04/09/2026
সীমান্তে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের হয়রানি, মিথ্যা প্রেস রিলিজের তীব্র প্রতিবাদ ও ৫৯ বিজিবির সিও মহোদয়ের প্রতি আবেদন!
গত ৩০ আগস্ট তারিখে সীমান্তে বিজিবির নায়েক সুবেদার তাইজুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন বিজিবি সদস্য এক নজিরবিহীন ও বেআইনি ঘটনা ঘটায়। ভারত থেকে আসা বৈধ পাসপোর্টধারী সাধারণ যাত্রীরা কাস্টমস অফিসে পৌঁছানোর আগেই বিজিবির ওই দলটি তাঁদের গতিরোধ করে এবং তাঁদের সাথে থাকা কিছু ট্যাক্সেবল কসমেটিক্স ও খাদ্যসামগ্রী বেআইনিভাবে ছিনিয়ে নেয়। শুধু তা-ই নয়, সাধারণ যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়। দুপুর গড়িয়ে গেলেও ভুক্তভোগী যাত্রীদের কোনো প্রকার খাবার খেতে দেওয়া হয়নি বলে তাঁরা জানান।
উক্ত ঘটনার পর কাস্টমস কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার, প্রত্যক্ষদর্শী এবং ভুক্তভোগী যাত্রীদের সরাসরি বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের পর একজন দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে আমি সত্য তথ্য ফেসবুকে প্রকাশ করি। কিন্তু পরবর্তীতে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৩০ তারিখে নায়েক সুবেদার তাইজুল ইসলাম কর্তৃক বেআইনিভাবে আটক করা সেই মালামাল কাস্টমসের কোনো গুদামে বা সরকারি খাতায় জমা দেওয়া হয়নি।
ঘটনার পর সত্য প্রকাশ করায় আমাকে নানাভাবে অপদস্ত ও হেয় প্রতিপন্ন করার অপকৌশল নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ৫৯ বিজিবির মিডিয়া সেল থেকে একটি মিথ্যা প্রেস রিলিজ প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে আমি মোঃ ইয়াকুব আলী-কে কাল্পনিকভাবে দোষী বানানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে—যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
এখানে ৫৯ বিজিবির মিডিয়া সেলের কাছে আমার স্পষ্ট প্রশ্ন:
১. যেখানে ৩০ আগস্টের মূল ঘটনাটি ঘটেছিল বৈধ পাসপোর্টধারী যাত্রীদের কসমেটিক্স ও খাদ্যসামগ্রী অসৎ উপায়ে কেড়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে, সেখানে কসমেটিক্স ও খাবারের মতো আসল সত্য গোপন রেখে প্রেস রিলিজে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে "মাদক ও চোরাচালান"-এর মিথ্যা কথা কেন লেখা হলো?
২. বিজিবি সত্য তথ্য প্রকাশ না করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে কেন এই মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রেস রিলিজ জারি করলো?
কসমেটিক্স ও খাবার সামগ্রী ছিনতাইয়ের সত্য ঘটনা আড়াল করে মাদক বা চোরাচালানের মিথ্যা ট্যাগ দেওয়া কেবল একজন সাংবাদিককে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা নয়, বরং সাধারণ যাত্রীদের ওপর হওয়া অপকর্মকে ঢাকাবাজি করার শামিল। বিজিবি অপকর্ম করলে তা কি কোনো সাংবাদিক লিখতে পারবে না? সাংবাদিকরা দেশের চতুর্থ স্তম্ভ। একজন অসৎ কর্মকর্তা নায়েক সুবেদার তাইজুল ইসলামকে আড়াল করতে কেন সত্য প্রকাশকারী সাংবাদিকের পেছনে উঠেপড়ে লাগা হচ্ছে? অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং সত্য লেখা আমার সাংবাদকতার দায়িত্ব, এতে আমাকে অপদস্ত করার চেষ্টা করলেও আমি সত্য বলা থেকে পিছপা হব না।
৫৯ বিজিবির সিও (অধিনায়ক) মহোদয়ের কাছে আকুল আবেদন:
১. গত ৩০ আগস্টের ঘটনায় জড়িত নায়েক সুবেদার তাইজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট অপকর্মকারী বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
২. কসমেটিক্স ও খাদ্যের ঘটনাকে আড়াল করে কেন মাদক ও চোরাচালানের মিথ্যা প্রেস রিলিজ দেওয়া হলো—তা তদন্ত করে বিজিবির পক্ষ থেকে জনগণকে প্রকাশ্যে স্পষ্ট জবাব ও ব্যাখ্যা দেওয়া হোক।
৩. সীমান্তে দায়িত্বরত সদস্যদের ওপর বিজিবির নিজস্ব ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হোক, যাতে সাধারণ পাসপোর্টধারী যাত্রীরা আর কোনো হয়রানির শিকার না হন।
উক্ত বিষয়ে ৫৯ বিজিবির পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো, তা দেশের জনগণ প্রকাশ্যে জানতে চায়। ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ও সত্য তথ্য আজ প্রকাশ করলাম, বাকি তথ্য সময় ও জায়গামতো প্রমাণসহ উপস্থাপন করা হবে।
— মোঃ ইয়াকুব আলী
(বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিক)