21/08/2026
# # # সরকারি কাজে গাড়ি প্রদান ও ট্রাফিক পুলিশের হয়রানি: আইনের মুখোশে চাঁদাবাজি!
আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা সবসময় রাষ্ট্রের কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই। সরকার বা প্রশাসনের জরুরি প্রয়োজনে গাড়ি চাইলে তা দিতে আমরা বাধ্য এবং আইনকে সম্মান করেই আমরা তা দিয়ে থাকি। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই সহযোগিতার অর্থ কি এই যে, গাড়ি ও চালকের কোনো মানবিক বা যান্ত্রিক সমস্যা দেখার কেউ থাকবে না? নিয়মের তোয়াক্কা না করে একশ্রেণির অসৎ পুলিশ সদস্য যেভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে, তা আজ চরম আকার ধারণ করেছে।
**আইন কী বলে আর পুলিশ কী করে?**
বর্তমান সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী, প্রয়োজনে সরকার যানবাহন রিকুইজিশন করতে পারে, কিন্তু চালক (ড্রাইভার) সরবরাহ করা কোনো বাধ্যতামূলক বা চিরস্থায়ী নিয়ম নয়। অথচ আমাদের দেশের কিছু ট্রাফিক সার্জেন্ট ও পুলিশ সদস্য এই আইন নিজের মতো করে বানিয়ে নিয়েছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য আইন প্রয়োগ নয়, বরং গাড়ি জিম্মি করে পকেট ভারী করা।
**আমার সাথে ঘটে যাওয়া বাস্তব চিত্র:**
* গত ৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আমার গাড়িটি রিকুইজিশন করা হয় এবং ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তা ছাড়া পায়।
* রিকুইজিশনের শুরুতেই চালক ও মালিকপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, গাড়ির ইঞ্জিনে মারাত্মক সমস্যা রয়েছে এবং চালক অসুস্থ থাকায় গাড়ি নিয়ে যেতে অক্ষম। কিন্তু পুলিশ কোনো কথাই শুনতে রাজি হয়নি; বরং জোরপূর্বক রেকার দিয়ে গাড়িটি তুলে নিয়ে যায়।
* নিয়ম অনুযায়ী একটি রিকুইজিশন স্লিপ ইস্যু হওয়ার পর সেই কাগজ দেখিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গাড়ি চালানো যায়। কিন্তু ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আমার সব কাগজপত্র জব্দ করে গাড়িটিতে সরাসরি ডাম্পিং স্লিপ ধরিয়ে দেওয়া হয়!
**সার্জেন্টদের নতুন রূপ: "হয় টাকা দাও, নয়তো ডাম্পিং খাও"**
এদের মূল অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি। গাড়ি থামিয়ে চালকদের নানা অজুহাতে হয়রানি করা এবং অবৈধ সুবিধার জন্য চাপ সৃষ্টি করাই তাদের কাজ। গাড়িও দিবি, আবার তাদের মনমতো অবৈধ দাবি বা "খুশি" না করতে পারলে ডাম্পিংয়ের ভয় দেখিয়ে হয়রানি করবি—এটাই এখন তাদের নীতি হয়ে গেছে।
সবচেয়ে লজ্জার বিষয় হলো, এই পুলিশ ভাইদের ভদ্রতা এতটাই প্রখর যে, গাড়ি থেকে অবৈধভাবে চাঁদাবাজি বা টাকা না খেতে না পারলে তাদের যেন সংসারই চলে না! দেখলে মনে হয়, সরকার যেন তাদের কোনো বেতন দেয় না, বরং রাস্তায় গাড়ি আটকিয়ে ভিক্ষা করার বা জনগণের পকেট কাটার লাইসেন্স দিয়ে রেখেছে। মাস শেষে এই গাড়িগুলো থেকে টাকা না পেলে তাদের পকেট গরম হয় না।
আইনের রক্ষক হয়ে যারা এভাবে সাধারণ মানুষ ও গাড়িচালকদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি করে, তাদের কাছে জনগণ কীভাবে নিরাপদ থাকবে? এই স্বেচ্ছাচারিতা, রিকুইজিশন বাণিজ্য এবং সার্জেন্টদের এই অবৈধ ক্ষমতার অপব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার। সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, দয়া করে এই খাকি পোশাকধারী চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য থামানোর ব্যবস্থা নিন।