25/06/2026
*প্রণয় দাদার হারিয়ে যাওয়া রিপ্লাই*
অনেক দিন পর এক সন্ধ্যায় ফেসবুক মেসেঞ্জারে ওয়াগোয়া দেখল, প্রণয় দাদা অনলাইনে। অবাক হয়ে সে দ্রুত একটা মেসেজ দিল—
— "দাদা, বেঁচে আছেন নাকি?"
মিনিট পাঁচেক পর রিপ্লাই এলো—
— "হ্যাঁ রে, বেঁচে আছি। কেমন আছিস?"
ওয়াগোয়া তো খুশিতে আটখানা। কারণ বৌদি আসার পর থেকে প্রণয় দাদাকে পাওয়া যায় ঈদের চাঁদের মতো। অনলাইনে সবুজ বাতি জ্বলতে থাকে, কিন্তু মেসেজের উত্তর আসে না। মনে হয় মোবাইলটা শুধু অনলাইন দেখানোর জন্যই চালু রাখা হয়েছে!
ওয়াগোয়া লিখল—
— "দাদা, এতদিন কোথায় ছিলেন?"
প্রণয় দাদা উত্তর দিলেন—
— "অফিস, বাসা... এই তো!"
ওয়াগোয়া হাসতে হাসতে লিখল—
— "অফিস-বাসা না, অফিস-বৌদি-পার্ক-রেস্টুরেন্ট-কফিশপ!"
এবার কয়েক মিনিট কোনো উত্তর নেই।
ওয়াগোয়া ভাবল, আবার বুঝি হারিয়ে গেলেন!
হঠাৎ রিপ্লাই—
— "তুই সব খবর রাখিস দেখছি!"
— "খবর না দাদা, ফেসবুকই বলে দেয়। একদিন দেখলাম বৌদির সাথে কফি, আরেকদিন নদীর ধারে, তার পরদিন আবার সিনেমা হল!"
প্রণয় দাদা একটা হাসির ইমোজি পাঠালেন।
ওয়াগোয়া আবার লিখল—
— "আগে তো রাত ২টা পর্যন্ত আড্ডা দিতেন। এখন ৯টার পর আর খুঁজে পাওয়া যায় না!"
দাদা এবার একটু দার্শনিক হয়ে গেলেন—
— "বন্ধু, জীবনের আপডেট ভার্সন ইনস্টল হয়েছে।"
— "তাই বলে পুরোনো ফ্রেন্ডলিস্ট আনইনস্টল করে দিতে হবে?"
প্রণয় দাদা এবার হো হো করে হাসলেন।
তারপর লিখলেন—
— "না রে পাগল, তোরা সবসময়ই আছিস। শুধু দায়িত্ব আর ভালোবাসার মাঝে সময়টা একটু ভাগ হয়ে গেছে।"
ওয়াগোয়া উত্তর দিল—
— "ঠিক আছে দাদা, কিন্তু মাসে অন্তত একবার রিপ্লাই দিয়েন। আমরা যেন ভুলে না যাই যে আপনি এখনও আমাদের বন্ধু!"
প্রণয় দাদা লিখলেন—
— "প্রমিজ। আর শোন, আগামী শুক্রবার সবাই মিলে আড্ডা দিব। বৌদিকে নিয়েই আসব।"
ওয়াগোয়া সঙ্গে সঙ্গে লিখল—
— "এই তো আমাদের পুরোনো প্রণয় দাদা ফিরে এসেছে!"
সেদিনের পর থেকে প্রণয় দাদার অনলাইন স্ট্যাটাস দেখলে আর কেউ বিরক্ত হতো না। কারণ সবাই জানত, রিপ্লাই একটু দেরিতে হলেও আসবেই। তবে বন্ধুমহলে আজও একটা কথা খুব বিখ্যাত—
"প্রণয় দাদা অনলাইনে থাকেন সবার জন্য, কিন্তু রিপ্লাই দেন শুধু বৌদির অনুমতি নিয়ে!"