24/02/2026
আমি দেখি অনেকেই সৌদি আরব বা প্রবাস নিয়ে সারাদিন নেতিবাচক কথা বলেন। কিন্তু আয়নাতে নিজের চেহারাটা কি একবারও দেখেছেন? চলুন আজ কিছু হিসাব মেলাই।
ধরুন, আমার মালিক আর তার দাদার মোট সম্পত্তি ৫০০ টাকা। আমার কাছে ছিল ১৩০ টাকা। আমি মালিককে ১০০ টাকা দিলাম তার বাসায় থাকার জন্য। মালিকের হলো ৬০০ টাকা।
এখন আমি মালিকের দাদার কাছ থেকে খাটুনি দিয়ে ৩০০ টাকা আয় করে নিলাম। মালিকের থাকলো কত? ৬০০ - ৩০০ = ৩০০ টাকা। আর আমার হলো ৩৩০ টাকা।
দেখুন এখানে মালিকের সম্পত্তি কমছে আমার বাড়ছে। অর্থাৎ সৌদি আরবসহ একেকটা দেশ একেকটা পরিবারের মত। এখানে পরিবারের মানুষ ব্যাতীত বাহিরের যে কেও এসে এক টাকা নিয়ে গেলেও পরিবার অর্থাৎ ঐ দেশের সম্পত্তি কমবে।
যে নিয়ে যায় তার তার দেশের সম্পত্তি বাড়বে।
সহজ কথা: আমি বিদেশ থেকে যে টাকাটা দেশে পাঠাচ্ছি, সেটা কিন্তু ওই দেশেরই সম্পদ। তারা আমাদের সুযোগ দিচ্ছে বলেই আমরা নিজের দেশের রেমিট্যান্স বাড়াতে পারছি। তারা আমাদের শত্রু নয়, আমাদের রুটি-রুজির উসিলা।
আপনারা বলেন—ভিসার টাকা উঠে না, অনেক টাকা খরচ করে আসছি। ভাই, সৌদি আরবে একটা সরকারি ভিসার ফি মাত্র ২ হাজার রিয়াল। নিয়ম অনুযায়ী আপনার ভিসা, টিকেট, ইকামা, থাকা সব মালিকের দেওয়ার কথা।
তাহলে লক্ষ লক্ষ টাকা নিচ্ছে কে? আমাদের দেশেরই কিছু মানুষ এই টাকার বড় অংশটা খেয়ে ফেলছে। দোষ দিচ্ছেন আরবের, অথচ পকেট কাটছে নিজের ভাই!
আমরা শুরুটাই করি একটা বড় প্রতারণা দিয়ে। মালিককে কিছু টাকা দিয়ে বাইরে বাইরে কাজ করার কোনো নিয়ম সৌদি আইনে নেই। আমরা আইন ভেঙে কাজ করি, আর সুবিধা না পেলে দোষ দেই সরকারের। এটা কি ঠিক?
মনে রাখবেন, এই সৌদি আরবের উসিলায় বাংলাদেশের ৩৫ লক্ষ পরিবার চলে। আপনার হয়তো ব্যক্তিগত কিছু সমস্যা থাকতে পারে—যেমন বেতন দেরি হওয়া বা অতিরিক্ত খাটুনি—সেগুলো নিয়ে যৌক্তিক কথা বলুন। কিন্তু ঢালাওভাবে একটা দেশকে গালি দেওয়া বা পরিবেশ নষ্ট করা বন্ধ করুন।
#প্রবাসি #প্রবাসেরখবর #প্রবাসেরজীবন #প্রবাসী #সৌদিআরব #ভিসা