03/08/2026
🕋 তাওয়াফ—আল্লাহকে কেন্দ্র করে জীবনের পথচলা
তাওয়াফ অর্থ প্রদক্ষিণ করা। পবিত্র কাবা শরীফকে সাতবার প্রদক্ষিণ করলে একটি তাওয়াফ সম্পন্ন হয়। এটি শুধু হাঁটা বা চক্কর দেওয়া নয়; বরং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের এক অনন্য ইবাদত।
হযরত ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.) আল্লাহর নির্দেশে কাবা শরীফ নির্মাণের পর থেকেই আল্লাহর আদেশে তাওয়াফের এই ইবাদত চালু হয়েছে। পরে রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজেও তাওয়াফ করেছেন এবং তাঁর উম্মতকে এর শিক্ষা দিয়েছেন। তাই তাওয়াফ একদিকে আল্লাহর হুকুম পালন, অন্যদিকে প্রিয় নবী ﷺ-এর সুন্নতের অনুসরণ।
তাওয়াফ আমাদের একটি গভীর শিক্ষা দেয়—একজন মুমিনের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত একমাত্র আল্লাহ। যেমন তাওয়াফকারীরা কাবাকে কেন্দ্র করে ঘুরে, তেমনি আমাদের চিন্তা, কর্ম, ভালোবাসা ও জীবনের লক্ষ্যও আল্লাহকে কেন্দ্র করেই হওয়া উচিত।
পৃথিবীর নানা দেশ, ভাষা ও বর্ণের লাখো মানুষ একই পোশাকে, একই কাবাকে ঘিরে একসঙ্গে তাওয়াফ করেন। সেখানে ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা—কোনো পার্থক্য থাকে না। সবাই আল্লাহর বান্দা, সবাই সমান।
তাওয়াফের সময় কাবা আমাদের বাম পাশে থাকে। ফলে হৃদয়টি কাবার দিকেই থাকে। যদিও এটি শরিয়তের বিধান এবং এর মূল কারণ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ-এর নির্দেশ পালন, তবুও অনেক আলেম বলেন—এ দৃশ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আমাদের হৃদয় যেন সবসময় আল্লাহর ভালোবাসায় পরিপূর্ণ থাকে।
হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তাআলা প্রতিদিন কাবা শরীফের ওপর ১২০টি রহমত নাজিল করেন। এর মধ্যে ৬০টি তাওয়াফকারীদের জন্য, ৪০টি সালাত আদায়কারীদের জন্য এবং ২০টি কাবার দিকে তাকিয়ে ইবাদতকারীদের জন্য। (বর্ণিত: আল-মু'জামুল আওসাত, তাবারানি; হাদিসটি হাসান পর্যায়ের বলে অনেক আলেম উল্লেখ করেছেন।)
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর পবিত্র ঘরের মেহমান হওয়ার তাওফিক দান করুন। হজ ও উমরাহর সময় বেশি বেশি তাওয়াফ করার, এর তাৎপর্য হৃদয়ে ধারণ করার এবং তাঁর নৈকট্য অর্জনের তাওফিক দান করুন।
আমীন। 🤲
সূত্র:
• আল-কুরআন: সূরা আল-হাজ্জ (২২:২৬–২৯)
• সহিহ আল-বুখারি ও সহিহ মুসলিম (রাসূল ﷺ-এর তাওয়াফ সম্পর্কিত হাদিসসমূহ)
• আল-মু'জামুল আওসাত, ইমাম তাবারানি (কাবার ওপর ১২০ রহমতের বর্ণনা)