04/08/2026
পাথর সন্ত্রাস বন্ধ হোক—নিরাপদ হোক রেলযাত্রা
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
ঢাকা থেকে পার্বতীপুরগামী দ্রুতযান এক্সপ্রেস (৭৫৭) ট্রেনটি জয়দেবপুর স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দুষ্কৃতকারীদের ছোড়া পাথরের আঘাতে পার্বতীপুর লোকোসেডের লোকোমাস্টার ও বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (বি-১৮৭৮), পার্বতীপুর শাখার সম্মানিত সম্পাদক জনাব মোঃ শাহাবুল ইসলাম বিপ্লব ভাই গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক, নিন্দনীয় ও মর্মান্তিক।
একজন লোকোমাস্টার নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শত শত যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ট্রেনকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। অথচ সেই মানুষটিকেই যদি চলন্ত বা স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে আহত করা হয়—তাহলে এর চেয়ে নির্মম ও বিবেকহীন ঘটনা আর কী হতে পারে!
পাথর সন্ত্রাস কোনো দুষ্টুমি নয়—এটি সরাসরি জীবননাশের হুমকি। এর কারণে আমার পরিচিত অনেক সিনিয়র সহকর্মী চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন কিংবা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এমনকি পাথরের আঘাতে ট্রেনের যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। একটি ছোট পাথর মুহূর্তের মধ্যে একজন মানুষের জীবন, একটি পরিবারের স্বপ্ন এবং একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিতে পারে।
প্রায় ২০১৭ সালে আমাদের লোকোমোটিভে এক সম্মানিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উঠেছিলেন। তখন পাথর নিক্ষেপের বিষয়টি তাঁকে জানানো হলে তিনি বলেছিলেন—লোকোমোটিভের ক্যাবরুমের কাচগুলো বুলেটপ্রুফ করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। জানি না, পরবর্তীতে সেই উদ্যোগ কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছিল কিংবা কোনো সীমাবদ্ধতার কারণে সফল হয়নি কি না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার বিনীত মত হলো—শুধু লোকোমোটিভের ক্যাবরুম নয়, যাত্রীবাহী কোচের গুরুত্বপূর্ণ কাচগুলোও অধিকতর সুরক্ষিত ও আঘাত-প্রতিরোধী করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আমরা রেলযাত্রাকে দেশের অন্যতম নিরাপদ ও গণমুখী পরিবহনব্যবস্থা হিসেবে দেখতে চাই। তাই যাত্রী, চালক, গার্ডসহ রেলওয়ের প্রতিটি কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রতি বিনীত অনুরোধ
পাথর নিক্ষেপের মতো আকস্মিক ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনায় আহত রেলকর্মীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা, নিয়মিত খোঁজখবর এবং প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ আর্থিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হোক।
একই সঙ্গে রেললাইন সংলগ্ন এলাকার সম্মানিত জেলা প্রশাসক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে মসজিদ, মাদরাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হোক।
বিশেষ করে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান—আপনার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কী করছে এবং তার কোনো কর্মকাণ্ডে মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সচেতন থাকুন। অনেক সময় নিছক দুষ্টুমি, কৌতূহল কিংবা বন্ধুদের প্ররোচনায় করা একটি পাথর নিক্ষেপই কারও সারাজীবনের অন্ধত্ব কিংবা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
পাথর নিক্ষেপকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি ও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
আমরা বিশ্বাস করি, জনসচেতনতা, পারিবারিক শিক্ষা, সামাজিক প্রতিরোধ এবং কঠোর আইন প্রয়োগ—এই চারটি পদক্ষেপ একসঙ্গে কার্যকর হলে ইনশাআল্লাহ পাথর সন্ত্রাস ধীরে ধীরে কমে একদিন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হবে।
সবশেষে, আমাদের প্রিয় সহকর্মী জনাব মোঃ শাহাবুল ইসলাম বিপ্লব ভাইয়ের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতার জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে আন্তরিকভাবে দোয়া করছি। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে দ্রুত সুস্থতা দান করুন, তাঁর পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দিন এবং আমাদের সকল রেলকর্মী ও যাত্রীকে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ থেকে হেফাজত করুন।
আমিন। সুম্মা আমিন।
©
মোঃ আব্দুল জলিল
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (বি-১৮৭৮)
রাজশাহী শাখা
তারিখ: ০৪/০৮/২০২৬ ইং।