08/08/2025
🕌🇧🇩কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদঃ কোটি টাকার সিন্দুক!🇧🇩
🖼️২৬-০৮-২০২০
কিশোরগঞ্জ জেলা ভ্রমণ করবে এবার অত্যন্ত একটি প্রসিদ্ধ পাগলা মসজিদ নিয়ে:
📌কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত পাগলা মসজিদ শুধু একটি ইবাদতখানা নয়, এটি যেন এক অপার রহস্য আর বিশ্বাসের কেন্দ্র। এর নামকরণের পেছনে যেমন লুকিয়ে আছে নানা লোককথা, তেমনি এর বিপুল পরিমাণ দান আর অলৌকিক মানত পূরণের গল্প এটি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ধর্মীয় স্থানে পরিণত করেছে।
📓 ইতিহাস ও নামকরণ:
➡️পাগলা মসজিদের নামকরণের পেছনে একাধিক জনশ্রুতি রয়েছে। সবচেয়ে প্রচলিত জনশ্রুতি অনুযায়ী, 'পাগলা বাবা' নামে একজন আধ্যাত্মিক সাধক নরসুন্দা নদীর মাঝখানে মাদুর পেতে ভেসে এসে বর্তমান মসজিদের কাছে বসতি স্থাপন করেন এবং এখানে তার অনেক ভক্ত সমাগম হতো। তার মৃত্যুর পর তার সমাধির পাশে এই মসজিদটি নির্মিত হয় এবং তার নামানুসারেই এটি 'পাগলা মসজিদ' নামে পরিচিতি লাভ করে।
"অন্য একটি জনশ্রুতি অনুযায়ী, ঈশা খাঁর বংশধর দেওয়ান জিলকদর খান, যিনি 'জিল কদর পাগলা সাহেব' নামে পরিচিত ছিলেন, তিনি এই নদীর তীরে বসে নামাজ পড়তেন। পরবর্তীতে তার নামানুসারে মসজিদটি নির্মিত হয়। আবার কেউ কেউ বলেন, হয়বতনগর জমিদার পরিবারের এক নিঃসন্তান বেগম, যাকে সবাই 'পাগলা বিবি' বলে ডাকত, তিনি স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন, তাই এর নাম হয় 'পাগলা বিবির মসজিদ' যা পরবর্তীতে পাগলা মসজিদ নামে পরিচিত হয়।"
🧱স্থাপত্য ও অবস্থান:
➡️কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া নামক স্থানে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় ৩ একর ৮৮ শতাংশ জমির ওপর এই মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সটি অবস্থিত।
➡️প্রথম দিকে এটি মাত্র ১০ শতাংশ জমির উপর নির্মিত হয়েছিল।
➡️মসজিদটি আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি। এতে একটি সুউচ্চ মিনার এবং তিনটি বড় গম্বুজ রয়েছে।
➡️মসজিদের পাশ দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী খনন করে দৃষ্টিনন্দন সেতু ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছে।
➡️পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের জন্যও এখানে নামাজ আদায়ের আলাদা ব্যবস্থা আছে।
🏤পাগলা মসজিদের বিশেষত্ব:
➡️পাগলা মসজিদ তার বিপুল দান-খয়রাতের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এটি শুধু মুসলিমদের কাছেই নয়, সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের কাছে একটি পবিত্র ধর্মীয় স্থান হিসেবে গণ্য। অনেক মানুষের বিশ্বাস, এই মসজিদে একনিষ্ঠ মনে মানত বা দান করলে তাদের মনের আশা পূর্ণ হয়। তাই প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ এখানে দান করতে আসে।
✔️দান এবং ব্যবস্থাপনা:
➡️মসজিদটিতে নগদ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা, রূপা, গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি ইত্যাদি দান করা হয়।
➡️মসজিদের দানের টাকা রাখার জন্য অনেকগুলো সিন্দুক রয়েছে, যেগুলো সাধারণত প্রতি তিন থেকে চার মাস পর পর খোলা হয়।
➡️প্রাপ্ত দানের পরিমাণ এতই বেশি যে, তা গণনার জন্য জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সাহায্য নিতে হয়।
➡️এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি রয়েছে।
➡️দানের অর্থ থেকে মসজিদ কমপ্লেক্সের ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি অন্যান্য মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা হয়।
➡️বর্তমানে, এই দানের অর্থ ব্যবহার করে এখানে একটি আন্তর্জাতিক মানের ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ চলছে, যা শেষ হলে একসঙ্গে প্রায় ৩০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সম্প্রতি এই মসজিদের জন্য একটি ওয়েবসাইটও চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে অনলাইনেও দান করার সুযোগ রয়েছে।
🚘যাতায়াত ব্যবস্থা:
🚎🛺ঢাকা(মহাখালী→কিশোরগঞ্জ ( ভাড়া ১৫০)/ সিএন জি (গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ১৫০ (১ জন)→ কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্যেই, রিকশায় যাওয়া যায় (ভাড়া ৩০ টাকা)।
🗞️শেষ কথা :
➡️পাগলা মসজিদ বাংলাদেশের বুকে এক অনন্য ধর্মীয় ও সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। এর বিপুল দান, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা।মসজিদটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক মানের ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ আরও একবার প্রমাণ করে যে, এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু একটি নির্দিষ্ট এলাকার নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের গর্ব।
আমি বলব ভ্রমণের জন্য সময় বের করে ঘুরে আসতে পারেন এই সুন্দর মসজিদটি থেকে।
#পাগলা_মসজিদ #কিশোরগঞ্জ #পাগলামসজিদ #কিশোরগঞ্জের_পাগলা_মসজিদ #দান_বাক্স #মসজিদ #নরসুন্দা_নদী #আশা_পূরণ #কিশোরগঞ্জ_জেলা #ভাইরাল_মসজিদ