18/04/2026
ইস্রাএলের একমাত্র দূর্বলতা হইলো তার জমির সীমাবদ্ধতা।
সে টেকনোলজিতে, মিলিটারি ফিল্ডে একদম টপ টিয়ারে আছে।
কিন্তু তার দূর্বলতা তার সীমিত ল্যান্ড মাস।
ইস্রাএলের এরিয়া হইলো মাত্র ২০,৭৭০ বর্গ কিলোমিটার। বাংলাদেশও তার থেকে ৭ গুণ বড়।
আর ইরান তো ৭৫ গুণ বড়।
ইস্রাএল ছোট দেশ হওয়ার কারণেই ইরান ইস্রাএলের জন্য হুমকি হইতে পারে।
ছোট একটা জায়গায় ইরান কনসেন্ট্রেট করে মিসাইল আক্রমণ চালাইতে পারে।
ইরানের মতো সাইজে বড় হইলে ইস্রাএলের মিলিটারি সাইটগুলাও ডিসেন্ট্রালাইজড হইতো। ছড়ানো ছিটানো থাকতো।
তখন তাকে আক্রমণ করাও হইতো অনেক ডিফিকাল্ট।
এইজন্য দেখবেন যেকোন কনফ্লিক্টে ইস্রাএলের মূল লক্ষ্য থাকে আরেকটু ল্যান্ড দখল করে নেয়া।
সিরিয়ায় যখন ২৪ এর ডিসেম্বরে আসাদের পতন হইলো তখনও সে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোলান হাইটসের ভিতরে পুশ করে। পুরো গোলান হাইটস (১,২০০ বর্গ কিলোমিটার) দখল করে নেয়, এর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিম সিরিয়ার আরও ৫০০ বর্গ কিলোমিটারের বেশি ভূমিও দখল করে।
আর এমনিতে তো প্যালেস্টাইনের মধ্যে প্রতিনিয়ত সেটেলমেন্ট তৈরি করতেসেই।
ইরানের সাথে যুদ্ধ বন্ধ হয়ে গেসে কিন্তু ইস্রাএল লেবাননে সিজফায়ার করতে চাচ্ছে না!
কেন?
ভূমি দখল সে থামাতে চায় না তাই।
তার লক্ষ্য হলো এই মোমেন্টামে লেবাননের ভিতরে আরেকটু পুশ করা ও তার স্থলসীমা বাড়ানো।
অলরেডি নেতানিয়াহু লেবাননের ভেতরের বেশ কয়েকটা এরিয়া অফিশিয়ালি ইস্রাএলের বলে ঘোষণা দিসে।
তার লক্ষ্য হইলো নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস পর্যন্ত পুরা ভূমি নিজের দখলে নেয়া। তার ম্যাপের উপর নিচের দুইটা নীল দাগ এই দুইটা নদীকে ইঙ্গিত করে বলেই ধরে নেয়া হয়।
দুনিয়ায় এমন একটা সুপারপাওয়ার নাই যাদের ল্যান্ডমাস ছোট।
বরং আম্রিকা, চায়না, রাশিয়া, ভারত সবাই যথাক্রমে ৪র্থ, ৩য়, ১ম, ৭ম বৃহত্তম দেশ ল্যান্ড মাসের দিক দিয়ে।
দুনিয়ার সব বড় বড় কোম্পানিতে ইস্রাএলের মালিকানা আছে, কন্ট্রোল আছে।
আম্রিকার পলিটিক্সে ইস্রাএলের লবি কত শক্তিশালী ঐটা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তার নিউক্লিয়ার ওয়েপনও আছে।
কিন্তু একটা হেজেমনি, একটা সুপারপাওয়ার হওয়ার জন্য দরকার ইন্ডাস্ট্রিয়াল সক্ষমতা, দরকার প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি। এইটা দরকার স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য। সেলফ সাফিশিয়েন্ট হওয়ার জন্য।
ল্যান্ড ছাড়া অস্ত্রের ফ্যাক্টরি বসাবে কই ইস্রাএল?
সুতরাং ইরান যুদ্ধে ইস্রাএল তার হিস্যা ঠিকই বুঝে নিয়েছে ও নিচ্ছে।
গ্রেটার ইস্রাএল প্রতিষ্ঠার যে প্ল্যান সেদিকে আগাচ্ছে আর এন্ড টাইমসের শুরুয়াতের নিশানা আবারও গভীর হচ্ছে।