27/07/2025
সার্বিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো জেনে নিন-
সার্বিয়া বর্তমানে বাংলাদেশের যুবসমাজের জন্য ইউরোপে যাওয়ার একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনেকেই জানতে চান সার্বিয়ার ভিসা রেশিও কেমন, এখন আবেদন করা উচিত কিনা, অথবা ভবিষ্যতে সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্ত হবে কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে অবশ্যই সঠিক তথ্য জানা জরুরি।
বর্তমানে সার্বিয়ার ভিসা রেশিও আগের চেয়ে অনেক ভালো। এখন সঠিক কাগজপত্র জমা দিলে প্রায় ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ভিসা হচ্ছে, যেখানে গত বছর এই হার ছিল মাত্র ১০ শতাংশের মতো। এই অবস্থায়, এটি বলাই যায় যে, এখনই আবেদন করার উপযুক্ত সময়।
সার্বিয়ার আরেকটি বড় সুবিধা হলো ইন্ডিয়ান ভিসার প্রয়োজন নেই। ফলে ভারতে যাওয়ার ঝামেলা, অতিরিক্ত খরচ কিংবা অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয় না। এছাড়া সার্বিয়া ভিসার খরচও তুলনামূলক কম। ভিসা না হলে অনেক দেশে যেমন লক্ষাধিক টাকা লস হয়ে যায়, সার্বিয়ার ক্ষেত্রে সে ঝুঁকি নেই। সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে আবেদন করা যায়। আর সবচেয়ে সুবিধাজনক দিকটি হলো—ভিসা পাওয়ার জন্য কোনো ইন্টারভিউ দিতে হয় না। তাই ইংরেজি না জানলেও সমস্যা নেই।
অনেকে ভুলভাবে মনে করেন সার্বিয়া ভিসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এটি একেবারেই গুজব। অনেক সময় পোর্টাল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও ভিসা প্রসেস বন্ধ হয়নি এবং নিয়মিত ভিসা ইস্যু হচ্ছে।
সার্বিয়ায় সাধারণ কাজের ক্ষেত্রে বেতন ৫০০ ইউরোর মতো এবং স্কিল থাকলে ৬০০ থেকে ৮০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তিন বছরের জন্য টেম্পোরারি রেসিডেন্স কার্ড (TRC) দেওয়া হয়। তবে কোম্পানির মান ও ব্যক্তির যোগ্যতার উপর নির্ভর করে আরও সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়। পারিবারিকভাবে কেউ চাইলে ফ্যামিলিকেও পরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, যদিও শুরুতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে।
ভিসা প্রসেস সম্পূর্ণ হতে সাধারণত ৫ থেকে ৮ মাস সময় লাগে। আবেদন করতে হলে পাসপোর্ট, ছবি, একাডেমিক সার্টিফিকেট (যদি থাকে), স্কিল সার্টিফিকেট (যদি থাকে) জমা দিতে হয়। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বর্তমানে প্রয়োজন হয় না। অনেকে মনে করেন সার্বিয়া ২–৪ বছরের মধ্যে শেনজেনভুক্ত হবে, কিন্তু এটি সত্য নয়।
২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে যারা ইউরোপে যেতে আগ্রহী, তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো অপশন হতে পারে সার্বিয়া এবং নর্থ ম্যাসেডোনিয়া। যারা ইতোমধ্যে বিদেশে আছেন তাদের জন্য রোমানিয়া, বুলগেরিয়া ও পর্তুগালও সম্ভাবনাময়।
সার্বিয়ায় কাজের সুযোগের মধ্যে রয়েছে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ফ্যাক্টরি, ওয়্যারহাউস, কন্সট্রাকশন ও ক্লিনিংসহ নানা ক্ষেত্র। পাসপোর্ট দেখিয়ে সহজেই সিম কার্ড নেওয়া যায় এবং ইন্টারনেটের গতি ভালো। বাসা ভাড়ার ব্যবস্থা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হলেও, কেউ কেউ কোম্পানির দেওয়া বাসায় থাকেন এবং কেউ কেউ নিজের ব্যবস্থায় রুম ভাড়া নেন। সাধারণত ২–৩ জন মিলে রুম শেয়ার করে থাকা হয়।
যাত্রার সময় সঙ্গে রাখা উচিত পাসপোর্ট, প্রয়োজনীয় জামা-কাপড় (বিশেষ করে শীতের জন্য মাইনাস জ্যাকেট), প্রাথমিক ওষুধ ও কিছু দেশীয় খাবারদ্রব্য। যদিও সার্বিয়ান ভাষা শেখা বাড়তি সুবিধা এনে দেয়, ইংরেজি জানলেও দৈনন্দিন জীবনযাপনে সমস্যা হয় না। তিন বছরের TRC, কাজের অভিজ্ঞতা এবং কোম্পানির রেফারেন্স থাকলে ভবিষ্যতে ইউরোপের সেনজেন বা ইইউ দেশগুলোতে যাওয়ার ভালো সম্ভাবনা তৈরি হয়।
সঠিক তথ্য ও উপযুক্ত এজেন্সি বেছে নেওয়া একান্ত জরুরি। যারা ইতিমধ্যে আবেদন করেছেন, তাদের জন্য শুভকামনা। এ ধরনের তথ্য যদি আপনার উপকারে আসে, তাহলে পোস্টটি অন্যদের সাথেও শেয়ার করতে পারেন।