TV-TC lover

TV-TC lover Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from TV-TC lover, Travel and transport, This page can be geared towards traveler, vloger, Puran Bogra.

01/06/2026

ফেরোমোন—সম্পর্ককে অদ্ভুতভাবে প্রভাবিত করে যে সংকেত
অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না কেন কোনো একজন ব‍্যক্তি আশপাশে থাকলেই ভালো লাগে। কেন কারও উপস্থিতিতে স্বস্তি আসে বা কেন কারও সঙ্গে অদ্ভুত এক ‘কেমিস্ট্রি’ অনুভূত হয়। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পেছনে যে প্রভাবকটি গুরুত্বপূর্ণ কলকাঠি নাড়ে, তা হলো ফেরোমোন। এটি শরীরের নিঃশব্দ রাসায়নিক সংকেত, যা অবচেতনভাবে আমাদের সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে।

ফেরোমোন কী?

ফেরোমোন এমন এক ধরনের রাসায়নিক সংকেত, যা একই প্রজাতির অন্য সদস্যের আচরণ, অনুভূতি বা প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। প্রাণীদের ক্ষেত্রে এটি স্পষ্টভাবে দেখা যায়, মানুষের ক্ষেত্রে এর প্রভাব সূক্ষ্ম ও গবেষণাধীন।

১. আকর্ষণের রসায়ন তৈরি করতে পারে

সম্পর্কের শুরুর দিকে ফেরোমোন সম্ভাব্য সঙ্গীকে কেমন লাগছে, সেটি প্রভাবিত করতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, সঙ্গী বা অপরপক্ষের শরীরের গন্ধ আপনাকে আকর্ষণ বা বিকর্ষণ করতে পারে। নিরাপত্তার অনুভূতি দিতে পারে। শারীরিকভাবে আকর্ষণ করতে পারে। ফলে ফেরোমোনের প্রভাবে প্রথম দেখায় কারও প্রতি দ্রুত টান তৈরি হতে পারে। প্রথম দেখা থেকেই মনে হতে পারে ‘অনেক দিনের চেনা’।

২. বিশ্বাস ও ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে

কিছু গবেষণা বলছে, কিছু ফেরোমোন-জাতীয় সংকেত মানুষের মধ্যে সহানুভূতি, সহযোগিতা, উদারতা, ইতিবাচক মুড তৈরিতে সাহায্য করে। পাশাপাশি কণ্ঠস্বর, শরীরীভাষা, প্রাকৃতিক গন্ধ, অবচেতন রাসায়নিক সংকেত অক্সিটোসিন (লাভ হরমোন) নিঃসরণে ভূমিকা রাখতে পারে। যখন কারও উপস্থিতি, গন্ধ, স্পর্শ ও আচরণ একসঙ্গে স্বস্তি দেয়, তখন মস্তিষ্ক তাকে ‘সেফ পারসন’ বা ‘মাই পারসন’ হিসেবে গ্রহণ করে। এটিই অনেক সময় সম্পর্কের গভীরতার ভিত্তি।

৩. পরিচিত গন্ধ থেকে নিরাপত্তা ও স্বস্তির অনুভূতি

কোনো প্রিয় মানুষের স্বাভাবিক শরীরের গন্ধ অনেক সময় মস্তিষ্কে পরিচিতি, নিরাপত্তা ও শান্তির অনুভূতি তৈরি করে। সঙ্গীর জামার গন্ধে স্বস্তি পাওয়া যায়। সঙ্গী কাছে থাকলে মন শান্ত হয়। দূরে থাকলেও জামা-কাপড়ের গন্ধে তাকে মনে পড়ে। এসব দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি তৈরিতে ও সম্পর্কের আবেগগত গভীরতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

৪. ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে বন্ধন শক্তিশালী হয়

আলিঙ্গন, কাছাকাছি থাকা, চুম্বন বা শারীরিক ঘনিষ্ঠতায় শরীরে অক্সিটোসিন ও অন্যান্য হরমোন বাড়ে। এসব বিশ্বাস বাড়ায়, আবেগগত সংযোগ তৈরি করে ও সঙ্গীর প্রতি টান বাড়ায়। তবে কেবল ফেরোমোনের প্রভাবে এমন হয় না, আদতে অন্যান্য হরমোনও এখানে বড় ভূমিকা রাখে।

৫. কথা না বলেও আবেগ পৌঁছে দিতে পারে

মানুষের শরীরের গন্ধ বা রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে ভয়, দুঃখ, এমনকি আনন্দের মতো আবেগও কিছুটা পৌঁছাতে পারে। এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে গবেষণায়। অর্থাৎ কেউ চিন্তিত হলে আপনি অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। আবার কারও নীরব উপস্থিতিতে নিজেকে শান্ত লাগতে পারে।

তবে…

ফেরোমোন একাই সম্পর্ক তৈরি করে না। বরং সম্পর্কের প্রাথমিক আকর্ষণ তৈরিতে সাহায্য করে। উপস্থিতি, গায়ের গন্ধ, শারীরিক স্পর্শ—এসবের মাধ্যমে ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে নিয়মিত যোগাযোগ, সম্মান, মানসিক, নিরাপত্তা, ধারাবাহিক যত্ন, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস—এসবের মাধ্যমে। ফেরোমোন থাকলেও সম্পর্কে সততা না থাকলে, আচরণ ভালো না হলে সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে টেকে না।

শেষ কথা

অনেক সময় সম্পর্কের গভীরতা শুরু হয় এমন এক অনুভূতি থেকে, যার ভাষা নেই, কিন্তু উপস্থিতি আছে। ভালোবাসা শুধু চোখে দেখা বা কথায় বলা বিষয় নয়। শরীরও অনেক সময় নিঃশব্দে কথা বলে। ফেরোমোন সেই নীরব ভাষার অংশ; যা মানুষকে টান, স্বস্তি ও সংযোগ অনুভব করাতে সাহায্য করতে পারে।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে

01/06/2026

এই ৮টি বিষয় জানা থাকলে আপনার নিজের জীবন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে
সত্যিকারের গভীর মানুষ হওয়া কেবল স্মার্ট দেখানোর বিষয় নয়; বরং জ্ঞান, কৌতূহল, আত্মসচেতনতা ও মানবিক বোধ গড়ে তোলা ও চর্চার বিষয়। আপনি যদি যেকোনো পরিমণ্ডলে গভীরতা ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে নিজেকে মানিয়ে নিতে চান, তাহলে এই ৮টি বিষয়ে নিজেকে শিক্ষিত করুন। এসব বিষয় জানা থাকলে আপনার নিজের জীবন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।

সত্যিকারের গভীর মানুষ হওয়া কেবল স্মার্ট দেখানোর বিষয় নয়; বরং জ্ঞান, কৌতূহল, আত্মসচেতনতা ও মানবিক বোধ গড়ে তোলা ও চর্চার বিষয়ছবি: সুমন ইউসুফ
১. ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থা (পারসোনাল ফাইন্যান্স)

নিজের টাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে শিখুন। কত আয় হচ্ছে, কোথায় খরচ হচ্ছে—হিসাব রাখুন। অপ্রয়োজনীয় খরচ বাদ দিন। ২৭, ২৮ ও ২৯ বছর বয়সের মধ‍্যেই সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করা শুরু করুন। টাকা থাকলেও অনেকেই দরিদ্র থাকেন। কারণ, তাঁরা টাকা ম্যানেজ করতে জানেন না। কীভাবে অর্থনীতি কাজ করে, সমাজে বৈষম্য কেন তৈরি হয়—এসবও বোঝা জরুরি।

২. প্রভাবের মনোবিজ্ঞান (সাইকোলজি অব ইনফ্লুয়েন্স)

মানুষ কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, কেন প্রভাবিত হয়—এটা বোঝার বিজ্ঞান। মানুষ কেন ‘না’ থেকে ‘হ্যাঁ’ বলে। বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সেখানকার ইনফ্লুয়েন্সাররা কীভাবে আমাদের প্রভাবিত করেন। কার কথা বিশ্বাস করা উচিত। এটা জানলে আপনি সহজে প্রতারিত হবেন না, আবার নিজেও ভালোভাবে যোগাযোগ করতে পারবেন।

৩. স্বাস্থ্য ও পুষ্টি

এটা আপনার শরীরের ‘ম্যানুয়াল’ বোঝার মতো একটা ব্যাপার। আপনাকে আপনার শরীর বুঝতে হবে। কী খেলে শরীর ভালো থাকে, কোন অভ্যাসে রোগ বাড়ে, কীভাবে এনার্জি, ফোকাস ও ইমিউনিটি ঠিক রাখা যায় ইত্যাদি। একটা বাস্তব কথা হলো, ভালো স্বাস্থ্য ছাড়া ভালো কোনো কিছুই দীর্ঘদিন উপভোগ করা যায় না।

৪. মানসিকভাবে স্থিতিশীলতা অর্জন

এটা একটা চর্চা। প্রতিবার যখন আপনি এমন পরিস্থিতিতে পড়েন, যখন আপনার রাগে ফেটে পড়তে ইচ্ছা করে, হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে যান; মনে রাখবেন, এটা একটা সুযোগ। এমন পরিস্থিতিতেও মানসিকভাবে শান্ত আর স্থিতিশীল থাকার চ্যালেঞ্জ, যেটা আপনাকে জয় করতে হবে। যেটা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, সেটা নিয়ে চিন্তা না করাও এর ভেতরে পড়ে।

৫. বিক্রয় ও প্রভাবিত করার দক্ষতা (সেলস)

এটা শুধু পণ্য বিক্রির জন্য নয়—জীবনের সব জায়গায় দরকার। নিজের আইডিয়া অন্যকে বোঝানো, চাকরি, ব্যবসা বা সম্পর্ক—সব জায়গায় যোগাযোগদক্ষতা কাজে লাগে। মানুষকে প্রভাবিত করা ও বিশ্বাস তৈরি করা খুবই দরকারি একটা দক্ষতা। আদতে জীবন অনেকটাই ‘নিজেকে বিক্রি করার’ দক্ষতার ওপর নির্ভর করে—সে চাকরি হোক বা সম্পর্ক।

৬. ইতিহাস ও ক্ষমতার সম্পর্ক

ইতিহাসকে শুধু তারিখ বা যুদ্ধের তালিকা হিসেবে নয়, মানুষের স্বভাব বোঝার একটি উপায় হিসেবে দেখুন। কেন সাম্রাজ্য তৈরি হয়, কেন ভেঙে পড়ে, ক্ষমতা কীভাবে মানুষকে বদলে দেয়—এসব বোঝার চেষ্টা করুন। শুধু ঘটনাই নয়; এর পেছনের মনস্তত্ত্ব, ধর্ম, দর্শন ও রাজনীতিও বুঝতে হবে। কারণ, শতাব্দী বদলালেও মানুষের আচরণ বা স্বভাব খুব বেশি বদলায় না।

৭. মনোবিজ্ঞান ও মানব আচরণ

জীবনের অর্থ কী? সুখ কী? স্বাধীনতা বলতে কী বোঝায়? আপনার নিজের কাছে এসব প্রশ্নের উত্তর কী, জেনে রাখুন। মানুষ কেন ভালোবাসে, ভয় পায়, মিথ্যা বলে, হিংসা করে বা নিজেকে আড়াল করে—এসব বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিজের দুর্বলতা, ভয়, অহংকার ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সৎ হওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। যে মানুষ নিজেকে বোঝে না, সে কখনোই পৃথিবীকে গভীরভাবে বুঝতে পারে না।

৮. শিল্প, সাহিত্য ও সংগীত

শুধু তথ্য জানলেই মানুষ পরিপূর্ণ হয় না। শিল্প ও সাহিত্য মানুষের ভেতরের অনুভূতি, অনুভব বের করে আনে। সৌন্দর্যবোধ ও সহানুভূতি বাড়ায়। একটি কবিতা, গান বা সিনেমা কখনো কখনো মানুষের মন সম্পর্কে এমন কিছু শেখায়, যা নিরেট তথ্যে পাওয়া যায় না।

01/06/2026

জাপানের ‘কাইজেন’ পদ্ধতি যেভাবে আপনার জীবন বদলে দিতে পারে
জীবনে একবার হলেও কখনো কি ভেবেছেন—কাল থেকে ‘ভালো’ হয়ে যাব? ভোরে উঠব, ব্যায়াম করব, বই পড়ব, স্ক্রিনটাইম কমাব...ইত্যাদি। পরদিন হয়তো অ্যালার্মটা নড়েচড়ে উঠেছে ঠিকই, কিন্তু আপনার কোনো নড়নচড়ন হয়নি। কিংবা হয়তো কয়েকটা দিন নিজেকে জোর করে ‘লাইনে’ রেখেছেন, তারপর যেই লাউ সেই কদু!

তারপর হয়তো আপনাকে চেপে ধরেছে অপরাধবোধ, দ্বিধা, হতাশা—আমাকে দিয়ে হবে না, আমি পারব না।

অথচ সমস্যাটা কিন্তু আপনার সদিচ্ছায় নয়, পদ্ধতিতে। আপনি একটা বিশাল আগুন জ্বালিয়েছেন, যেটা হয়তো এক রাতেই নিভে গেছে। অথচ দরকার ছিল একটা ছোট্ট মোমবাতি, যেটা প্রতিদিন একটু একটু করে জ্বলে।

বড় লাফের বিভ্রম
আমরা বদলাতে চাইলে বিশাল কিছু করে ফেলতে চাই। এক রাতে সব ঠিক হয়ে যাবে, এক সিদ্ধান্তে জীবন ঘুরে যাবে—এই বিশ্বাস আমাদের ভেতরে গেঁথে গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাউফুন নাহারের ভাষ্যমতে, ‘বর্তমানে তরুণদের মধ্যে নিজের ক্যারিয়ার বা জীবনে দ্রুত বদলে যাওয়ার একটা আকাঙ্ক্ষা বা প্রবণতা লক্ষ করা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা বাইরে অন্যদের সফলতা দেখে, সফলতার ফলাফল উপভোগ করতে দেখে, কিন্তু সেই সফলতার পেছনের দীর্ঘ প্রক্রিয়াটি দেখে না। ফলে নিজের জীবনেও দ্রুত পরিবর্তনের একটা প্রত্যাশা তৈরি হয়।’

কিন্তু জীবনে যা কিছু টেকসই হয়েছে, সবকিছুই ধীরে ধীরে হয়েছে, অধ্যবসায়ের মাধ্যমে হয়েছে। মানুষ এক দিনে হাঁটতে শেখে না, এক দিনে কথা বলতেও শেখে না। তেমন সফলতাও কেউ এক দিনে পায় না।

তবু আমরা ভাবি বদলে যাওয়াটা হবে একঝটকায়, এক রাতের সিদ্ধান্তে, এক লাফে। কিন্তু পাহাড় তো কখনো একলাফে চড়া যায় না।

ছোট পদক্ষেপের শক্তি
জাপানি লেখক মাসাকি ইমাই তাঁর ‘কাইজেন: দ্য কি টু জাপানস কম্পিটেটিভ সাকসেস’ বইয়ে একটি সহজ কিন্তু গভীর ধারণা তুলে ধরেছেন। জাপানি শব্দ ‘কাই’ অর্থ পরিবর্তন, আর ‘জেন’ অর্থ ভালো। অর্থাৎ কাইজেন-এর মানে দাঁড়ায় ভালোর জন্য পরিবর্তন। তবে এই পরিবর্তন এক দিনে নয়, বিশাল লাফে নয়। বরং প্রতিদিন ছোট ছোট উন্নতির মাধ্যমে। ইমাইয়ের ভাষায় কাইজেন মানে প্রতিদিনের উন্নতি, সবার অংশগ্রহণে উন্নতি এবং জীবনের সর্বত্র উন্নতি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী জাপানে টয়োটাসহ বড় বড় প্রতিষ্ঠান এই দর্শন প্রয়োগ করে উৎপাদন ও মানের ক্ষেত্রে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে।

আর এই পথে টিকে থাকার জন্য যে শক্তি দরকার, মনোবিজ্ঞানী অ্যাঞ্জেলা ডাকওয়ার্থ তাঁর ‘গ্রিট: দ্য পাওয়ার অব প্যাশন অ্যান্ড পার্সিভিয়ারেন্স’ বইয়ে এর নাম দিয়েছেন গ্রিট। গ্রিট মানে শুধু লেগে থাকা নয়—একটি গভীর, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের প্রতি ভালোবাসা এবং সেই লক্ষ্যে অবিচল থাকার অধ্যবসায়। ডাকওয়ার্থ বলেছেন, মেধা দক্ষতা তৈরি করে, আর পরিশ্রম সেই দক্ষতাকে সাফল্যে পরিণত করে।

যেদিন থামবেন, সেদিনই হারবেন
ছোট পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করলেই সব সহজ হয়ে যায় না। মাঝপথে এমন দিন আসে, যেদিন কিছুই ভালো লাগে না। মনে হয় এত কষ্ট করে কী লাভ, কিছুই তো বদলাচ্ছে না। সেই দিনগুলোই আসলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ, পাহাড় চড়তে গিয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ থামে মাঝপথে, শুরুতে নয়। শুরুতে উৎসাহ থাকে, শেষে গন্তব্য দেখা যায়। কিন্তু মাঝখানের সেই ধূসর জায়গাটায়, যেখানে না শুরুর উত্তেজনা আছে না শেষের আনন্দ; সেখানেই বেশির ভাগ স্বপ্ন থেমে যায়। এ ক্ষেত্রে অধ্যাপক রাউফুন নাহারের বক্তব্য, ‘শুধু অনুপ্রেরণার ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত ছোট পদক্ষেপ ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পথে ব্যর্থতা বা বিরতি আসতেই পারে; সেগুলোকে শেখার অংশ হিসেবে দেখলে এগিয়ে থাকা সহজ হয়। নিজের মূল্যবোধ ও প্রয়োজনের সঙ্গে মিল রেখে লক্ষ্য ঠিক করলে দীর্ঘ মেয়াদে তা ধরে রাখার সম্ভাবনা বাড়ে।’

তাই যেদিন ইচ্ছে করবে না, সেদিন সবচেয়ে ছোট কাজটা করুন। শুধু একটাই করুন। সাফল্যের জন্য অপেক্ষা করবেন না। বরং মনে রাখবেন, থামা যাবে না, থামলেই হারবেন। আর হাঁটতে থাকলে একদিন না একদিন লক্ষ্যে পৌঁছাবেনই।
কীভাবে শুরু করবেন
অতএব ‘কাল থেকে ভালো হয়ে যাব’—আচমকা এই বিরাট সিদ্ধান্ত না নিলেও চলবে। কাল সকালে বরং শুধু একটা কাজ করুন। এত ছোট একটা কাজ, যেটাতে ব্যর্থ হওয়ার কোনো উপায় নেই। পাঁচ মিনিট হাঁটুন। এক পাতা হলেও বই পড়ুন। আপনার সবচেয়ে পছন্দের ডায়েরিতে দুটো শব্দ হলেও লিখুন।

পাহাড়ের চূড়া নিশ্চয়ই নিচে দাঁড়িয়ে স্পর্শ করা যায় না। শুধু দেখা যায় ওপরে ওঠার পরের পথটা, যেটা ধরে আজকে হাঁটা শুরু করতে হবে। কাল আরেকটু এগোতে হবে। এভাবেই একদিন পেছনে তাকিয়ে দেখবেন—পাহাড়টা কখন পেরিয়ে এসেছেন, টেরই পাননি।

15/05/2026

ঈদুল আযহা

ঈদুল আযহা হল কুরবানীর উৎসব, যা ইসলামী ক্যালেন্ডারের দ্বাদশ এবং শেষ মাস জিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখে উদযাপিত হয়। এটি দুটি ঈদের পবিত্রতম দিন এবং আল্লাহর আদেশ মেনে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর পুত্রকে কুরবানী করার ইচ্ছাকে স্মরণ করে।

"ঈদুল আযহা" নামের অর্থ "কুরবানীর উৎসব"। আল্লাহ কুরবানী করার অনুমতি দেওয়ার আগে, তিনি পরিবর্তে একটি ভেড়া কুরবানী করার ব্যবস্থা করেছিলেন। আল্লাহর ইচ্ছার প্রতি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের এই কাজটি বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা স্মরণ করে এবং সম্মান করে।

এই দিনে, যাদের সামর্থ্য আছে তারা কুরবানী করেন - ভেড়া, ছাগল, গরু বা উটের মতো পশুর আনুষ্ঠানিক কুরবানী। মাংস তিন ভাগে ভাগ করা হয়: পরিবারের জন্য এক তৃতীয়াংশ, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবদের জন্য এক তৃতীয়াংশ এবং অভাবীদের জন্য এক তৃতীয়াংশ।

ঈদুল আযহা হজের সমাপ্তির সাথে মিলে যায়, যা মক্কায় বার্ষিক তীর্থযাত্রা। মিনায় তীর্থযাত্রীরা যখন তাদের কুরবানী করেন, তখন সারা বিশ্বের মুসলমানরা এই ইবাদতে যোগ দেন।

15/05/2026

থুসিডাইডিস ট্র্যাপ কী

ট্রাম্পের সাবেক প্রধান কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননসহ পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকদের আলোচনায় প্রায়ই ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’ বা ‘থুসিডাইডিস ফাঁদ’ শব্দবন্ধটি ঘুরেফিরে আসে। এই তত্ত্বের মূল কথা হলো, যখন কোনো উদীয়মান শক্তি কোনো প্রতিষ্ঠিত শক্তিকে হটিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে, তখন প্রায়ই তার পরিণতি হয় যুদ্ধ।

প্রাচীন গ্রিক ইতিহাসবিদ থুসিডাইডিস তাঁর ‘হিস্ট্রি অব দ্য পেলোপনেশিয়ান ওয়ার’ বইয়ে লিখেছিলেন, ‘এথেন্সের উত্থান এবং এর ফলে স্পার্টার মনে জেঁকে বসা ভয়ই যুদ্ধকে অনিবার্য করে তুলেছিল।’

এথেন্স যেভাবে একসময় স্পার্টার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছিল, এখানেও ইঙ্গিতটি একই রকম—চীনের উত্থান যুক্তরাষ্ট্রের মনে উদ্বেগ তৈরি করছে এবং দেশটির সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে।

পর্যবেক্ষকেরা বলে আসছেন, সি চিন পিং বহু বছর ধরেই এই শব্দ ব্যবহার করে আসছেন। তবে ট্রাম্পের সফরকালে এই ধ্রুপদি তত্ত্বের অবতারণা করার উদ্দেশ্য হতে পারে তাইওয়ান প্রশ্নে তাঁর অবস্থান আগেভাগেই জানান দেওয়া। পরে ট্রাম্পকে সতর্ক করে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, তাইওয়ান নিয়ে যেকোনো ভুল পদক্ষেপ তাঁদের দুটি দেশকে ‘সংঘাতের’ দিকে ঠেলে দিতে পারে।

15/05/2026

সচেতনতা, নিয়মিত ফলোআপ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সুস্থ জীবনের মূল চাবিকাঠি।

হাতির মল থেকে কাগজ, দেখে বেশ বিস্মিতই হলামএকটু ভিন্ন টেক্সচারের নোটবুকগুলো দেখতে সুন্দর। কৌতূহল থেকে একটা হাতে তুলে নিলা...
15/05/2026

হাতির মল থেকে কাগজ, দেখে বেশ বিস্মিতই হলাম
একটু ভিন্ন টেক্সচারের নোটবুকগুলো দেখতে সুন্দর। কৌতূহল থেকে একটা হাতে তুলে নিলাম। কাগজে হালকা আঁশের ছাপ। ট্যাগে চোখ পড়তেই বিস্মিত হলাম—এই নোটবুকের কাগজ নাকি হাতির মল থেকে তৈরি!
শ্রীলঙ্কার গল ফোর্টের পাথুরে দেয়ালে বসে দূর দিগন্তে মিশে যাওয়া নীল জলরাশির দিকে তাকিয়ে ছিলাম। পুরোনো সেই দেয়ালে একের পর এক এসে আছড়ে পড়ছে ভারত মহাসাগরের ঢেউ—কখনো শান্ত, কখনো উত্তাল। বাতাসে লবণাক্ত সোঁদা গন্ধ, সঙ্গে হালকা রোদ আর সমুদ্রের গর্জন—সব মিলিয়ে যেন এক মায়াবী আবেশ। সময় যে কেটে যাচ্ছে, বুঝতেই পারিনি।
হঠাৎই বন্ধুদের ডাক, ‘এই, আর কতক্ষণ! চল, খেয়ে নিই।’ বাস্তবে ফিরতে হলো। ফোর্টের ভেতরেই সমুদ্রের ধারে ছোট্ট, ছিমছাম একটি রেস্তোরাঁ। কাঠের টেবিল-চেয়ার, দেয়ালে পুরোনো ছবি আর জানালার বাইরে অবিরাম নীল জল—সবকিছুতেই একধরনের পুরোনো দিনের আবহ। স্থানীয় খাবারের গন্ধে ক্ষুধাও যেন হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। দ্রুতই অর্ডার দিয়ে গল্প করতে করতে দুপুরের খাবার সেরে নিলাম।
ফোর্টের ভেতরেই যে ভবনের দ্বিতলে আমরা খেলাম, তারই নিচতলায় আছে স্যুভেনিরের দোকান। ছোট্ট হলেও বেশ আকর্ষণীয়—নানা রঙের হস্তশিল্প। ভাবলাম, একটু ঢুঁ মেরে যাই।
ভেতরে ঢুকতেই যেন অন্য এক জগৎ। চারপাশে কাঠ, কাপড় আর প্রাকৃতিক উপকরণে তৈরি কত জিনিস—হাতে তৈরি মুখোশ, ছোট ছোট ভাস্কর্য, গৃহসজ্জার সামগ্রী আর নানা ধরনের অলংকার। দোকানের ভেতরে হালকা কাঠের গন্ধ, সঙ্গে নরম আলো একটা উষ্ণ, শান্ত পরিবেশ তৈরি করেছে।
ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎই এক কোণে চোখ আটকে গেল। সেখানে থরে থরে সাজানো নোটবই আর পেনসিল। একটু ভিন্ন টেক্সচারের নোটবুকগুলো দেখতে সুন্দর। কৌতূহল থেকে একটা হাতে তুলে নিলাম। কাগজে হালকা আঁশের ছাপ। ট্যাগে চোখ পড়তেই বিস্মিত হলাম—এই নোটবুকের কাগজ নাকি হাতির মল থেকে তৈরি!
দোকানে কথা বলে জানলাম, মূলত হাতির মল পুনর্ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব কাগজের বিকল্প তৈরির লক্ষ্য থেকেই এই শিল্পের সূচনা। বিষয়টা নিয়ে বিস্তারিত জানার আগ্রহ হলো। হোটেলের রুমে ঢুকেই ইন্টারনেট ঘাঁটতে শুরু করলাম।
সেখান থেকেই জানলাম, হাতির মলকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে কাগজ তৈরির এই অভিনব ধারণা প্রথম দেন শ্রীলঙ্কার থুসিতা রানাসিংগে। পরিবেশবান্ধব এ উদ্যোগ দ্রুতই জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর কাগজ উৎপাদনে প্রায় ১৫ বিলিয়ন গাছ কাটা হয়। উপরন্তু কাগজ তৈরির প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ জলাশয়ে মিশে পরিবেশ দূষণ করে। এ চাপ কমাতেই বিকল্পভাবে কাগজ উৎপাদনের চিন্তা।

হাতি সাধারণত কলা গাছ, ঘাস, পাতা ও গাছের বাকল খেয়ে থাকে, যার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশই হজম হয় না। ফলে একটি পূর্ণবয়স্ক হাতি প্রতিদিন ৩০০-৪০০ পাউন্ড মলত্যাগ করে। এই মলের আঁশ বা ফাইবারই কাগজ তৈরির মূল উপাদান। প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথমে হাতির মল সংগ্রহ করে স্তূপ করা হয়। এরপর জীবাণুনাশক হিসেবে নিমপাতা দিয়ে সেদ্ধ করা হয়। পরে তা ছেঁকে মেশিনে মণ্ড তৈরি করে রোদে শুকানো হয়। অনেক সময় এই মণ্ডে প্রাকৃতিক উৎস থেকে সংগৃহীত রং মেশানো হয়, যেমন বিটরুট বা বিভিন্ন ফুলের পাপড়ি। এরপর প্রয়োজনীয় উপাদান মিশিয়ে তৈরি হয় কাগজ।
আশ্চর্যের বিষয়, এই কাগজে কোনো দুর্গন্ধ বা জীবাণু থাকে না। শুধু কাগজই নয়, এই উপাদান দিয়ে তৈরি হচ্ছে নোটবই, ফটোফ্রেম, শপিং ব্যাগ, পেনসিল, ক্যালেন্ডারসহ নানা গৃহসজ্জার সামগ্রী।
শ্রীলঙ্কার সীমানা পেরিয়ে ৩০টির বেশি দেশে এখন রপ্তানি হচ্ছে এই পণ্য। তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান, বাড়ছে পর্যটকদেরও আগ্রহ। প্রকৃতির বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে পরিবেশ রক্ষায় এক অনন্য উদাহরণ।
তথ্যসূত্র: অ্যাটলাস অবসকিওরা

30/04/2026

Rooppur Nuclear Power Plant

Address

This Page Can Be Geared Towards Traveler, Vloger
Puran Bogra

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when TV-TC lover posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share