18/10/2025
🕋 মিকাত কী? কোথা থেকে ইহরাম পরতে হয় — ইতিহাস, নিয়ম ও নির্দেশনা।
🌍 🔹 মিকাত (Miqat) মানে কী?
“মিকাত” শব্দটি আরবি মূল “ওয়াক্ত” (وقت) থেকে এসেছে, যার অর্থ নির্দিষ্ট সময় বা স্থান নির্ধারণ করা।
শরিয়তের পরিভাষায় মিকাত হলো এমন নির্দিষ্ট সীমা বা স্থান, যার বাইরে থেকে কেউ ইহরাম ছাড়া মক্কার দিকে প্রবেশ করতে পারে না।
এই সীমা অতিক্রমের আগে ইহরাম না পরলে তা নিয়মবিরুদ্ধ, এবং দম (কোরবানি) দিতে হয়।
📜 🔹 মিকাত নির্ধারণের ইতিহাস
মীকাত নির্ধারণ করেছেন রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজ হাতে,
হিজরি নবম বা দশম সালে।
হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে —
> عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ:
وَقَّتَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ ذَا الْحُلَيْفَةِ،
وَلِأَهْلِ الشَّامِ الْجُحْفَةَ،
وَلِأَهْلِ نَجْدٍ قَرْنَ الْمَنَازِلِ،
وَلِأَهْلِ الْيَمَنِ يَلَمْلَمَ،
فَهُنَّ لَهُنَّ وَلِمَنْ أَتَى عَلَيْهِنَّ مِنْ غَيْرِ أَهْلِهِنَّ مِمَّنْ أَرَادَ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ.
— (সহিহ বুখারী, হাদীস: 1524; সহিহ মুসলিম: 1181)
অর্থ: ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত — রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
➤ মদীনার অধিবাসীদের জন্য যিলহুলাইফাহ,
➤ শামের জন্য জুহফাহ,
➤ নাজদের জন্য কারনুল মানাজিল,
➤ ইয়েমেনের জন্য ইয়ালামলাম —
মিকাত নির্ধারণ করেছেন।
এই স্থানগুলো শুধু ঐ দিকের বাসিন্দাদের জন্যই নয়, যে কেউ ঐ দিক থেকে আসবে - তার জন্যও একই মীকাত নির্ধারিত।
পরে হযরত উমর (রাঃ) ইরাকের দিক থেকে আসা লোকদের জন্য পঞ্চম মীকাত
➤ যাতুল এরক নির্ধারণ করেন। (সহিহ বুখারী, ফাতহুল বারী 3/390)
🕌 🔹 মিকাতের ধরন ৫টি
মীকাতের নাম দিক যাত্রীদের উৎস
১️⃣ Dhul-Hulaifah (ذو الحليفة) উত্তর দিক মদীনা ও উত্তরের অঞ্চলের জন্য।
২️⃣ Al-Juhfah (الجحفة) উত্তর-পশ্চিম শাম, মিশর, ইউরোপ দিক থেকে আগতদের জন্য।
৩️⃣ Qarn al-Manazil (قرن المنازل) পূর্ব দিক নাজদ, রিয়াদ, তাইফ দিক থেকে আগতদের জন্য।
৪️⃣ Yalamlam (يلملم) দক্ষিণ দিক ইয়েমেন, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান দিক থেকে আগতদের জন্য।
৫️⃣ Dhat Irq (ذات عرق) উত্তর-পূর্ব দিক ইরাক, কুয়েত দিক থেকে আগতদের জন্য।
✈️ 🔹 বিমানযাত্রীদের জন্য নির্দেশনা
যারা সরাসরি ফ্লাইটে যাচ্ছেন (যেমন: ঢাকা–জেদ্দা, ঢাকা–মদিনা),তারা মীকাত পার হওয়ার আগে — অর্থাৎ বিমান থেকে ঘোষণা শোনার পরই ইহরাম পরে নিয়ত করবেন। বা এয়ারপোর্টেও এহরাম পরে নিতে পারেন।
✈️ ক্রুরা সাধারণত ঘোষণা দেন —
> “মিকাত আসছে, যাত্রীরা ইহরাম পরে নিন।”
📍 বাংলাদেশি যাত্রীদের মীকাত হলো Yalamlam দিক, অতএব বিমানে বসেই ইহরাম পরে নিয়ত করতে হয়।
---
🕋 🔹 সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের জন্য
শহর মীকাত / স্থান নির্দেশনা
🕌 মদিনা Masjid Shajarah (Dhul-Hulaifah) এখান থেকেই ইহরাম পরিধান করবেন।
🏙️ রিয়াদ / তাইফ Qarn al-Manazil এই পথেই ইহরাম পড়বেন।
🌴 জেদ্দা মিকাতের ভেতরে, তাই আগে থেকেই ইহরাম পরে প্রবেশ করতে হয়।
🕌 মক্কার আশেপাশে বসবাসকারী Masjid Aisha (Taneem) অতিরিক্ত উমরাহ করতে চাইলে এখান থেকেই ইহরাম পড়তে হয়।
🏖️ ইয়েমেন সীমান্ত দিক Yalamlam দক্ষিণ দিক থেকে আগতদের জন্য।
💧 🔹 ইহরামের আগে করণীয়
১. গোসল করুন, শরীর পরিষ্কার রাখুন
২. চুল বা দাড়ি কাটুন না
৩. পুরুষরা দুই টুকরা কাপড় পরবেন (ইহরাম)
৪. মহিলারা সাধারণ পোশাকেই নিয়ত করবেন
৫. ইহরামের আগে সুগন্ধি ব্যবহার করা জায়েজ (ইহরাম পরে নয়)
📖 রেফারেন্স:
> সহিহ বুখারী, হাদীস ১৫৩৯
সহিহ মুসলিম, হাদীস ১১৮৪
ইবনু হাজর আল-আসকালানী, ফাতহুল বারী, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৯৩
💭 🔹 নিয়তের দোয়া
> لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ عُمْرَةً
উচ্চারণ: লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা উমরাহ
অর্থ: ❝হে আল্লাহ! আমি উমরাহর নিয়ত করলাম।❞
🔹 তলবিয়া
> لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْك، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْك، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ
উচ্চারণ: লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকালাকা লাব্বাইক…
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি হাজির আছি, তোমার কোনো শরিক নেই; সমস্ত প্রশংসা, নিয়ামত ও রাজত্ব তোমারই।”
---
✅ সংক্ষিপ্ত সারাংশ
🔸 মীকাত অতিক্রমের আগে ইহরাম পরা ফরজ।
🔸 ইহরামের আগে গোসল ও সুগন্ধি জায়েজ।
🔸 যারা মীকাত ছাড়া প্রবেশ করবে, তাদের দম দিতে হবে।
🔸 বিমানযাত্রীরা মীকাতের আগে বিমানে ইহরাম পরবে।
🔸 সৌদির অভ্যন্তরে অবস্থানকারীরা তাদের নিকটস্থ স্থানে ইহরাম পরবে।
আল্লাহ আমাদেএ সবাইকে তার বাইতুল্লাহ জেয়ারত এর জন্য ক্ববুল করুন,এবং সঠিক ভাবে বাইতুল্লাহর হক্ব আদায় করার তাওফিক দান করুন,আমীন।