16/05/2026
কাবা শরীফের উত্তর পাশে অর্ধবৃত্তাকার যে দেয়ালটি দেখা যায়, অনেকেই সেটিকে শুধু একটি আলাদা অংশ মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে এটি এমন একটি স্থান যার সঙ্গে কাবার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এই স্থানটি আমরা সাধারণত হাতিম বা হিজর ইসমাইল নামে চিনি। 🕋
ইতিহাস থেকে জানা যায়, কুরাইশরা যখন কাবা শরীফ পুনর্নির্মাণ করেছিল, তখন তাদের কাছে পর্যাপ্ত হালাল সম্পদ ছিল না। ফলে কাবার একটি অংশ তারা মূল কাঠামোর বাইরে রেখে দেয়। পরে সেই অংশটি আলাদা করে দেয়াল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয় যাতে বোঝা যায় এটি কাবার অন্তর্ভুক্ত। এই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কারণেই একে “হাতিম” বলা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।
এই স্থানটি “হিজর ইসমাইল” নামেও পরিচিত। ইতিহাসে উল্লেখ আছে, নবী ইবরাহিম (আ.) এখানে ইসমাইল (আ.)-এর জন্য একটি আশ্রয়স্থল তৈরি করেছিলেন যেখানে তিনি ও তাঁর পশুপাল অবস্থান করতেন। এ কারণেও এই স্থানটির বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই অংশটি কাবা শরীফের অন্তর্ভুক্ত।
তাই হাতিমের ভেতরে সালাত আদায় করা মানে কাবার ভেতরে সালাত আদায় করার সমান মর্যাদা লাভ করা। এই কারণেই অনেক হাজি ও উমরাহকারী সুযোগ পেলে এখানে নামাজ পড়ার চেষ্টা করেন।
এই অংশের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো কাবার ছাদে থাকা মিজাব (সোনালি পানিনিষ্কাশন নালী) থেকে বৃষ্টির পানি সরাসরি এই এলাকায় পড়ে। তাই অনেকেই এটিকে বিশেষ বরকতময় স্থান হিসেবেও দেখেন।
ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে এই স্থানের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে। আব্বাসীয় যুগে খলিফা আবু জাফর আল-মানসুর হজের সময় এই অংশটি দেখে এটিকে মার্বেল দিয়ে আবৃত করার নির্দেশ দেন। পরে খলিফা আল-মাহদি সাদা, সবুজ ও লাল মার্বেল দিয়ে এটি নবায়ন করেন। পরবর্তীতেও মক্কার শাসকদের মাধ্যমে এর সংস্কার করা হয়েছে। এমনকি একবার কাবার গিলাফের মতো এই অংশেও কাপড় দেওয়ার ঘটনাও ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।
এই স্থানটির একাধিক নাম ইতিহাসে পাওয়া যায়; হিজর, জদর, হিজর ইসমাইল, এমনকি হাতিম। তবে সব নামের মধ্যেই একটি বিষয় স্পষ্ট এটি কাবা শরীফের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিশেষ অংশ।
মসজিদুল হারামে গেলে, হাতিমে সালাত আদায়ের একটি সংকল্প করতে পারেন।
কারণ এই স্থানটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে কাবার গভীর সংযোগ, ইতিহাস এবং নবীদের স্মৃতি।
হয়তো এই অর্ধবৃত্তাকার ছোট্ট অংশেই আপনার এমন একটি সালাত আদায়ের সুযোগ হবে
যা কাবার ভেতরে দাঁড়িয়ে আদায় করার সমান মর্যাদা বহন করে। 🤍
আমীন