08/08/2026
ব্যেটা মানুষ আসলে নিজেই জানেনা যে, সে কি চায়?!
সে এটাও জানেনা ভালোবাসা কিভাবে প্রকাশ করতে হয়।
এক চাচা তার বউকে উঠতে বসতে যন্ত্রণা দিতো। তার কথা ছাড়া বেচারি কোথাও যেতে পারতো না। তার আদেশ মতো সারাদিন ঘরের কাজ করতে হতো তার বউকে। ঘরের কাজে বউ এর একটু ভুল হলেই তুলকালাম করতে ভুল হতো না চাচার।
এভাবে ডমিনেট করার পরও বউকে তিনি ভিষন ভালোবাসতেন।
বিয়ের অনেক বছর পার হবার পরও যখন তাদের বাচ্চা হচ্ছিলো না তখন তার পরিবার আর আসেপাশের সবাই তখন চাচিকে অনেক কথা শোনাচ্ছিল।
তিনি তখন তাদের কথা থেকে বাচতে চাচিকে নিয়ে ঢাকা চলে আসেন।
তারপর অনেক বছর চেষ্টার পর যখন তার স্ত্রী সন্তান প্রসব করে।
তখন ডেলিভারির সময় ডাক্তার বলেন অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল!! বাচ্চা অথবা মা একজনকে বাচানো যাবে।
এই কথা শুনে চাচা হাউমাউ করে কাদতে লাগ্লেন।
বললেন "ডাক্তার সাব আমার বউ ছাড়া আমার কিচ্ছু লাগবেনা। আমার বউরে বাচান, আমার বউরে বাচান!!!"
এরপর আল্লাহর রহমতে তাদের ছেলেমেয়ে হলো।
চাচার বয়স হলো। সারাজীবন চাচার জন্য চাচি ঘরবন্দী রইলো। শেষ বয়সে চাচার দেখাশুনা করতে চাচি কোথাও যেতে পারতো না। চাচিকে এক মিনিট না দেখলেই চাচা পাগলের মতো চিতকার চেচামেচি করতেন।
একদিন চাচা এতোই অসুস্থ হলেন যে তাকে হাস্পাতালে নিতে হলো। তার অবস্থা দেখে ডাক্তার তাকে তৎক্ষনাৎ ভর্তি হতে বললেন।
কিন্তু চাচা মনের জোরে বললেন তিনি বাসায় যাবেন।
সবার অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে রাত ২টায় এম্বুলেন্স এ করে বাসায় ফিরিয়ে আনা হলো।
এবার তার শরীর আরও খারাপ হলো।
সারা রাত সবাই মিলে তার সেবা যত্ন করলো। মাথায় পানি ঢালা হলো।
আজানের পর চাচা যখন একটু চোখ বুঝলেন।
চাচি নামাজ পরে এসে তার পানের বাটা খুলে দেখলেন পান শেষ।
পান নাই দেখে চাচি আফসোস করে মনের অজান্তেই বললেন " একটা পান ও নাই, এখন কি খাই!" বলেই একটু গা এলিয়ে শুলেন চাচার পাশে।
শুয়েই ঘুমিয়ে গেলেন।
একটু পরেই চোখ মেলে দেখলেন চাচা নাই।
নাই মানে কোথাও নাই!
যেই মানুষ টাকে ধরে ধরে হাটানো হলো রাতেও সে এখন কোথায় গেলো!
সবাই যখন তাকে খুজতে অস্থির তখন তিনি নিজেই ফিরে এলেন!
তিনি এসে চাচির হাতে পান গুজে দিয়ে বললেন "এই নেও পান।আমি এখনো মরিনাই। আমি যতদিন আছি ততদিন পর্যন্ত তোমার পানের বাটা খালি থাকবে না ইন শা আল্লাহ। "
ভাবা যায়?
মরনাপন্ন অবস্থায় যে বউএর পানের ব্যবস্থা করতে পারে সেই পুরুষই আবার বউকে কষ্ট দেই ।