24/09/2016
নীরার প্রেম
------------
উফ !আরেকটু ঘুমাতে দাও না,লক্ষ্মীটি ! উঠছি তো প্লিজ কাঁথা কেড়ে নিও না, বলতে বলতে আড়মোড়া দিয়ে আবারো ঘুমাতে থাকে অরণ্য। আর কাঁথা কাড়তে কাড়তে ঘুম ভাঙানোর চেষ্টা করছে সদ্য বিবাহিতা পরীর মতো মেয়ে নীরা। প্রতিদিন ভোরবেলা ফজরের আযান দিলেই উঠে পড়ে নীরা। গোসল সেরে নামাজ পড়ে, কুরআন পড়ে। তিনজনের সংসার- নীরা, অরণ্য আর নীরার শ্বশুর। সবার নাস্তা তৈরি শেষে আবার ছুটে আসে অরণ্যের বেডে। ঘুম ভাঙাভাঙির দুষ্টুমি করতে করতেই মাঝে মাঝে মিষ্টি চুম্বন আঁকে অরণ্যের কপালে, মুখে। অরণ্য কখনো জাপটে ধরে নীরাকে
আদর করে দেয় কখনো বা আবার কাঁথা মুড়ি দিয়ে মুখ লুকায়। সকাল শুরু হয়ে যায় দুজনের। সূর্য ওঠে গেরুয়া রঙের পোশাকে। জানালা দিয়ে ঢুকে পড়ে ছোট্ট ফ্ল্যাটের বেডরুমে কমলালেবুর গন্ধ নিয়ে।৭ টা বাজার আগেই বোরখা পরে নীরা, ভ্যানিটি ব্যাগ হাতে নিয়ে অরণ্যের বুকে গিয়ে আরো একটি দুটি চুম্বন আঁকে রোজ। মিষ্টি সুরে অরণ্যকে বলে, সোনা টেবিলে নাস্তা আছে খেয়ে নিও।
আর পারলে আজ একটু অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরো, একা একা আমার একদম ভাল্লাগে না। অরণ্য মিষ্টি মুখে বলে ওকে, ডার্লিংনীরা বেরিয়ে যায় বাসা থেকে আর পেছনে তাকায় বারবার দরজার সন্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা অরণ্যের দিকে, যখন আড়াল নেমে আসে দুজনের দূরত্বে হাত নাড়িয়ে টাটা দিতে থাকে ফুলের হাসি মুখে নিয়ে ওরা একে অপরকে। নীরা সানারপাড়ের একটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের বাচচাদের পড়ায়, এসিস্ট্যান্ট টিচার। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ১১টা ওর স্কুল টাইম। অরণ্য গুলশানের একটি প্রাইভেট ফার্মে শিক্ষানবীষ জব করে। ওরা মফস্বল থেকে সদ্য এসেছে ঢাকা শহরে এক বুক রঙিন স্বপ্ন নিয়ে, আগামীর পৃথিবীতে একটি সুখের নীড় গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে। নিটুট প্রেমের মালা বদল করে ওরা আজ আবদ্ধ দাম্প্যত্যের বন্ধনে। কলেজ জীবন থেকেই ওদের পরিচয়। কাক ডাকা ভোরের পাখির মতো ঠোঁটে ঠোঁটে ওরা কথা বলতো তখন থেকেই অনর্গল। । (চলবে)