04/09/2025
🖋কাবা ঘরের ইতিহাস - পবিত্র কাবা আল্লাহর ঘর।তারিখ-আল-ইয়াকুবিয় তথ্যমতে,হজরত আদম (আঃ) এর জন্মের দুই হাজার বছর আগে আল্লাহ পাকের ইবাদাতের উদ্দেশ্যে বায়তুল মামুরের অনুকরণে ফেরেশতাগণ এ ঘর নির্মাণ করেন। এর অবস্থান মক্কা নগরীতে যা ভৌগলিক ভাবে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যস্থলে। মূলত কাবার সৃষ্টির ইতিহাস কমবেশি সকলের জানা। তাই এর স্থাপত্যগত ইতিহাসে কিছুটা আলোকপাত করা যাক।
সায়মুতি তার বিখ্যাত গ্রন্থ তারিখ-আল-মক্কাতে উল্লেখ করেছেন,পবিত্র কাবাঘর নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ সংঘটিত হয় দশবার।
প্রথমবার, হজরত আদম (আঃ) এর সৃস্টির দুই হাজার বছর
আগে আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশ্তাগণ কর্তৃআ নির্মিত।
দ্বিতীয়বার, হজরত আদম (আঃ) হেরা পর্বত, তুরে সিনা, তুরে
জিইতা,জুদি ও লেবানন পাহাড়ের পাথর সংগ্রহ করে
কাবা নির্মাণ করেন
তৃতীয়বার, কাবা নির্মিত হয় আদম (আঃ) এর পুত্র শিষ (আঃ)
কর্তৃক যা নুহ (আঃ) এর সময়ের প্লাবনে ঢাকা পড়ে
যায়।
চতুর্থবার, আল্লাহর নির্দেশনা মোতাবেক হজরত ইবরাহিম (আঃ)
ও ইসমাইল (আঃ) ৯ গজ উঁচু,৩০ গজ লম্বা, ২৩ গজ
চওড়া ও ২ দরজা বিশিষ্ট কাবা নির্মাণ করেন।
এরপর পঞ্চমবার আমালিকা গোত্র, ষষ্ঠবার জোরহাম গোত্র, সপ্তমবার নির্মাণ
করেন মহানবি (সাঃ) এর ৫ম পুর্বপুরুষ কোসাই ইবনে কোলাব। অষ্টমবার নতুন করে তা নির্মাণ করে কুরাইশরা, নবি (সাঃ) এর বয়স তখন ৩৫ বছর।তিনি নিজে এ নির্মাণকাজে শরিক হোন।
নবমবার, হযরত ইবরাহিম (আঃ) এর অনুরুপে কাবা নির্মাণ
করেন আব্দুল্লাহ ইবন জুবাইর রঃ।
দশমবার, খলিফা অলিদ ইবন আব্দুল মালিকের নির্দেশে জুবাইর
নির্মিত কাবা ভেঙ্গে কুরাইশ নির্মিত কাবার অনুরুপে
পুনরায় নির্মাণ করেন হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ, যা
আজ পর্যন্ত বর্তমান।
পরবর্তীকালে খলিফা হারুন আর রশিদ চেয়েছিলেন হাজ্জাজ বিন ইউসুফের নির্মিত কাবা ভেঙ্গে রাসুল (সাঃ) এর আকাঙ্খা মোতাবেক হযরত ইবরাহিম (আঃ) এর অনুরুপ করে নির্মাণ করবেন, কিন্তু তা সম্ভব হয় নি। ইমাম মালিক (রাঃ) কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেন যে এতে করে কাবাঘর ভাঙ্গা-গড়া রাজা বাদশাহদের খেল তামাশায় পরিণত হবে। সব ওলামায়ে কেরামও এতে ঐকমত্য পোষণ করেন।
ইতিহাস হতে জানা যায়, ১৬০১ সালে (১০২১ হিঃ) সুলতান আহমদ তুর্কি কাবা মেরামত করেন। ১৯৪৭ সালে (১৩৬৭ হিঃ) মহররম মাসে বাদশাহ আজিজ ইবন সাউদ কাবার দরজা নতুন করে তৈরী করেন।
হজরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর কাবা পুনর্নির্মাণের পুর্বে কাবা ছিল পাথরের নির্মিত চার দেয়ালওয়ালা ছাদবিহীন ও একজন মানুষের উচ্চতার সমান।নবি কারীম (সাঃ) এর নির্মিত কাবা ছিল ১৮ গজ লম্বা যা আবিসিনীয় পদ্ধতিতে এক স্তর পাথর আর এক স্তর কাঠ দিয়ে পর্যায়ক্রমে ১৬ টি পাথরের স্তর আর ১৫ টি কাঠের স্তরের সমন্ময়ে ৩১ টি স্তরে নির্মাণ করা হয়।ইয়াকুবির তথ্য অনুসারে ৬টি স্তম্ভের উপর কাঠের ছাদ ছিল। আবিসিনীয় বাকুম রাজমিস্ত্রী (খ্রিস্টান কারিগর) কাঠমিস্ত্রীর কাজ করেছিলেন।
কথিত আছে ইয়েমেনের রাজা তুব্বা-আসআদ আবু কারিব আল হিমআরি নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষার জন্য সর্বপ্রথম কাবায় গিলাফ পড়ান বর্তমানে গিলাফ মক্কার দারুল কিসওয়ায় তৈরি হয়।খাঁটি প্রাকৃতিয়া রেশমি কাপড়ের মধ্যে কুর্আন শরিফের কিছু আয়াত শোভা পায়। অক্ষরগুলো সোনালি আভায় উদ্ভাসিত। (সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত) ✔