18/09/2026
সীমান্ত থেকে সারাদেশ: মাদক-কিশোর অপরাধ ঠেকাতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জনসম্পৃক্ততার ওপর জোর
সীমান্তবর্তী দরিদ্র ও পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোতে সচেতনতা ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি সারাদেশে প্রয়োজন সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ
দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে শুরু করে শহর ও গ্রাম—সারাদেশে মাদক, কিশোর অপরাধ, কিশোর গ্যাং, অবৈধ সীমান্ত পারাপারসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অনেক দরিদ্র ও পিছিয়ে থাকা এলাকায় দারিদ্র্য, বেকারত্ব, শিক্ষার সুযোগের সীমাবদ্ধতা ও কর্মসংস্থানের অভাব তরুণদের একটি অংশকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মুখোমুখি করে। এসব এলাকার সাধারণ মানুষকে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে দেখার পরিবর্তে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষা, দক্ষতা ও বৈধ কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করাই হতে পারে কার্যকর প্রতিরোধের অন্যতম পথ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই শুরু হোক সচেতনতা
প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাদক, কিশোর অপরাধ, মাদকাসক্তির ক্ষতি, অনলাইন অপরাধ, সামাজিক কুসংস্কার এবং সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধের ঝুঁকি সম্পর্কে নিয়মিত সচেতন করা প্রয়োজন।
শুধু বিশেষ দিবসকেন্দ্রিক কর্মসূচি নয়, নিয়মিত ক্লাস, পিটি, সমাবেশ ও অভিভাবক সভায় সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
পুলিশ, শিক্ষক, সমাজকর্মী, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এসব কর্মসূচি পরিচালনা করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের শুধু অপরাধের ভয় দেখানো নয়, বরং তাদের সামনে শিক্ষা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও সম্মানজনক ভবিষ্যৎ গড়ার পথও তুলে ধরতে হবে।
ঝরে পড়া শিক্ষার্থী ও বেকার তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ
মাদক ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
যেসব শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে, পরীক্ষা দিতে পারেনি, অথবা মাধ্যমিক পাস করার পরও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে না—তাদের জন্য বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষাকে আরও সহজলভ্য করতে হবে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে তোলা যেতে পারে।
ইলেকট্রিশিয়ান, মোবাইল সার্ভিসিং, কম্পিউটার ও ডিজিটাল দক্ষতা, ড্রাইভিং, মেকানিক্যাল কাজ, কৃষি, মৎস্য, গবাদিপশু পালন, সেলাই, হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
একজন তরুণকে শুধু বলা নয়—“অপরাধ থেকে দূরে থাকো”; বরং তার সামনে রাখতে হবে—“এই দক্ষতা অর্জন করো, এই পথে কাজ করো, নিজের ভবিষ্যৎ তৈরি করো।”
প্রয়োজন কর্মমুখী শিক্ষা ও ক্যারিয়ার সেমিনার
প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত ক্যারিয়ার সেমিনার ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি আয়োজন করা যেতে পারে।
এসব কর্মসূচিতে কারিগরি শিক্ষা, বৈধ বিদেশে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা হওয়া, কৃষিভিত্তিক ব্যবসা, ডিজিটাল কাজসহ বিভিন্ন বৈধ পেশার সুযোগ তুলে ধরা যেতে পারে।
বিশেষ করে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনায় টিকে থাকতে না পারলেই তার ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যায় না। তাকে দ্বিতীয় সুযোগ দিয়ে দক্ষ করে কর্মজীবনে প্রবেশের পথ তৈরি করতে হবে।
খারাপ পরিবেশ থেকে ভালো পরিবেশে ফেরাতে সমন্বিত উদ্যোগ
শুধু সচেতনতা তৈরি করলেই সব ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। যেসব কিশোর বা তরুণ ইতোমধ্যে মাদক, কিশোর গ্যাং কিংবা অপরাধপ্রবণ পরিবেশের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে, তাদের ভালো পরিবেশে ফিরিয়ে আনতেও সমাজকে দায়িত্ব নিতে হবে।
পরিবার, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে আইনসম্মত, মানবিক ও ইতিবাচক সামাজিক চাপ সৃষ্টি করে তাদের অপরাধপ্রবণ পরিবেশ থেকে বের করে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও কর্মমুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
এখানে চাপ প্রয়োগের অর্থ কাউকে অপমান, হুমকি বা বেআইনিভাবে হয়রানি করা নয়। বরং অভিভাবকের দায়িত্বশীল ভূমিকা, কাউন্সেলিং, নিয়মিত খোঁজখবর, সামাজিক নজরদারি, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং আইনগত ব্যবস্থার মাধ্যমে একজন তরুণকে ভালো পরিবেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা।
কারণ একজন তরুণকে শুধু অপরাধ করার পর গ্রেপ্তার করার চেয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আগেই তাকে খারাপ পরিবেশ থেকে সরিয়ে ভালো পরিবেশে নিয়ে আসা সমাজ ও রাষ্ট্র—উভয়ের জন্যই কার্যকর প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ হতে পারে।
ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও হাটবাজারে পুলিশের জনসম্পৃক্ততা
মাদক ও অপরাধ প্রতিরোধে প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ হাটবাজারে পুলিশকে জনগণের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করতে হবে।
কোন এলাকায় মাদকের সমস্যা বেশি, কোথায় কিশোররা অপরাধী চক্রের প্রভাবে পড়ছে, কোথায় অবৈধ কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে—এসব বিষয়ে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোও এই কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে দায়িত্ব দিতে হবে
প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবী ও সমাজকল্যাণমূলক সংগঠনগুলোকে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।
তাদের মাধ্যমে স্কুলে সচেতনতা, অভিভাবক সভা, তরুণদের সঙ্গে আলোচনা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো শুধু কর্মসূচি পালন করবে না; বরং নিজেদের এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার ও তরুণদের বিষয়ে সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও সচেতনতা
সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার জুমার আগে অথবা পরে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য মাদক, কিশোর অপরাধ, পারিবারিক দায়িত্ব, সামাজিক মূল্যবোধ ও অপরাধ প্রতিরোধ নিয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়া যেতে পারে।
স্থানীয় আলেম, শিক্ষক, সমাজকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং প্রয়োজনে পুলিশ সদস্যরা সমন্বিতভাবে এসব কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন।
তবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে কোনো দলীয় রাজনৈতিক প্রচারণার জায়গা না বানিয়ে সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক দায়িত্বের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করাই হবে মূল উদ্দেশ্য।
জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্ব নিতে হবে
মাদক ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা, তরুণ সমাবেশ ও অভিভাবক মতবিনিময়ের আয়োজন করতে পারেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের দায়িত্বও হবে তরুণদের অপরাধ থেকে দূরে রেখে শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা।
রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব যেন কোনো অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়ার কারণ না হয়—বরং তরুণ প্রজন্মের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই নেতৃত্বের অন্যতম দায়িত্ব হওয়া উচিত।
শুধু গ্রেপ্তার নয়, পুনরায় অপরাধে জড়ানো ঠেকাতে হবে
মাদক, কিশোর গ্যাং ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অবশ্যই প্রয়োজন। অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর কেউ কেউ আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি পায়। এটি বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ।
তবে একই ব্যক্তি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
এক্ষেত্রে শুধু বারবার গ্রেপ্তার নয়—তদন্তের মান উন্নয়ন, যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, তদন্ত দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা, তদন্তকারী সংস্থা ও প্রসিকিউশনের মধ্যে সমন্বয় এবং আদালতের নির্ধারিত জামিনের শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।
একই সঙ্গে কিশোরদের ক্ষেত্রে বয়স ও পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি কাউন্সেলিং, পরিবারভিত্তিক সহায়তা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু একজনকে বারবার গ্রেপ্তার করা নয়; বরং সে কেন বারবার অপরাধে ফিরছে, সেই কারণ চিহ্নিত করে পুনরায় অপরাধে জড়ানোর পথ বন্ধ করা।
র্যাব-পুলিশের অভিযান, পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ
মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে র্যাব, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলো নিয়েও কাজ করতে হবে।
একটি কার্যকর সমন্বিত কাঠামো হতে পারে—
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী + স্থানীয় প্রশাসন + শিক্ষা প্রতিষ্ঠান + জনপ্রতিনিধি + পরিবার + ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান + স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন + কর্মমুখী শিক্ষা + কর্মসংস্থান।
এই ক্ষেত্রগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে অপরাধ প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ভিত্তি তৈরি হতে পারে।
দায়িত্বশীল নেতৃত্ব তৈরি করা জরুরি
প্রতিটি এলাকায় এমন দায়িত্বশীল নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে, যারা শুধু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না; বরং আগেই ঝুঁকিপূর্ণ কিশোর-তরুণদের চিহ্নিত করে তাদের শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেবেন।
সীমান্তবর্তী দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের সামনে যদি বৈধ ও সম্মানজনক জীবনের পথ তৈরি করা যায়, তাহলে অপরাধী চক্রের প্রলোভনের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে।
সীমান্ত থেকে সারাদেশ—একটি সামাজিক অঙ্গীকার প্রয়োজন
মাদক, কিশোর অপরাধ ও সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধকে শুধু পুলিশের সমস্যা হিসেবে দেখলে এর স্থায়ী সমাধান কঠিন। এটি শিক্ষা, পরিবার, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক পরিবেশের সঙ্গেও যুক্ত।
তাই প্রতিটি ইউনিয়ন, প্রতিটি ওয়ার্ড, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি হাটবাজার এবং প্রতিটি সামাজিক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি স্থানীয় মাদক ও অপরাধ প্রতিরোধ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা প্রয়োজন।
সেখানে থাকবে—অপরাধ প্রতিরোধ, নিয়মিত সচেতনতা, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনঃসম্পৃক্তকরণ, কর্মমুখী শিক্ষা, তরুণদের কর্মসংস্থান, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জনগণের নিয়মিত সমন্বয়।
একজন কিশোর অপরাধে যাওয়ার আগেই পরিবার, শিক্ষক, সমাজ ও রাষ্ট্র যদি তার পাশে দাঁড়াতে পারে এবং একজন বেকার তরুণ অপরাধের পথে যাওয়ার আগে যদি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়—তাহলেই প্রকৃত অর্থে অপরাধ প্রতিরোধ সম্ভব।
অভিযানের পাশাপাশি সচেতনতা, শাস্তির পাশাপাশি পুনর্বাসন, প্রয়োজনে আইনসম্মত সামাজিক হস্তক্ষেপ এবং পুলিশের পাশাপাশি জনগণের অংশগ্রহণ—এই সমন্বিত উদ্যোগই সীমান্ত থেকে সারাদেশে একটি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল সমাজ গড়ে তোলার ভিত্তি হতে পারে