23/04/2026
বাংলাদেশ রেলওয়েতে গার্ডের কাজ কি?
বাংলাদেশ রেলওয়ের গার্ড (গ্রেড-২) একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং দায়িত্বশীল পদ। এই পদের ডিউটি শিডিউল এবং সুযোগ-সুবিধার বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো:
ডিউটি শিডিউল:-
রেলওয়ে গার্ডের ডিউটি কোনো নির্দিষ্ট অফিস সময়ের (যেমন ৯টা-৫টা) মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি মূলত একটি রোস্টার ভিত্তিক কাজ।
অনিয়মিত সময়: ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী দিন বা রাত—যেকোনো সময় ডিউটি পরতে পারে। ট্রেন ছাড়ার নির্দিষ্ট সময় আগে স্টেশনে উপস্থিত হয়ে ট্রেন পরিচালনার যাবতীয় প্রস্তুতি নিতে হয়।
রানিং ডিউটি: যতক্ষণ ট্রেন গন্তব্যে না পৌঁছায়, ততক্ষণ পর্যন্ত ডিউটি চলে। অনেক সময় কুয়াশা, কারিগরি ত্রুটি বা লাইন ক্লিয়ারেন্সের কারণে ট্রেনের বিলম্ব হলে ডিউটি দীর্ঘায়িত হতে পারে।
বিশ্রাম (Rest): একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর পর পরবর্তী ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এই সময়টুকুতে রেলওয়ের 'রানিং রুম'-এ বিশ্রামের ব্যবস্থা থাকে। সদর দপ্তরে ফেরার পর নিয়ম অনুযায়ী সাপ্তাহিক বা পর্যায়ক্রমিক ছুটি পাওয়া যায়।
সুযোগ-সুবিধা
তবে এর সাথে বেশ কিছু আকর্ষণীয় অতিরিক্ত সুবিধা যুক্ত হয়:
মাইলেজ ভাতা (Running Allowance): এটি এই পদের সবচেয়ে বড় সুবিধা। ট্রেনের চাকা যত কিলোমিটার ঘুরবে, সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে ভাতা পাওয়া যায়। সাধারণত মাসের মূল বেতনের একটি বড় অংশ বা ক্ষেত্রবিশেষে সমপরিমাণ টাকা মাইলেজ হিসেবে পাওয়া সম্ভব।
রানিং রুম সুবিধা: ডিউটির মাঝে অন্য স্টেশনে অবস্থানের সময় উন্নতমানের আবাসন, খাবার এবং বিশ্রামের সুবিধা পাওয়া যায়।
চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষা: রেলওয়ের নিজস্ব হাসপাতালে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা সেবা এবং সন্তানদের জন্য রেলওয়ে স্কুলে পড়ার কোটা ও সুবিধা থাকে।
পাস সুবিধা (Privilege Pass): সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ট্রেন ভ্রমণে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে টিকিট কাটার সুবিধা পাওয়া যায়।
পদোন্নতি: দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গার্ড (গ্রেড-১) এবং পরবর্তীতে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (TI) বা স্টেশন মাস্টারের সমমর্যাদার প্রশাসনিক পদে যাওয়ার সুযোগ থাকে।
কাজের চ্যালেঞ্জ
সুবিধা থাকলেও এই পেশায় কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেমন—উৎসব বা ছুটির দিনেও ডিউটি থাকতে পারে এবং দীর্ঘ সময় পরিবারের বাইরে থাকতে হয়। তবে রেলওয়ে পরিচালনার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে এই পেশার সামাজিক মর্যাদা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বেশ ভালো।