Time Travel With Jafir

Time Travel With Jafir "History Reimagined. Memories Rediscovered."

সম্রাট জাহাঙ্গীরের প্রেম, রাজনীতি ও উত্তরাধিকার—এক অমর কাহিনি১৬০৭ সালের এক রক্তাক্ত দিনে, বাংলার বর্ধমানের জায়গিরদার শের...
07/11/2025

সম্রাট জাহাঙ্গীরের প্রেম, রাজনীতি ও উত্তরাধিকার—এক অমর কাহিনি

১৬০৭ সালের এক রক্তাক্ত দিনে, বাংলার বর্ধমানের জায়গিরদার শের আফগান নিহত হলেন।

তার তরুণী বিধবা স্ত্রী মেহের-উন-নিসা, কোলে ছোট্ট কন্যা লাডলী বেগম নিয়ে আশ্রয় নিলেন মুঘল দরবারে।

কে জানত, এই নারী একদিন পুরো সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেবেন!

বছর চারেক পর, রাজমহলের “মীনা বাজারে” সম্রাট জাহাঙ্গীরের চোখ পড়ে মেহের-উন-নিসার ওপর।

এক মুহূর্তেই রাজা হারিয়ে ফেললেন রাজনীতি, ক্ষমতা আর বুদ্ধি —

তিনি পেলেন প্রেম।

জাহাঙ্গীর তাকে বিয়ে করে নাম দিলেন ‘নূরজাহান’ — পৃথিবীর আলো।

এরপর থেকে মুঘল দরবারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি নীতি, এমনকি প্রতিটি নিঃশ্বাসেও ছিল এই নারীর ছাপ।

ইতিহাসবিদ ভিনসেন্ট স্মিথ লিখেছিলেন —

> “She was the power behind the throne.”

অর্থাৎ, সিংহাসনের পেছনের আসল শক্তি ছিলেন নূরজাহান।

তিনি শুধু সুন্দরী ছিলেন না, ছিলেন তীক্ষ্ণবুদ্ধি, শিল্পপ্রেমী ও রাজনীতিতে অদম্য কৌশলী।

জাহাঙ্গীরের নির্দেশের চেয়ে তার নির্দেশই ছিল চূড়ান্ত।

তার নাম ও প্রতিকৃতি ছাপা হয়েছিল রাজমুদ্রায়ও — ইতিহাসে বিরল ঘটনা!

নূরজাহানের প্রভাবে তার পিতা ইতিমাদ-উদ-দৌলা ও ভাই আসফ খান রাজদরবারে উঁচু পদে উন্নীত হন।

আর মেয়ের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে তিনি নিজের কন্যা লাডলী বেগমের বিয়ে দেন জাহাঙ্গীরের পুত্র শাহরিয়ারের সঙ্গে।

এইভাবেই তিনি ক্ষমতার জাল বুনেছিলেন নিঃশব্দে — কিন্তু গভীরভাবে।

তবে, সেই প্রভাবই শেষ পর্যন্ত সাম্রাজ্যে বিদ্রোহের বীজ বপন করেছিল —

শাহজাদা খুররম (পরবর্তীতে শাহজাহান) এবং মহব্বত খান উভয়েই বিদ্রোহ করেন সম্রাটের বিরুদ্ধে।

এভাবে ভালোবাসা ও রাজনীতির দ্বন্দ্বে জাহাঙ্গীরের সাম্রাজ্য কেঁপে ওঠে।

১৬২৭ সালে জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর নূরজাহান রাজনীতি ছেড়ে লাহোরে ফিরে যান।

সেখানে নিঃশব্দে কাটান জীবনের শেষ দিনগুলো।

১৬৪৫ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন —

কিন্তু তার নাম আজও ইতিহাসে অমর,

কারণ তিনি ছিলেন সেই নারী, যিনি এক সম্রাটকে নিজের ভালোবাসার রাজ্যে বন্দি করেছিলেন

সম্রাট জাহাঙ্গীর: ভালোবাসা, ন্যায়বিচার ও শিল্পের সম্রাট

ঐতিহাসিক ঈশ্বরী প্রসাদ বলেছিলেন —

> “জাহাঙ্গীর ছিলেন মুঘল ইতিহাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব।”

তিনি একদিকে ছিলেন রুচিশীল, শিল্পপ্রেমী ও কবি-মনস্ক,

অন্যদিকে মদ্যপান, খামখেয়ালিপনা আর বিলাসিতায় ডুবে থাকা মানুষ।

লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি -----বাংলাদেশ এর নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার ডাংগা নামক এলাকায় অবস্থিত এক ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি...
10/07/2025

লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি -----
বাংলাদেশ এর নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার ডাংগা নামক এলাকায় অবস্থিত এক ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি। যা স্থানীয়দের কাছে উকিল বাড়ি নামে বেশ পরিচিত।

জমিদার লক্ষণ সাহা এই জমিদার বংশের মূল গোড়াপত্তনকারী। তবে কবে নাগাদ এই জমিদার বংশ এবং জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার সঠিক তথ্য জানা যায়নি। এই জমিদার বংশধররা অন্য জমিদারের আওতাভুক্ত ছোট জমিদার ছিলেন। তবে তাদের কখনো তারা যে জমিদারের আওতাভুক্ত ছিলেন তাদেরকে বা ব্রিটিশ সরকারকে খাজনা দিতে হয়নি। কারণ এই জমিদারী এলাকাটি ভারত উপমহাদেশের মধ্যে একমাত্র এলাকা ওয়াকফ হিসেবে ছিল। লক্ষণ সাহার তিন পুত্র সন্তান ছিল। এদের মধ্যে ছোট ছেলে ভারত ভাগের সময় ভারতে চলে যান।

এরপর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার অল্প কিছুদিন আগে বড় ছেলেও ভারতে চলে যান। থেকে যান মেঝো ছেলে। তার ছিল এক পুত্র সন্তান। যার নাম ছিল বৌদ্ধ নারায়ণ সাহা। এই বৌদ্ধ নারায়ণ সাহাই পরবর্তীতে আহম্মদ আলী উকিলের কাছে উক্ত বাড়িটি বিক্রি করে দেন। তাই আহম্মদ আলী সাহেব পেশায় একজন উকিল হওয়াতে বর্তমানে অনেকে এই বাড়িটিকে উকিল বাড়ি নামেও চিনে।

লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়িটি দ্বিতল বিশিষ্ট্য একটি ভবন। ভবনের মেছেতে কষ্টি পাথর দিয়ে ঢালাই করা। ছোট্ট একটি কারুকার্য খচিত দালান,বাগানবাড়ি,সাঁন বাঁধানো পুকুর ঘাট,পূজো করার জন্য পুকুরের চারপাশে তিনটি মঠ বা মন্দির ছিল।

জমিদার বাড়ির সবগুলো স্থাপনা মোটামুটি বেশ ভালো অবস্থাই আছে। শুধু পুকুরের চারপাশের মঠ বা মন্দিরগুলোর ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে একটি এখনো পুকুর ঘাটের কাছে মোটামুটিভাবে টিকে আছে।।

______সূত্র : উইকিপিডিয়া ✒️📸

আমাদের পুরান ঢাকার হারিয়ে যাওয়া গৌরব — বড় কাটরা ও ছোট কাটরাঢাকার বুকে দাঁড়িয়ে থাকা ইতিহাসের নীরব সাক্ষী, বড় কাটরা ও ছোট ...
22/05/2025

আমাদের পুরান ঢাকার হারিয়ে যাওয়া গৌরব — বড় কাটরা ও ছোট কাটরা

ঢাকার বুকে দাঁড়িয়ে থাকা ইতিহাসের নীরব সাক্ষী, বড় কাটরা ও ছোট কাটরা, আজ সময়ের ভীড়ে প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে।
মুঘল আমলের এই দুই স্থাপনাই একসময় ছিল বাণিজ্য ও অতিথি আপ্যায়নের প্রাণকেন্দ্র।

বড় কাটরা (১৬৪৪-১৬৪৬):
নির্মিত হয়েছিল শাহ শুজার আদেশে। এটি ছিল রাজপ্রাসাদ, পরে রূপ নেয় কারবাঁ সারাইয়ে। চকবাজারের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্থাপনার গায়ে এখনও লেগে আছে মুঘল স্থাপত্যের ছাপ।

ছোট কাটরা (১৬৬৩):
সুবাহদার শাইস্তা খানের নির্মাণ। ব্যবসায়ী ও সফরকারীদের থাকার ব্যবস্থা ছিল এখানে। সময়ের সাথে এটি হয়ে ওঠে মাদ্রাসা ও ইংরেজি স্কুলও।

আজ এই দুটি নিদর্শন অবহেলা আর আধুনিকায়নের চাপে পড়ে হারাতে বসেছে তাদের ঐতিহ্য।
এগুলো শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়, বরং ঢাকার অতীত জীবনের এক নিরব কাব্য।

সংরক্ষণই হতে পারে আমাদের শ্রদ্ধা।

#ঢাকা #পুরানঢাকা #ইতিহাস াটরা #ছোট_কাটরা #মুঘল_স্থাপত্য #সংরক্ষণ

(বিঃদ্রঃ আরো বিস্তারিত ছবির ক্যাপশনে দেয়া আছে)

লালবাগ কেল্লা: ঢাকা শহরের বুকে এক ঐতিহাসিক সাক্ষ্যযখনই আমরা ঢাকার ইতিহাসের দিকে তাকাই, তখন এক ঐতিহ্যবাহী নাম আমাদের চোখে...
21/05/2025

লালবাগ কেল্লা: ঢাকা শহরের বুকে এক ঐতিহাসিক সাক্ষ্য

যখনই আমরা ঢাকার ইতিহাসের দিকে তাকাই, তখন এক ঐতিহ্যবাহী নাম আমাদের চোখে পড়ে—লালবাগ কেল্লা। এটি শুধু ইট-পাথরের একটি স্থাপনা নয়, বরং মুঘল সাম্রাজ্যের গৌরবময় অতীতের একটি জীবন্ত নিদর্শন। ইতিহাস, রহস্য ও ট্র্যাজেডিতে মোড়ানো এই কেল্লা আজও দাঁড়িয়ে আছে তার সমস্ত মহিমা নিয়ে।

নির্মাণের সূচনা

১৬৭৮ খ্রিষ্টাব্দে, মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব তার পুত্র শাহজাদা মোহাম্মদ আজম-কে বাংলার সুবাদার হিসেবে পাঠান। ঢাকায় এসে তিনি বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে এই দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। কিন্তু তিনি দিল্লিতে ফিরে গেলে কেল্লার নির্মাণ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

একটি ট্র্যাজিক কাহিনী

পরবর্তীতে, বাংলার প্রখ্যাত সুবাদার শাইস্তা খান এই দুর্গের দায়িত্ব নেন। ঠিক তখনই ঘটে একটি বেদনাদায়ক ঘটনা—তার প্রিয় কন্যা পারী বিবি দুর্গের মধ্যেই অকালমৃত্যুবরণ করেন। শোকাহত শাইস্তা খান মনে করেন, এই দুর্গ অভিশপ্ত। ফলে তিনি দুর্গের নির্মাণ সম্পূর্ণ না করেই কাজ বন্ধ করে দেন।

দুর্গের স্থাপত্য ও প্রধান অংশ

লালবাগ কেল্লার তিনটি প্রধান অংশ এখনো পরিদর্শনযোগ্য:

1. পারী বিবির সমাধি – সাদা মার্বেল পাথরে ঘেরা, অপূর্ব সৌন্দর্যমণ্ডিত।

2. শাইস্তা খানের বাসভবন ও প্রশাসনিক ভবন – একতলা বিশিষ্ট ভবন, যেখানে প্রশাসনিক কার্যক্রম চলত।

3. ত্রিকোণ গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ – মুঘল স্থাপত্যশৈলীর এক নিখুঁত উদাহরণ।

লালবাগ নামের উৎস

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্গটি লাল রঙের ইট দিয়ে নির্মিত হওয়ায় এর নাম হয়েছে ‘লালবাগ কেল্লা’। তবে এটি এক সময়ে ‘আওরঙ্গবাদ দুর্গ’ নামেও পরিচিত ছিল।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব

লালবাগ কেল্লা শুধু একটি দর্শনীয় স্থান নয়; এটি আমাদের ইতিহাসের, সংস্কৃতির এবং মুঘল ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক এখানে ভিড় করেন ইতিহাসের এই নিদর্শন দেখতে।

---

ঢাকার এই ঐতিহাসিক মণিমুক্তোকে যত্ন নিয়ে সংরক্ষণ করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। ইতিহাসকে জানতে হলে ইতিহাসের কাছে ফিরে যেতে হয়—আর লালবাগ কেল্লা সে ইতিহাসের এক মহান অধ্যায়।

#বাংলারইতিহাস #ঢাকারপ্রাচীনতা #ঐতিহ্যেরঢাকা

---

আহসান মঞ্জিল: এক ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভের গল্পঢাকার বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এক নীরব সাক্ষী, আহসান মঞ্জিল — নবাব পরিবারের গৌরবময়...
21/05/2025

আহসান মঞ্জিল: এক ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভের গল্প

ঢাকার বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এক নীরব সাক্ষী, আহসান মঞ্জিল — নবাব পরিবারের গৌরবময় অতীত ও উপনিবেশিক ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি।

এই প্রাসাদটি নির্মিত হয় ১৮৫৯ সালে, এবং শেষ হয় ১৮৭২ সালে, ঢাকার নবাব খাজা আব্দুল গনী-র উদ্যোগে। এটি পূর্বে ছিল ফ্রেঞ্চ ব্যবসায়ীদের কার্যালয়, যা পরে নবাবদের বাসভবন ও প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রাসাদটির নামকরণ করা হয় নবাব খাজা আব্দুল গনীর পুত্র খাজা আহসানুল্লাহ-এর নামে — সেখান থেকেই "আহসান মঞ্জিল"।

প্রাসাদটি এক সময় ঢাকার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হত। ব্রিটিশ আমলের বহু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা, বৈঠক ও সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এখানেই। এখান থেকে পরিচালিত হতো নবাবদের জমিদারি ও জনসেবামূলক নানা কার্যক্রম।

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় এটি ছিল ব্রিটিশদের পরিকল্পনার অন্যতম কেন্দ্র। তবে কালের বিবর্তনে নবাব পরিবারের আর্থিক দুরবস্থা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাসাদটি অনেকটা জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে।

১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সরকার এটি অধিগ্রহণ করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ সংস্কারের পর ১৯৯২ সালে এটি উন্মুক্ত করা হয় সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য। বর্তমানে এটি একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে, যেখানে সংরক্ষিত আছে নবাবদের ব্যবহৃত আসবাবপত্র, পোশাক, অস্ত্র ও নানা ঐতিহাসিক দলিল।

আহসান মঞ্জিল শুধু একটি প্রাসাদ নয়, এটি আমাদের ইতিহাসের অংশ — যা আজও সাক্ষ্য দেয় এক গৌরবোজ্জ্বল অতীতের।

যদি আপনি কখনও পুরান ঢাকায় যান, এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটিতে একবার হলেও ঘুরে আসুন। সময় যেন এখানে থেমে আছে...

#নবাববাড়ি #ঐতিহাসিকস্থাপনা

Address

Dhaka
Dhaka
1100

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Time Travel With Jafir posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share