুমুল আগ্রহ থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। হলোও তাই। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে খুলনার খালিশপুরের নতুন রাস্তার মোড়—মিরাজকে এগোতে হয়েছে মানুষের ভিড় ঠেলেই। কেউ জড়িয়ে ধরে, কেউ সেলফি তোলে, কেউ এক পলক দেখেই খুশি। এ কান–ও কান হয়ে খুলনায় ছড়িয়ে পড়ে মিরাজ এসেছেন। রাতে তাঁদের বাড়ির ছোট্ট উঠানের মতো জায়গাটায় লোকে লোকারণ্য।

মিরাজের বাবা জালাল তালুকদার মানুষকে আতিথেয়তা দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারেন না। ছোট বোন রুমানা আক্তার বিস্ময়ভরা চোখে তাকিয়ে দেখেন, তাঁর ভাইকে নিয়ে সবার কী মাতামাতি, কী হইচই! যশোর বিমানবন্দরে এই দুজনই গিয়েছিলেন মিরাজকে বরণ করে নিতে। সেখানে আরেক অপার্থিব দৃশ্য। দুজনই তাঁকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কান্না। মিরাজ যেন অপ্রস্তুতই ছিলেন অদ্ভুত সুন্দর এই দৃশ্যের জন্য। মাঠের পারফরম্যান্সে যেমন তাঁর পরিপক্বতার ছাপ, এখানেও তাই। বাবা-বোনকে সামলে দ্রুত গাড়িতে উঠে পড়েন।
মিরাজের জন্য ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরাটা নিশ্চয়ই নতুন নয়। গত ফেব্রুয়ারিতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট শেষে যখন খুলনায় ফিরলেন, তখনো বেশ হইচই হয়েছিল তাঁকে নিয়ে। তবে এবারের তুলনায় সেটির সঙ্গে কিছুতেই নয়। আসার খবর তেমন কাউকে জানাননি, তবু মানুষের ভিড় লেগে আছে বাড়িতে। অবশ্য এই ভিড়ভাট্টা মোটেও যন্ত্রণা মনে করছেন না মিরাজ, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে ফেরার পরও বেশ ভিড় হয়েছিল। তবে এবার আগেরগুলো ছাড়িয়ে গেছে। জাতীয় দলে খেলার গুরুত্বই আলাদা। বাংলাদেশে ভালো খেলেছে, ইংল্যান্ডকে হারিয়েছি বলেই মানুষের এত আগ্রহ।’
রাত প্রায় ১১টা, মিরাজের বাড়িতে মানুষ আসতেই থাকে। এই সময় হঠাৎ লোডশেডিং। অন্ধকারে ডুবে যায় মিরাজদের দুই রুমের বাড়িটা। অগত্যা তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিতে হয়। আজ নিশ্চিত বিরাট হ্যাপাই পোহাতে হবে তাঁকে। অনেক চেষ্টা করেও তাঁর বাড়ি ফেরার খবরটা গোপন রাখা যায়নি। মোস্তাফিজের ভাষায়, ‘মানুষের ভিড় কাকে বলে’ মিরাজ বুঝবেন!

অকপট, স্বার্থহীন যে ভালোবাসা, তাকে কি বাঁধ দিয়ে রোখা যায়?

01/11/2016

কি রহস্যই হয়ে থাকবে সাকিবের স্যালুট!

সারা দেশ এখন স্যালুট দিচ্ছে। বাংলাদেশে থাকা বিদেশিরাও পিছিয়ে নেই। স্বয়ং মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের স্যালুট দেওয়া ছবি শোভা পাচ্ছে মার্কিন দূতাবাসের ওয়েবসাইটে। অফিস, দোকান, রাস্তা-ঘাট—সবখানে শুধু স্যালুট আর স্যালুট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকও সয়লাব স্যালুটের ছবিতে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনে বেন স্টোকসকে বোল্ড করার পর স্যালুট দিয়ে সেটা উদ্‌যাপন করেছিলেন সাকিব আল হাসান। এরপর থেকেই স্যালুট ‘ভাইরাল’ হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশের মানুষের মধ্যে। কিন্তু কেউ কি জানেন, সাকিব সেদিন স্যালুটটা আসলে কাকে দিয়েছিলেন? কেনই–বা দিয়েছিলেন?
মজার ব্যাপার হলো, এর উত্তর নাকি সাকিবের কাছেও নেই! প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎ​কারে আজ সেটাই তো দাবি করলেন এই অলরাউন্ডার, ‘আমি নিজেও জানি না কেন স্যালুট দিয়েছি। আমার কাছেও এর উত্তর নেই।’
উত্তর খুঁজে পেতে সাকিবকে একটু সাহায্য করা হলো। পরশু টেস্ট শেষে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের অনুমান ছিল, উইকেট পাওয়ার উদ্‌যাপনে বাড়াবাড়ি কিছু না করতে বলেছিলেন আম্পায়ার। স্টোকসকে আউট করার পর হয়তো সে কারণেই স্যালুট দিয়ে সাকিবের অমন নীরব উদ্‌যাপন।
কিন্তু সে রাতেই সাকিবের স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, বাসায় নাকি সাকিব তাঁকে এভাবেই স্যালুট করেন। নিশ্চয়ই মজা করেই বলা। ফেসবুক থেকে সেটা নিয়ে ভারতীয় পত্রপত্রিকায়ও ছড়িয়ে পড়েছে সাকিবের স্যালুট-সমাচার। তবে কি স্ত্রীর উদ্দেশেই ওই স্যালুট?
এত ‘ক্লু’ দেওয়ার পরও মুখ খোলেননি সাকিব। স্যালুট কেন দিলেন প্রশ্নে বারবার একই উত্তর, ‘আমি জানি না।’
সাকিবের বিখ্যাত হয়ে যাওয়া স্যালুটের রহস্য কি গোপনই থেকে যাবে তাহলে?

01/11/2016

অ্যাকশন বেশি: ওবায়দুল কাদের ভাষণ কম

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, এখন ভাষণ কম, অ্যাকশন বেশি। এই অ্যাকশন বলতে ইতিবাচক অ্যাকশন বোঝানো হচ্ছে, নেতিবাচক অ্যাকশন নয়।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সুসময়ে অনেকে সুন্দর সুন্দর স্লোগান দেন, গলা ফাটিয়ে বক্তব্য দেন। সভাস্থল ফুলের মালায় ভরে যায়। সুসময়ে বসন্তের কোকিল অনেক। দুঃসময়ে হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও অনেককে খুঁজে পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, দুঃসময় এলে চোরাইপথে অনেকে পালিয়ে যায়। তিনি নেতা-কর্মীদের জিজ্ঞাসা করেন, এই কর্মী দিয়ে কি ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে? তখন সমস্বরে নেতা-কর্মীরা ‘না’ ‘না’ বলে ওঠেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর, ২১ আগস্ট একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা। ৩ নভেম্বর এই হত্যাকাণ্ড হয় কারাগারের অভ্যন্তরে। ৩ নভেম্বর জেলহত্যার লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করে দেওয়ার সুগভীর চক্রান্ত। একটা নীলনকশা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকার শক্তিশালী আর আওয়ামী লীগ দুর্বল হলে, দুর্বল আওয়ামী লীগ সরকারের মধ্যে হারিয়ে যাবে। সেটা আওয়ামী লীগের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। দলের মধ্যে সরকার হারিয়ে যাবে, সরকারের মধ্যে দল হারাবে না। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’
পরবর্তী নির্বাচনের জন্য নেতা-কর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘পরবর্তী নির্বাচনের আর দুই বছর আছে। প্রস্তুতি আমরা শুরু করেছি। এখন নেতাদের খুশি করার দরকার নেই। খুশি করতে হবে দেশের জনগণকে।’
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, জনপ্রতিনিধি হয়েও যাঁদের পা অহংকারে মাটিতে পড়ে না, তাঁরা শুদ্ধ হয়ে যান, সংশোধন হোন। যাঁরা খারাপ আচরণ করেছেন; তিনি যে এলাকার, সেই এলাকার মানুষের কাছে ক্ষমা চান।
কাদের আরও বলেন, ‘খারাপ আচরণের জন্য শাস্তি পেতে হবে। নিয়ম ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে কোনো আপস নেই। আমরা আমাদের এত অর্জনকে ধূলিসাৎ করতে পারি না।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, কেন্দ্রীয় সদস্য আমিনুল আলম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।

27/10/2016

তেজস্ক্রিয় বর্জ্য নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় জ্বালানি বর্জ্য (স্পেন্ট ফুয়েল) রাশিয়ার ফেরত নেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সরকার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। কারণ, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় জ্বালানি বর্জ্য খুবই বিপজ্জনক। এর সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা একটি উচ্চমাত্রার বিশেষায়িত বিষয়। এটা করার সামর্থ্য বাংলাদেশের নেই।

যদিও ২০১১ সালে রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) তেজস্ক্রিয় জ্বালানি বর্জ্য ফেরত নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। তবে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর সই হওয়া চূড়ান্ত চুক্তিতে (জেনারেল কন্ট্রাক্ট) বিষয়টি সেভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয় বলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে। বৈঠকের প্রথম পর্বে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভার একটি সূত্র প্রথম আলোকে বলে, গত রোববার সকালে বৈঠকের প্রথম পর্বে রূপপুর ছাড়াও সরকারের গৃহীত ও বড় প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন-প্রক্রিয়া কীভাবে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করা যায়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ও সাবেক অতিরিক্ত সচিবদের মতামত নেওয়া হয়। দুপুরে এই পর্ব শেষ হওয়ার পর রূপপুর প্রকল্পের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। এই কাজে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব রফিকুল ইসলামের সহায়তা নেওয়া হয়। সেখানে প্রকল্পের শুরুর পর্যায়ে রাশিয়ার সঙ্গে কী কী আলোচনা হয়েছিল, সে আলোচনার বিষয়বস্তু কোথায় লিপিবদ্ধ আছে, সে বিষয়ে সাবেক সচিবের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, মন্ত্রণালয়ের বর্তমান কোনো কর্মকর্তা কিংবা রূপপুর প্রকল্পের কোনো কর্মকর্তাকে সেখানে ডাকা হয়নি। গত রোববার সন্ধ্যা ছয়টায় এই পর্যালোচনা সভা শেষ হয়। সেখানে প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে রাশিয়ার সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনা, সিদ্ধান্ত ও তার বাস্তবায়ন সম্পর্কে একটি ‘পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন’ তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, সরকারের নীতিনির্ধারক মহলকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে অবহিত করার জন্য এটি করা হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, তেজস্ক্রিয় জ্বালানি বর্জ্য ফেরত নেওয়ার বিষয়ে সাধারণ চুক্তির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, আলাদা একটি চুক্তিতে উভয় পক্ষ যেসব শর্তে একমত হবে, সেই অনুযায়ী তেজস্ক্রিয় জ্বালানি বর্জ্য ফেরত নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। রাশিয়ার সঙ্গে আলাদা সেই চুক্তির খসড়া তৈরি হয়েছে এবং সেটি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। সেই আলোচনায় বাংলাদেশ তার আগের অবস্থান বজায় রাখলেও রাশিয়ার অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। রাশিয়ার বর্তমান অবস্থান হচ্ছে তেজস্ক্রিয় জ্বালানি বর্জ্য পরিবহনযোগ্য হওয়ার পর রাশিয়া তা নিয়ে পরিশোধন করবে। এরপর তা বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে এবং তারপর থেকে তা বাংলাদেশকেই সংরক্ষণ করতে হবে।

অপরদিকে সরকার চাইছে মূল চুক্তিতে যেভাবেই উল্লেখ করা হোক না কেন, আলাদা চুক্তিটিতে যেন তেজস্ক্রিয় জ্বালানি বর্জ্য রাশিয়ার ফেরত নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লিখিত হয়। অবশ্য সে ক্ষেত্রেও পারমাণবিক চুল্লি থেকে বর্জ্য অপসারণের পর ৩০০ দিন বাংলাদেশকেই সংরক্ষণ করতে হবে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় ইউরেনিয়াম-২৩৫। পারমাণবিক চুল্লিতে এই জ্বালানি শতভাগ ব্যবহৃত হয় না। যেটুকু অবশিষ্ট থাকে, সেটাকেই বলে তেজস্ক্রিয় জ্বালানি বর্জ্য। এটি উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তা ছড়ায়। তাই পারমাণবিক চুল্লি থেকে তেজস্ক্রিয় জ্বালানি বর্জ্য অপসারণ করার পর তা বিশেষ ব্যবস্থায় ৩০০ দিন সংরক্ষণ করতে হয়। এরপর তা পরিশোধন করে পুনরায় কিছু পরিমাণে ব্যবহার করা যায়। ব্যবহারের পর আবার যে বর্জ্য তৈরি হয়, তা-ও দীর্ঘকাল ধরে বিশেষ ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করতে হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই সংরক্ষণ ও পরিশোধনব্যবস্থা গড়ে তোলা বিপুল ব্যয়সাপেক্ষ ও উচ্চতর প্রযুক্তিনির্ভর। তেজস্ক্রিয় জ্বালানি বর্জ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা না গেলে তা থেকে ছড়িয়ে পড়া তেজস্ক্রিয় বিকিরণ অনেক বছর ধরে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য ক্ষতির কারণ হয়।

জানতে চাইলে পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আবদুল মতিন প্রথম আলোকে বলেন, তেজস্ক্রিয় জ্বালানি বর্জ্য অত্যন্ত সুরক্ষিত ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করতে হয়। এ জন্য এমন একটি বিচ্ছিন্ন স্থান প্রয়োজন হয়, যেখানে কখনো কোনোভাবে পানি যাবে না। সাধারণত মাটির অনেক নিচে জলাধার তৈরি করে সেখানে শক্তিশালী কংক্রিট দিয়ে ঘিরে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য সংরক্ষণ করতে হয়। অনেক বছর ধরে তার ধারেকাছে কোনো মানুষের আনাগোনা চলে না। যদিও একসময় এই জ্বালানি পুনরায় ব্যবহার করা যায়, কিন্তু এর সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা আলাদা একটি বিশেষায়িত স্থাপনা নির্মাণ ও সংরক্ষণ করার মতো। এতে যেমন ব্যয় আছে, তেমনি আছে ঝুঁকি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে তেজস্ক্রিয় জ্বালানি বর্জ্য ফেরত নেওয়ার বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থান পরিবর্তন করানোর। এই চেষ্টা সফল হলে তেজস্ক্রিয় জ্বালানি বর্জ্য সরবরাহের বিষয়ে যে চুক্তি হবে, সেখানে তা অন্তর্ভুক্ত হবে। অন্যথায় বাংলাদেশ বড় রকমের সমস্যায় পড়বে।

১ লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের এই প্রকল্প ২০০৯ সালে গ্রহণ করা হয়। রাশিয়ার প্রযুক্তি এবং ঋণ সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে এটির নির্মাণ-পর্ব শুরু হওয়ার কথা।

এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫০ বছর ধরে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। কেন্দ্রের ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটটি ২০২৩ সালে এবং দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য যথাক্রমে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের অক্টোবরে।

দক্ষ জনবল তৈরির সুপারিশ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল তৈরির সুপারিশ করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গতকাল বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য ইমরান আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হবে রূপপুর। এটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ জনবল দরকার। সে জন্য নিয়োগ পাওয়া জনবলের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁদের বেতন-ভাতা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে। রাশিয়া থেকে যাঁরা প্রশিক্ষণ নিয়ে আসবেন, তাঁরা এসেই যদি রূপপুরে কাজ শুরু করেন, তাতে ঝুঁকি থেকে যাবে। তাঁরা যেখানে প্রশিক্ষণ নেবেন বা নিচ্ছেন, সেখানেই কোনো প্রকল্পে কাজ করে এলে অভিজ্ঞতা বাড়বে এবং ঝুঁকি কমে যাবে।

কমিটির বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, প্রকল্প ব্যবস্থাপনার কাজে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য ইতিমধ্যে ভারতে ৫৫ জন কর্মকর্তার ‘ফাউন্ডেশন কোর্স অন নিউক্লিয়ার এনার্জি’-বিষয়ক প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। এ বছরের ডিসেম্বর নাগাদ আরও ৩০-৩৫ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হবে। রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ২০১৬ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে ২ হাজার ৫৩৫ জনের জনবল প্রয়োজন হবে। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৪২৪ জনকে রাশিয়ায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা ও নিরাপত্তার জন্য ৪৭ জন শিক্ষার্থীকে রাশিয়ায় নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

কমিটির সভাপতি আ ফ ম রুহুল হকের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ইমরান আহমেদ, আয়েন উদ্দিন ও নুরুল ইসলাম মিলন অংশ নেন। বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান।

27/10/2016

ঘষিয়াখালী চ্যানেল বন্ধ হলেও পরিবেশবিদদের টুঁ শব্দ শুনিনি’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবেশবিদদের সমালোচনা করে বলেছেন, মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য পরিবেশবিদেরা কোনো টুঁ শব্দ করেননি।
প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল উন্মুক্তকরণ ও ১১টি ড্রেজার কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে এই সমালোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের পর থেকে প্রায় দীর্ঘ ২১ বছর মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌ চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে ছিল। যে কারণে বিকল্প চ্যানেল হিসেবে সুন্দরবনের শ্যালা নদী দিয়ে নৌযান চলাচলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে যায়। কিন্তু এ নিয়ে পরিবেশবিদদের টুঁ শব্দটি করতেও কোনো দিন শুনলাম না।’ তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনের ভেতরের সমস্যা রেখে ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রামপাল প্রকল্প নিয়ে তাঁরা কেঁদে মরছেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি এবং পরবর্তী শাসনামলে চ্যানেলের ২৩৪টি প্রবেশমুখকে ইজারা দিয়ে সেখানে চিংড়ি চাষের প্রকল্প গড়ে তুলে পুরো চ্যানেলটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ঘষিয়াখালী চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে আমাদের সুন্দরবনের শ্যালা নদী দিয়ে জাহাজ চলাচল করত, সেটা কিন্তু ডলফিনের একটা জায়গা। ওই নদীতেই কিন্তু আমাদের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার পানি খেতে আসে। ওই জায়গাটায় বন্য প্রাণীর একটি অভয়াশ্রম ছিল।’ তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে ২১ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল, এই চ্যানেলটি ড্রেজিং করে চালু রাখার পদক্ষেপ তারা নেয়নি; উল্টো অন্য কাজে ব্যবহার করে এই পথ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে প্রায় ৮৪ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিয়ে নৌযানগুলোকে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে চলাচল করতে হতো। এটা সুন্দরবনের জন্যওÿক্ষতিকর।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুন্দরবন থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করার জন্য আমাদের পরিবেশবিদেরা কেঁদে মরেন, কিন্তু এই ঘষিয়াখালী যে বন্ধ করে দেওয়া হলো, এর সঙ্গে ২৩৪টি সংযোগ খালের মুখ বন্ধ করে যে চিংড়ি চাষ করা হলো; চিংড়ি চাষ করতে গিয়ে অনেক গাছপালাও সেখানে কেটে চিংড়ির ঘের করা হয়েছে—এটা নিয়ে কিন্তু আমাদের পরিবেশবিদদের কোনো টুঁ শব্দ করতে কোনো দিন শুনিনি বা সুন্দরবনের এসব নিয়ে তাঁদের দুশ্চিন্তা করতেও কোনো দিন দেখিনি। অথচ এটা ছিল একেবারে সুন্দরবনের ভেতরের ঘটনা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাই প্রতিবছর এখানে ড্রেজার উপস্থিত থাকবে। যখন থেকে শীত শুরু হবে, তখন থেকেই এই ড্রেজারগুলো নিচে চলে যাবে এবং মাটি কেটে কেটে ওপরে আনবে। প্রতিবছর প্রয়োজনীয় ড্রেজিং করে এই চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষা করে চ্যানেলটিকে যেন উন্মুক্ত রাখা যায়, সেই চেষ্টা করতে হবে। তাহলে আমাদের এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সবকিছু আরও গতিশীল হবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, গণমাধ্যম উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. আবুল কালাম আজাদ ভিডিও কনফারেন্স পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলটির ওপর নির্মিত একটি ভিডিও চিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

27/10/2016

সুশান্ত পাল ওএসডি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ফেসবুকে অশোভন মন্তব্য ও কটূক্তি করায় কাস্টমসের সহকারী কমিশনার সুশান্ত পালকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আজ বৃহস্পতিবার এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে সুশান্তকে মানসিক চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কটূক্তির করার কারণে একজন ছাত্র শাহবাগ থানায় সুশান্তের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা করেন। মামলা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

শুল্ক, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান আজ রাত সাড়ে আটটার দিকে ফেসবুকে তাঁর স্ট্যাটাসে বলেন, সুশান্তকে ওএসডি করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁকে চাকরিচ্যুতও করা হতে পারে। তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের ঐতিহ্য ও গৌরব। তাঁর মন্তব্য এই প্রতিষ্ঠানকে অবমাননা করেছে। এনবিআর সুশাসনের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। বর্তমানে সুশান্তকে রংপুরে সংযুক্ত করা হয়েছে। আরও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

মইনুল খান বলেন, ‘আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের একটি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর এনবিআরকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধরনের মন্তব্য করা যায় না। আশা করি, সুশান্তের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থায় ছাত্রদের ক্ষোভ প্রশমিত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবার কাছে অত্যন্ত আবেগ ও সম্মানের জায়গা।’

Address

Chittagong
Rangamati
4500

Telephone

+8801553604400

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hill Tours & Travels posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share