03/09/2025
গন্তব্যপথের আজকের গন্তব্য: প্যারা সন্দেশের বাড়ি নওগাঁতে
প্যারা সন্দেশ—নওগাঁ জেলার গর্ব, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী এক মিষ্টান্ন। দুধের ক্ষীর দিয়ে তৈরি এই সুস্বাদু মিষ্টি প্রথম উৎপাদন শুরু হয় নওগাঁয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্যারা সন্দেশ তৈরি হলেও, আসল স্বাদ ও ঐতিহ্য খুঁজে পাওয়া যায় কেবল নওগাঁয়। সম্প্রতি জামালপুরের সরিষাবাড়িতেও একই নামে মিষ্টি তৈরি হচ্ছে, তবে স্বাদ, আকার ও প্রস্তুত প্রণালীতে তা নওগাঁর আসল প্যারা সন্দেশের থেকে ভিন্ন।
ইতিহাস:
প্যারা সন্দেশের ইতিহাস শত বছরেরও বেশি পুরোনো। প্রথমে দেব-দেবীর আরাধনায় ব্যবহারের জন্যই এ মিষ্টির জন্ম হয়েছিল। পরে ধীরে ধীরে এটি সর্বসাধারণের কাছে জনপ্রিয় মিষ্টান্নে পরিণত হয়।
জনশ্রুতি আছে, নওগাঁ শহরের কালিতলা এলাকার মহেন্দ্রী দাস নামের এক ব্যক্তি সর্বপ্রথম প্যারা সন্দেশ তৈরি শুরু করেন। তিনি ভারতের বিহারের এক নবাবের অধীনে মিষ্টি তৈরির কাজ করতেন। নবাব কোনো এক যুদ্ধে নিহত হলে মহেন্দ্রী দাস প্রাণ বাঁচাতে নওগাঁয় চলে আসেন এবং কালিতলা এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। জীবিকার প্রয়োজনে তিনি প্যারা সন্দেশ তৈরি করে মন্দিরে মন্দিরে বিক্রি করতে থাকেন। পরে কালিতলা মন্দিরের পাশে তিনি খুলে বসেন ‘মা নওগাঁর প্যারা সন্দেশ’ নামের দোকান। শত বছর আগে সেই এলাকায় জনবসতি খুব একটা না থাকলেও, মিষ্টির স্বাদ দ্রুতই মানুষের মনে জায়গা করে নেয়।
পরে মহেন্দ্রী দাসের ছেলে ধীরেন্দ্রনাথ দাস দোকানের দায়িত্ব নেন। তিনি দক্ষ মিষ্টিকারিগর বিমল মহন্তকে নিয়োগ দেন। বিমল মহন্তর হাতযশে প্যারা সন্দেশের খ্যাতি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৩০ বছর ধরে ধীরেন্দ্রনাথ দাস ব্যবসা পরিচালনা করেন। এরপর তিনি দোকানটি সুরেশ চন্দ্র মহন্তের কাছে বিক্রি করেন। নতুন মালিক সুরেশ মহন্ত কারিগর হিসেবে নিয়োগ দেন নারায়ণ চন্দ্র প্রামানিককে।
পরবর্তীতে মালিকানা পরিবর্তন হলেও কারিগর হিসেবে আজও রয়েছেন সেই নারায়ণ চন্দ্র দাস। বর্তমানে দোকানের মালিক বৈদ্য রতন দাস, আর তাঁর হাতেই জীবন্ত আছে শত বছরের ঐতিহ্য নওগাঁর প্যারা সন্দেশ।
এখন নওগাঁর আসল প্যারা সন্দেশ আপনার ঘরেই
আপনারা চাইলে আমাদের মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী আসল নওগাঁর প্যারা সন্দেশ অর্ডার করতে পারবেন। আমরা আপনাদের কাছে পৌঁছে দেবো আসল স্বাদ, আসল নওগাঁ থেকে।
#গন্তব্যপথ #প্যারা_সন্দেশ