19/10/2024
রাত গভীর, কিন্তু শহরের কোলাহল থেমে যায়নি। মসজিদের মাইকে আজান ভেসে আসছে। আযান শুনেই ছোট্ট আলি ঘুম থেকে উঠে পড়ল। আজ তার জন্য বিশেষ দিন। আজ সে প্রথমবার ফজরের নামাজ মসজিদে গিয়ে পড়বে।
আলি মাত্র ৭ বছর বয়সী। তার দাদা, যিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ মানুষ, আলিকে সব সময় ইসলামের কথা শেখাতেন। তিনি বলতেন, "আলি, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হলো একজন মুসলিমের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নামাজ আমাদের আল্লাহর সাথে সংযোগ তৈরি করে।"
আলির দাদা কিছুদিন আগে ইন্তেকাল করেছেন। তার জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষটি চলে যাওয়ার পর, আলি অনুভব করল যে দাদার শেখানো কথা তাকে একা থাকতে দেবে না। তাই আজ সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মসজিদে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়বে।
আলি ধীরে ধীরে পায়ে হাঁটতে লাগল মসজিদের দিকে। চারদিকে অন্ধকার, কিন্তু তার মনে কোনো ভয় নেই। তার মনে শুধু একটাই ভাবনা—আল্লাহ সব সময় তার সাথে আছেন। দাদাও একসময় বলেছিলেন, "যখনই তুমি নামাজে দাঁড়াবে, মনে করবে তুমি আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে আছো। তুমি একা নও।"
মসজিদে পৌঁছানোর পর আলি দেখল, কয়েকজন মানুষ নামাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ছোট্ট আলি এক কোনায় দাঁড়িয়ে দেখল তারা কিভাবে নামাজ আদায় করছেন। তারপর সে ওজু করল, দাদার শেখানো নিয়মে, এবং নামাজের কাতারে দাঁড়িয়ে গেল।
ইমাম সাহেব তাকবির দিলেন, আর আলির হৃদয়ে একধরনের শান্তি নেমে এল। সে আল্লাহর সামনে নিজের সব কষ্ট, সব আশা পেশ করল। ছোট্ট বয়সে তার হৃদয়ে এতটা গভীর অনুভূতি আসতে পারে, সে ভাবতে পারেনি।
নামাজ শেষ হওয়ার পর আলির মনে হলো যেন সে আল্লাহর খুব কাছে চলে এসেছে। দাদার কথা মনে পড়ল, আর মনে হলো দাদা যেন দূর থেকে তাকিয়ে তাকে আশীর্বাদ করছেন। আলি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল, সে প্রতিদিনই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বে, দাদার শেখানো পথে চলবে, আর আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার চেষ্টা করবে।
মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসার সময় আলি আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, "আল্লাহ, আপনি আমার দাদাকে জান্নাতের উচ্চ স্থানে রাখুন, আর আমাকে আপনার পথে চলার তৌফিক দিন।"
আলির ছোট্ট মন আজ পূর্ণ হয়ে গেল শান্তি আর ঈমানের আলোতে। আল্লাহর উপর ভরসা এবং নামাজের গুরুত্ব তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তাকে পথ দেখাবে, এটাই ছিল আলির দাদার দেওয়া সবচেয়ে বড় শিক্ষা।