15/10/2025
পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের আজকের যাত্রা ও কিছু এনালাইসিস, সময় থাকলে পড়বেন
পার্বতীপুর থেকে যাত্রা শুরু দুপুর ০৩:২০ টায়।
🔻০৩:৪০ টায় ফুলবাড়ীতে রুপসাকে বসিয়ে থ্রো পাস
🔻০৩:৫১ টায় বিরামপুরে বিটিও ও নীলসাগরকে বসিয়ে থ্রো পাস।
🔻জয়পুরহাটে যথা সময়ে এবং সান্তাহারে একতাকে বসিয়ে প্রবেশ ৪টা ৫৬ মিনিটে
এর পরে চলছে গাড়ী সিসিমপুরে, নাটোরে রাইট টাইমে ছাড়ার পরে অল গ্রীন সিগন্যালে ট্রেন এগিয়ে চলল। আব্দুলপুর, আজিমনগর, বাইপাস, মূলাডুলি, চাটমোহর ইত্যাদি পার হয়ে ভাঙুড়ায় ভেজাল লাগাল স্টেশন কর্তৃপক্ষ। ৭৫৩ সিল্ককে অনেক সময় আইটসাইড করে রেখে পঞ্চগড়কে লুপে নেওয়া হল।
পঞ্চগড় ১০ মি এর মত বসে থাকল। সিল্কসিটি থ্রো, পঞ্চ ছাড়ল। অথচ সিল্ককে লুপে নিয়ে পঞ্চকে থ্রো দিতে পারত। কেন করেনাই সেটা ভাঙুড়া স্টেশন মাস্টার জানে এবং আশাকরি তার কাছে এটার সদ উত্তর নাই। তবে যাই হোক, সিল্ক বের হবার পরেই স্টার্টার আর এডভান্স কুইক সেফ করে দেয়। এর পরে শরৎ নগরে ৫/৯৯ আপকে বসিয়ে থ্রো।
কপাল ভাল দাড়ায় নাই, কখন আবর স্টেশন মাষ্টারকে বাচাতে এলাকাবাসী চলে আসে! উল্লাপাড়া, জামতৈল, মনসুর আলীকে হিসেবে না গুনে যমুনা সেতুতে ট্রেন।
ও হ্যা সয়দাবাদে সিরাজ দাড়িয়ে ছিল, পঞ্চ থ্রো পাস।
এবার বসতে হল ইব্রাহিমাবাদ। কারন ৭৫২ লালের হিট খাচ্ছিল ৮০৫ চিলাহাটী টাঙ্গাইলে।
পঞ্চগড় হালকা ইনরিপোর্ট ও পাক্কা ২০ মি হিট। মোট প্রায় ২৫ মি বসে ছাড়ল। এবার আর কে থামায়!
মৌচাকে বসতেই হত চিত্রার জন্য। সেই বসাটা বসতে হল ইব্রাহিমাবাদ। মৌচাকে চিত্রাকে বসিয়ে থ্রো পাস।
জয়দেবপুরকে তো হিসাবেই ধরলনা, যাত্রীদেরও ফ্রিতে এসিতে ওঠা হলনা। তবে ধীরাশ্রমে ৭৫৭ দ্রুতযান আইসাইডে দাড়ানো, ডাবল লাইনে এই কাহিনী বুঝলামনা, কি আর করা আমাদের বসতে হল ৫ মি। দ্রুত থ্রো হল আমরা ছাড়লাম। তবে এখানে থেমে অনেকের উপকার হয়েছে, নেমেছে অনেকে পরিবার সহ।
ট্রেন ১০:০৫ টায় আসল বিমানবন্দর।
পার্বতীপুর থেকে সময় লাগল ৬ ঘন্টা ৪৫ মিনিট যা আর কোন ট্রেনের পক্ষে সম্ভভ না।
এবার ভাবেন, এই দুইটা হিট না খেলে (ভাঙুড়ায় ১০, ইব্রাহিমাবাদে ২৫, ধীরাশ্রমে ৫) টোটাল ৪০ মি বাচত। সেতুতে সিবিআই করলে আরও বাঁচত প্রায় ৫ মি, তার উপর পার্বতীপুর টু নাটোর সব স্টেশন সিবিআই না করার পিএলসি জটিলতায় ১০-২০ মি তো যায়।
অর্থাৎ এগুলো বাদ দিলে ৬ ঘন্টায় ট্রেন চলে আসত, এটা অসম্ভব না, সম্ভব এবং বাস্তব।। সাথে ডাবল লাইন ও সেটা ১২০ পাউন্ডের থাকলে, ম্যাক্সিমাম গতি ১০০ হলে এই সময় কমিয়ে ৫ ঘন্টায় আনা সম্ভব। আমরা উত্তরের মানুষ দিনে ঢাকা এসে, দিনে ফেরত যেতে পারতাম। সম্ভভ ছিল, অসম্ভব না।
🔴 যে কারনে ট্রেনের গতি নাই
(১) লাইন ভালনা, স্লীপার ভাল না, কালভার্টের এপ্রোচ লাইন ভালনা।
(২) সিগন্যাল ব্যবস্থা ভাল না
(৩) স্বেচ্ছাচারী ট্রেন মুভমেন্ট এবং অপ্রয়োজনীয় আউটসাইড করা, স্টাফরা প্রচুর স্লো
(৪) সর্বশেষ ডাবল লাইন না থাকা
আপনারা এগুলো কবে বুঝবেন? কবে রেলকে বোঝাবেন? কবে সবাই এক বাক্য এটা বলবেন যে উত্তরবঙ্গ থেকে প্রতিটা ট্রেনের রানিং সময় কম করে ২৫% কমানো সম্ভব উপরের চারটা সমস্যার সমাধান করলে। ডাবল লাইন করা সময় সাপেক্ষ, কিন্তু বাকী তিনটা? ও দুইটা করলেই ১০% সময় বাচানো সম্ভব।
জার্নিটা ভাল ছিল কিন্তু ট্রেনে ওঠার পরে একজন বিশেষ যাত্রীকে দেখেই সখ হয়েছিল ট্রেন থেকে নেমে যাই। নেমে গেলে আজ এই লেখা লিখতে পারতামনা। ব্যাক্তিগত বিষয়কে কখনই রেলে নিয়ে আসা উচিত বলে মনে করিনি।
লেখক কবির হোসেন ভাই।