22/07/2025
⭕সতর্কতা অবলম্বন করুন :
ইতালির জাল ভিসা – ভুতের পাসপোর্ট আর নিঃস্ব স্বপ্ন!"
📍 ঘটনাস্থল: গুলশান-১, ইতালির ভিএফএস অফিস
🕛 সময়: ৩ জুলাই, দুপুর ১২টার পর
সেদিন আমি গুলশান ১-এ গিয়েছিলাম ইংল্যান্ড ও ইতালির ভিএফএস অফিসে একটা দরকারে। হঠাৎ করেই এক ভদ্রলোক এসে বললেন,
— ভাই, এম্বাসির ভেতরে যাওয়া যাবে?
আমি বললাম,
— কেন? কী দরকার?
উনি বললেন,
— ভাই, ইতালির ভিসা চেক করতে আইছি!
ততক্ষণে আর ২/৩ জন জড়ো হয়ে গেছে। আমরা সবাই হতবাক।
— ভিসা চেক করবেন মানে?
উনি ব্যাগ থেকে পাসপোর্ট বের করলেন। খুলে দেখি, হুবহু একখানা ৩৬৫ দিনের ইতালির স্পনসরশিপ ভিসার স্টিকার পাসপোর্টে ঝলমল করছে!
কি সুন্দর ডিজাইন! দেখতে একেবারে আসল!
কিন্তু আসল কি? 🤔
আমি একটু খোঁচা দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
— ভাই, আপনি কি এই অফিসে এর আগে কখনো আসছেন?
ভদ্রলোক একেবারে নির্ভেজাল মুখে বললেন,
— না ভাই, এই প্রথম!
— তাইলে ভিসা কেমনে পাইছেন? ফিঙ্গার দিলেন না? ফি দিলেন না? ছবি তুললেন না?
— ভাই, এসব তো জানিই না। আমি তো টাকা দিছি, ওনারা সব করছে।
🤦♂️ আহারে সরলতা! সরলতাই যদি হয় পুঁজি, প্রতারণা তো হবেই বন্ধু।
উনি বললেন, তিনি ইতোমধ্যে ঐ দালালকে ৮ লক্ষ টাকা দিয়ে দিয়েছেন, বাকি ৫ লক্ষ ভিসা নিশ্চিত হলেই দেবেন।
আমি একবার পাসপোর্টের পাতায় তাকালাম, আরেকবার ভদ্রলোকের চোখে।
বললাম,
— ভাই, এই ভিসা ১০০% নকল। মনে হয় নীলক্ষেতের কোনো কম্পিউটার দোকান থেকে "ভবিষ্যৎ ধ্বংস স্টিকার" লাগিয়ে দিয়েছে।
একটা কথা মনে রাখবেন:
📌 ইতালির ভিসা পেতে হলে নিজে উপস্থিত হয়ে ফিঙ্গার দিতে হয়, ছবি তোলা হয়, ফি জমা দিতে হয়। এসব না করলে ভিসা আসার প্রশ্নই ওঠে না।
ভদ্রলোক তখন চোখে পানি নিয়ে বললেন,
— ভাই, আমি তো জানতাম না। আমার সব শেষ হয়ে গেলো! 😢
আমি ঠাট্টা করে একটু ফানি ভঙ্গিতে বললাম,
— ভাই, বাড়ি গিয়ে ভাই-ব্রাদার ৪/৫ জন নিয়ে ওই লোকটারে ফোন দিয়ে বাড়িতে আনেন, তারপর একখান কচু গাছের সাথে বেঁধে বাকি টাকা উদ্ধার করেন। 😡
কিন্তু মনটা আমার খুব খারাপ লাগলো।
গ্রামের মানুষগুলো জমি ভাগে হয় চালাক, কিন্তু বিদেশ যাওয়ার সময় হয়ে যায় শিশুর মতো সরল।
🔍 বাস্তব চিত্র:
২০২৩-২৪ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৬০ হাজারের মতো Work Permit (Nulla Osta) এসেছিল বলে শোনা যায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র ৫-৬ হাজার যেতে পেরেছে। তাহলে বাকিগুলো?
✅ ৯৫% ফেক
✅ ফটোশপ দিয়ে বানানো
✅ বা টাকা দিয়ে ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে বের করা – যারা বেতনও দেয় না, কাজও দেয় না
২০১৯, ২০২১, ২০২২ সালেও এমন হাজার হাজার মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছে। কেউ ২ লাখ, কেউ ৫ লাখ, কেউ ৮ লাখ দিয়ে এখনো অপেক্ষায়।
⚠️ সতর্ক বার্তা:
ইতালির এম্বাসি এখন সরাসরি কোম্পানির মালিককে ফোন বা ইমেইল করে যাচাই করে। রিপ্লাই পজিটিভ হলেই তারা কাউকে ভিসা দিচ্ছে। বাকি সব ভুয়া। নুল ওয়াস্তা দিয়ে ২০২৪, ২০২৫ সালের অনেকেই ভিসা পাচ্ছে প্রতিনিয়ত অর্থাৎ এদের পেপারস সঠিক, বেতন পাবে, থাকার জায়গাও পাবে কোম্পানি থেকে।
⏳ ২০২৬-এ আসছে আবার ১.৬ লাখ নতুন কোটা।
তাই এখনই সচেতন হন।
আপনার পাশেই হয়তো কোনো স্ক্যামার ঘুরছে।
পাসপোর্টে স্টিকার নয়, নিজের ঘামে অর্জন করা সত্যিকারের ভিসা-ই আপনাকে পৌঁছে দিবে ইতালির মাটিতে।
✅ পরামর্শ:
√ আগে রিসার্চ করুন
√ সরকারি সাইট চেক করুন
√ ফিঙ্গার না দিলে, ছবি না তুললে — ভিসা আসার সুযোগ নেই
√ কাউকে টাকা দিলে লিখিত চুক্তি রাখুন স্বাক্ষীসহ
√ সন্দেহ হলে আগে পাসপোর্ট দেখান অভিজ্ঞ কাউকে
স্বপ্ন দেখুন, কিন্তু বোকা হবেন না।
প্রতারণার শিকার হলে শুধু টাকা যায় না, স্বপ্ন আর আত্মবিশ্বাস—সব শেষ হয়ে যায়।
**ছবি: নাফি টাওয়ারের নিচ থেকে তোলা হয়েছিল উনার অনুমতি নিয়ে (জাল ভিসা স্টিকার)
(post collected)
VFS Global
VFB Travel Network
#জালভিসা #প্রতারণা #সতর্কত