12/05/2026
হবিগঞ্জ সিলেট এক্সপ্রেস এবং এস.এম.এস এক্সপ্রেস
দুই বাসের দ্বন্দ্বে অতিষ্ঠ মৌলভীবাজারবাসী: মৌলভীবাজার-সিলেট রুটে ধর্মঘট।
হবিগঞ্জের ১২৩টি বাসের মধ্যে বৈধ মাত্র ৮টি, বাকি সব অবৈধ: মৌলভীবাজার বাস মালিক গ্রুপ।
হবিগঞ্জ বাস মালিক গ্রুপের অধিকাংশ গাড়ির কোনো বৈধ রুট পারমিট ও ফিটনেস নেই বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে মৌলভীবাজার ও সিলেট বাস মালিক সমিতি। বিআরটিএ (BRTA) পরীক্ষার সূত্র উল্লেখ করে তারা জানিয়েছে, হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে চলাচলকারী ১২৩টি বাসের মধ্যে মাত্র ৮টি বাসের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে; বাকি সব গাড়ি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে রাস্তা দখল করে চলছে।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ে প্রশাসনের সাথে এক দীর্ঘ বৈঠক শেষে যৌথ মালিক ও শ্রমিক সমবেশে পরিবহন নেতৃবৃন্দ এসব তথ্য জানান। একই সাথে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে আজ থেকেই সিলেট-মৌলভীবাজার রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সমাবেশে মৌলভীবাজার বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক রব মিয়া ও সিলেট-মৌলভীবাজার রুটের পরিবহন নেতৃবৃন্দ জানান, জেলা প্রশাসক এবং মৌলভীবাজারের সংসদ সদস্য জনাব এম নাসের রহমান স্বয়ং পরিবহন মালিকদের কাগজপত্র যাচাই করেছেন। সংসদ সদস্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "বৈধ কাগজ যাদের আছে কেবল তাদের গাড়িই চলবে, অবৈধ কোনো গাড়ি রাস্তায় চলতে দেওয়া হবে না।
পরিবহন নেতারা অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জ মালিক গ্রুপের ১২৩টি গাড়ির মধ্যে ৯০টিরও বেশি গাড়ির কোনো পারমিটই নেই। বিআরটিএ-র রেকর্ড অনুযায়ী মাত্র ৮টি গাড়ির বৈধতা পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ফিটনেস ও পারমিটবিহীন গাড়িগুলো কেবল গায়ের জোরে রাস্তায় চালানো হচ্ছিল, যা এই অঞ্চলের বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।
ডিসি মহোদয়ের সাথে আলোচনার পর যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে রাস্তা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মালিক সমিতি। নেতৃবৃন্দ জানান, ইতিমধ্যে সিলেট এবং মৌলভীবাজার থেকে গাড়ি ছাড়া শুরু হয়েছে। আজ (১২ মে) থেকে মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল ও সিলেটের ‘এসএমএস (SMS) পরিবহন’ এবং স্থানীয় সকল লোকাল বাস পূর্ণ পুরাদমে চলাচল করবে।
হবিগঞ্জের বাসের বিষয়ে পরবর্তী স্থায়ী সিদ্ধান্তের জন্য সিলেট বিভাগের তিন জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং বিভাগীয় কমিশনারের সাথে দ্রুতই একটি যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করে বলেন: "হবিগঞ্জের সাধারণ মানুষ বা যাত্রীরা আমাদের শত্রু নন। আমাদের মূল আপত্তি ও আন্দোলন হচ্ছে হবিগঞ্জ বাস মালিক গ্রুপের অনৈতিক আচরণ এবং তাদের অবৈধ কাগজপত্রের গাড়িগুলোর বিরুদ্ধে।"
অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন এসব গাড়ির ব্যাপারে সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে আগামীকাল থেকেই সংবাদপত্রের মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মালিক সমিতি। লাইসেন্স ও পারমিটবিহীন এসব ঝুঁকিপূর্ণ বাসে না ওঠার জন্য স্থানীয় যাত্রীদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আন্দোলন সফল করায় সিলেট ও মৌলভীবাজারের সাধারণ শ্রমিকদের ধন্যবাদ জানান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। একই সাথে তারা শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বিশেষ কিছু নির্দেশনা দেন:-
যাত্রীদের সাথে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার করা যাবে না। ভদ্রতা বজায় রেখে আন্তরিকতার সাথে সেবা দিতে হবে।
প্রয়োজনে বাসে যাত্রীদের জন্য খাবার পানির ব্যবস্থা রাখতে হবে, যার খরচ মালিক পক্ষ বহন করবে।
উক্ত সভায় মৌলভীবাজার বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি এমতাদুল হক এহমাদ, আব্দুর রহিম লিটন, ফজল করিম ময়ূন, সাবেক শ্রমিক নেতা আনোয়ার হোসেন, রোড কমিটির সভাপতি কুতুব মিয়া এবং সিলেটের পরিবহন নেতা শাহাব উদ্দিনসহ দুই জেলার শীর্ষস্থানীয় মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশটি "মালিক-শ্রমিক ভাই ভাই, একসাথে এগিয়ে যাই" স্লোগানের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
বাস চলাচলের ‘যাত্রা বিরতি’ নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের জেরে শ্রীমঙ্গল-সিলেট রুটে দ্বিতীয় দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। মৌলভীবাজারের ‘এসএমএস পরিবহন’ এবং ‘হবিগঞ্জ বিরতিহীন পরিবহন’ কর্তৃপক্ষের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে গতকাল রবিবার থেকে এই রুটে সব ধরনের বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। দুই বাসের এই আকস্মিক দ্বন্দ্বে চরম ভোগান্তিতে পড়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন মৌলভীবাজারবাসী।
শ্রীমঙ্গল থেকে মৌলভীবাজার ও শেরপুর হয়ে সিলেট পর্যন্ত চলাচলকারী এসএমএস বাস, লোকাল বাস এবং হবিগঞ্জ বিরতিহীন বাস হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা।
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় কর্মজীবীরা সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না। চরম বিঘ্ন ঘটছে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলমান পরীক্ষা ও শিক্ষা কার্যক্রমে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন জরুরি চিকিৎসার জন্য সিলেট বা মৌলভীবাজারে গমনাগমনে ইচ্ছুক রোগী ও তাদের স্বজনরা।
ধর্মঘটের বিষয়ে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ জানান, গতকাল রবিবার থেকে আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত এই অচলাবস্থার কোনো কার্যকর সমাধান সূত্র মেলেনি। তবে সংকট নিরসনে আজ সোমবার বিকেলের দিকে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ—এই দুই জেলার পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্ট এক নেতা জানান:
"সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এই সংকট নিরসন হওয়া প্রয়োজন। বিকেলের বৈঠকের পর বিস্তারিত আলোচনা শেষে জানা যাবে বাস চলাচল কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে।
এদিকে সাধারণ ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিক সমাজ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের খেসারত সাধারণ যাত্রীরা কেন দেবে? তারা অবিলম্বে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং জনস্বার্থে রাস্তায় দ্রুত বাস চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য প্রশাসনের জোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
বাংলাদেশের বাস সম্পর্কে নিয়মিত আপটেড পেতে যোগ দিন আমাদের গ্রুপে: BUSES OF BANGLADESH🇧🇩
📷: Muhammad Sulaiman