শুভ্র নীলার ভালোবাসা

শুভ্র নীলার ভালোবাসা this page sales community and give your drem dress

24/09/2022

Love It

22/09/2022

Kon bandhobir kopale amon bor dekhte cau??🥰🥰
𝐌𝐞𝐧𝐭𝐢𝐨𝐧 𝐘𝐨𝐮𝐫 𝐁𝐚𝐧𝐝𝐡𝐨𝐛𝐢

21/01/2022

কোনো মেয়েই গরিব ছেলেকে পছন্দ করে না😔😔😔
শুনতে খারাপ হলেও এইটাই বাস্তব😰😰

 #তোমার ছোয়ায় পূর্ণতা পেতে চাই প্রিয়....
13/10/2021

#তোমার ছোয়ায় পূর্ণতা পেতে চাই প্রিয়....

গল্প: বিবেকপর্বঃ ০২!!!:-অনেক কান্না করেছি, এখন অনেক ঘুম পাচ্ছে আমার,  এ ঘুম যেন আর জাগার নয়।  এই ঘুম যেন জীবনের শেষ  ঘুম...
07/10/2021

গল্প: বিবেক
পর্বঃ ০২
!
!
!
:-অনেক কান্না করেছি, এখন অনেক ঘুম পাচ্ছে আমার, এ ঘুম যেন আর জাগার নয়। এই ঘুম যেন জীবনের শেষ ঘুম। এখন কেন যানি মরতেও ভয় হচ্ছে, যানি না পরকালে আল্লাহ আমার জন্য কোন শাস্তি অপেক্ষা করে রাখছে। তার তো কোন গোলামিই করি নাই।তারপরেও চোখকে আটকে রাখতে পারলাম, জানি না পরের দিন এই চোখ দুটো খুলবে কি না।।।।
,
,
মৃত্যু কি এত সহজ, যে যখন চাইব তখনই হবে।
পরের দিন ঘুম থেকে উঠলাম, নিজেকে আবিষ্কার করলাম এক বন্ধ ঘরে।। ঘরে একটা বিছানা, আমি একা শুয়ে আছি, পাশে আমার হাতে স্যালাইন লাগানো।। শরিরে দুর্বলতা নেই,,হয়ত স্যালাইন দেয়ার কারনে শরিরে শক্তি এসেছে। অনেক্ষন ভাবার পর বুঝতে পারলাম এটা একটা হাস্পাতাল। দেখে তো মনে হচ্ছে খুব দামি আর বড় হাস্পাতাল।।।
এরকম, হাস্পাতাল আগে কখনো দেখিনি।।।। অনেক্ষন ডাকা ডাকি করলাম
,hello কেউ কি আছেন, hello....কেউ শুনছেন।।
,
কেউ শুনল না।। পাশে মোবাইলটা খুজলাম, না মোবাইল টাও নেই।।
,
এখন খুব খারাপ লাগতেছে, আমাকে হয়ত কেউ এখানে ভর্তি করে দিয়ে চলে গেছে, আমি এখন ছাড়া পাব কিভাবে।আমার কাছে টাকাও নেই, মোবাইলটাও নেই।।।
,
এসব ভাবতে ভাবতে আবার কখন ঘুমিয়ে গেছি মনে নেই।। ঘুম ভাংতেই বাবার বয়সি একটা লোককে দেখতে পেলাম। আমার সেবা যত্ন করছে।দেখে তো ডাক্তার মনে হচ্ছে না।। আমাকে জাগ্রত হওয়া দেখতেই বললেন,
--এখন কেমন আছ বাবা।
-- ভালো আছি আংকেল।।। আমি এখানে কেন আংকেল ?
-- আমি আজ সকালে অফিস যাওয়ার সময় দেখলাম অনেক মানুষ মাঠের মধ্যে ভিড় করেছে। আমি যখন বিষয়টা দেখতে গেলাম। তোমাকে একটা মাঠের মধ্যে আধা মরা অবস্থায় শুয়ে থাকতে দেখেছি। তাই সাথে সাথে তোমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি।
-- ওও,,,,,তার মানে আমি এখনো মরি নাই।।।
--কেন বাবা এরকম কথা কেন বলছ।।।
-- এমনি আংকেল।। আচ্ছা আংকেল, আমার তো টাকা পয়সা কিছু নেই, আমি তো এতিম। আপনার এ ঋন আমি কিভাবে পরিশোধ করব।
-- ঋন পরিশোধ করতে হবে না বাবা। তুমি সুস্থ হও আমি এটাই কামনা করি।।।
-- তা কিভাবে হয়।।
-- আর কোন কথা নয়,এখন চুপ করে বিশ্রাম নেও।।
,
,
মনটা ভরে গেল।।।যাক একটা ভালো মানুষের দেখা তো পেলাম।।।
,
2 দিন হাসপাতালে থাকার পর আমি সুস্থ হয়ে গেছি। এই কয়েক দিন আংকেল টা অনেক যত্ন নিয়েছে। দিনে দুই বার আসত আমাকে দেখতে। পোশাক আশাক দেখে তো মনে হয় খুবই বড়লোক।ভাবতেও অবাক লাগতেছে এত বড় লোক হয়েও আমার মত তুচ্ছ মানুষ টার খোঁজ নিচ্ছে।
,
আমাকে তাদের বাড়ি নিয়ে গেল। কিন্তু আমি না করলাম তারপরেও আমাকে জোড় নিয়ে গেল।অনেক বড় বাড়ি। এসব বাড়িতে কাজের লোক হওয়াও যেন ভাগ্যের বেপার আমার জন্য।
বাড়ির ভিতর ঢুকালাম। আন্টিকে দেখে সালাম দিলাম।
আন্টিও অনেক ভাল।আংকেল আন্টি দুইজনে নামাজ পরে, আন্টি হিজাব পরে সারাদিন। আংকেলের দাড়ি আছে।।
,
তাই সেদিন থেকে আমিও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরা শুরু করে দিলাম। জীবনে অনেক কিছু অবহেলা করছি। সেই অবহেলার প্রহর শেষ করতে চাই। হয়ত আল্লাহ তার গোলামি করার জন্ন্য আরেকটা সুজুক দিলেন। আল্লাহ যা করে ভালোর জন্য করে, তা আবার প্রমানিত হল।
,
তাদের একটা ছোট মেয়ে আছে,মেয়েটার নাম পিংকি। ক্লাস 5 এ পরে। আমাকে ভাইয়া ভাইয়া বলে ডাকে।।।
যখন সে ভাইয়া ভাইয়া বলে ডাকে তখন বুকটা মোচর দিয়ে ওঠে।। খুব কষ্ট হয় তখন।। মনে পরে যায় পুরনো সৃতি, আমিও আমার ভাই গুলোকে ভাইয়া ভাইয়া বলে ডাকতাম।। কিন্তু আজ তাদের সামনে আমাকে অবিশ্বাসী হয়ে বেচে থাকতে হচ্ছে। আহারে কি কষ্ট আমার।।।।,
,
আল্লাহ আমাকে এত কষ্ট না দিলেও পারতেন।
,
আজ কয়েক দিন ধরে আংকেলের বাসায় আছি।।। অনেক ভালোবাসা আর আদর দিয়ে আংকেল আন্টি আমায় আগলে রেখেছেন এখানে। ছোট বোনটাও অনেক ভালো, ভালোবাসে আমাকে সারাদিন আমার সাথে খেলে। রাত হলে আমাকে আবার তাকে পড়াতে বসাতে হয়।
,
কিন্তু ভয়, সব সময় কোথা থেকে যেন এক অজানা ভয় এসে আবার আমাকে গ্রাস করে। বার বার মনে হচ্ছে যেন এই সম্পর্ক টাও যেন কোন এক মিথ্যা অপবাদে ভেংগে যাবে। আবার হারিয়ে যাব অচেনা শহরে। যেখানে কেউ কারো দিকে তাকানোর সময় রাখে না।
,
,
আজ ঘুমের মাঝে খুব খারাপ এক স্বপ্ন দেখলাম। এই স্বপ্ন যেন বার বার ইংজ্ঞিত করছে এই সম্পর্ক টাও ভেংগে যাবে।,
,
তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম এই সুন্দর সম্পর্ক টা ভাংগার আগে আমি এখান থেকে চলে যাব।
তাই পরের দিন সকাল হতে আংকেলের কাছে গেলাম।
,
--আংকেল আমি আর এখানে থাকব না। আমি চলে যাব।আমি জানি আমি আপনার ঋন কখনও পরিশোধ করতে পারব না। আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন। (আমি)
-- কেন বাবা, তোমার এখানে থাকতে খারাপ লাগতেছে। তাছাড়া তুমি কোথায় যাবে, এই অচেনা শহরে। তুমি তো বলেছিল তোমার কেউ নেই। তোমার কেউ কি আছে যার কাছে তুমি যাবে।।।।
-- না আংকেল আমি আপনাকে মিথ্যা বলেছিলাম।আমি এতিম না। আমার সব কিছুই ছিলো, এখনও আছে। কিন্তু আজ তা আমার নিজের নেই। আমি খুব খারাপ আংকেল, আমি খুব খারাপ। আমি চাইনা আপনার সাথে থাকা এত সুন্দর সম্পর্ক টাও কোন এক অজানা কারনে শেষ হয়ে যাক। আমাকে চলে যেতে দিন আংকেল। মাঝে মাঝে আসব দেখা করতে।
-- এসব কি বলছ বাবা, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। আমাকে কি একটু পরিষ্কার করে বলবে। তুমি সেদিনও এরকম একটা কথা বলে ছিলে কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি।
-- না আংকেল। এসব শুনলে আপনি অনেক কষ্ট পাবেন। তার চেয়ে না শুনাই ভালো।
-- না, আজ যখন শুনতে চেয়েছি, আজ শুনাতেই হবে।।
,
বাধ্য হয়ে সব ঘটনা বলতে হল। ওখানে কি হয়েছিল, এখানে কিভাবে দিন কাটিয়েছি।।
,
বলতে বলতে যেন চোখ দুটো কোন এক সমুদ্রে ডুবে গিয়েছিল। চোখ উপরে উঠিয়ে দেখলাম আংকেলও কাদতেছেন।
,
-- আংকেল, আমি অনেক খারাপ আংকেল আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন। আমি আসি আংকেল। আংকেল আপনি ভালো থাকিয়েন।।।
-- এই কই যাও দারাও। কে বলেছে এখন তোর কেউ নেই,,, আজ থেকে আমরাই তোর বাবা মা। তুই আজ থেকে এখানে থাকবি। আজ থেকে এটাই তোর বাড়ি। নিজের মত করে থাকবি।। ( এই বলে কাঁদতে কাঁদতে আমাকে জড়িয়ে ধরল)
,
বাধ্য হয়ে আবার আমাকে চোখের পানি ফেলতে হল। এত আদর আর ভালবাসার দাম আমি কি দিতে পারব।।।
ভয়টা যেন আরও বেড়ে চলছে।।
,
আংকেল এখানে একটা কলেজে আমাকে ভর্তি করিয়ে দিলেন। প্রতিদিন আমার খোজ খবর নেন। অনেকটা নিজের ছেলের মত করে দেখেন।।
,
আমার ফোনটা পাই নাই, আংকেল আমাকে নতুন একটা ফোন কিনে দিছে।। আংকেল কে বলেছিলাম আমাকে হাস্পাতাল নিয়ে যাওয়ার সময় ফোনটা দেখেছিল নাকি। আংকেল বলছে সেখানে নাকি কোন ফোন দেখেনি।।।
,হয়ত ফোনটা চুরি হয়েগিয়েছিল সেদিন।।
,
আমার পুরনো বন্ধুর নাম্বার টা মনে করতে পারতেছি না। ৮ টা নাম্বার শুধু মনে আছে।। অনেক চেস্টা করেও মনে করতে পারছি না। অনেক দিন থেকে চর্চা করা হয় নাই তো।
,
তার সাথে কথা বলতে না পেরে মনটা ছট ফট করতেছিল। খূব জানতে ইচ্ছা করছিল বাড়ির খবর জানতে।। আজ 2 মাস ধরে বাড়ির কোন খোজ খবর পাচ্ছি না। হয়ত সেও আমার সাথে যোগাযোগ করার চেস্টা করে।
,
তাই বাধ্য হয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম,একদিন রাতের বেলা যাবো আমার সেই পুরনো দুনিয়া। যেখানে লেগে আছে আমার সব সৃতি আর কলংকের দাগ।,
,
আন্টি কে আর আগের মত আন্টি আন্টি বলি না, আম্মু আম্মু বলি।।। কি করব, খুব যে মা ডাকটা ডাকতে ইচ্ছা করে। ইচ্ছা করে আবার কাউকে ভাইয়া ভাইয়া বলে ডাকতে।। ইচ্ছা করে পুরনো দিন গুলো ফিরে পেতে।।। এসব কথা যখন মনে পরে তখন দুই রাকাত নামাজ পরে আল্লাহর কাছে চিৎকার করে বলি, আমি আজ ভালো হয়েছি বলে তুমি আমাকে খারাপ বানালে। আমি আজ সত্য বলি বলে আমাকে বাড়ি ছাড়া করালে। এত দিন তোমার গোলামী করিনাই বলে, হয়ত তুমি শাস্তি দিছ। আমি মাথা পেতে নিছি।।। আজ আমাকে আর ফিরিয়ে দিয়ো না।। আজ কিছু একটা ভালো দেও। ফিরিয়ে দেও আমার পুরনো দিন গুলি।ফিরিয়ে দেও আমার বাবা মা কে, ফিরিয়ে দেও আমার পুরনো রক্তের সম্পর্ক গুলাকে। ফিরিয়ে দেও, ফিরিয়ে দেও, ফিরিয়ে দেও।।।
,
,
কাঁদতে কাঁদতে মাঝে মাঝে অজ্ঞান হয়ে যেতাম সাময়িক সময়ের জন্য।।।
,
তবুও আল্লাহর কাছে চেয়েই যেতাম, যদি কোন একদিন আমার কথা শোনে। যদি কোন একদিন ফিরিয়ে দেয়।।
,
এখন আর হাজারো বিপদে মিথ্যা বলি না।। নামাজ ছাড়ি না।। ,
,
আজ আন্টিকে বললাম, আমি আমার এক পুরোনো বন্ধুর সাথে দেখা করতে যাব, বললাম 2 দিন লাগবে।আন্টিকে আমি আর বললাম না যে আমি আমার এলাকার বন্ধুর কাছে যাচ্ছি। আন্টি যাওয়ার অনুমতি দিলেন। কিছু টাকাও দিলেন।।আমাকে সাবধানে যেতে বলেছে আর বার বার ফোন করে বলতে বলেছে আমি কোথায় আছি। এ কয়েক দিনে যেন আন্টিটাও আমার মায়ায় পরে গেছে।।।
,
দুপুর 12 টায় বাসে চরলাম 7 ঘন্টার রাস্তা। যেন ওখনে গিয়ে সন্ধ্যায় নামতে পারি। একটা চাদর নিয়েছিলাম চোখ মুখ ঢাকার জন্ন্য।
,
,
ঠিক সন্ধ্যায় গিয়ে সেই এলাকায় নামলাম। একটা দোকানে গিয়ে কিছু, চা নাস্তা করলাম।। এই এলাকায় পা দেয়ার পর থেকে যেন বুকটা ধুক ধুক করা শুরু করেছে।মাথায় চাদর টা মুরে এলাকার চারদিক ঘুরতে লাগলাম, আর অপেক্ষা করতে লাগলাম আরেকটু রাত হওয়ার জন্য। রাত 8 টা বাজতে, আমি চলে গেলাম সেই চিরচেনা ব্রিজে। যেখানে বসে আমরা আড্ডা দিতাম। সেখানে গিয়ে বসে আছি 1 ঘন্টা ধরে। না কেউ আসল না, আমার এত গুলো বন্ধুর একটাও আসল না। মনে হয়ে এখন আর আড্ডা হয় না। তাই আর বসে না থেকে উঠে গিয়ে পিছনে তাকালাম দেখলাম একজন মুর্তির মত দাঁড়িয়ে আছে। সেটা আর কেউ নয়। সেটা হল আমার সেই বন্ধু। আমাকে দেখা মাত্র আমাকে জড়িয়ে ধরে দুই চোখের পানি ছেরে দিল। সাথে সাথে আমিও আর থাকতে পারলাম না।
,
আমি চাদর পরে থাকা সত্ত্বেও চিনতে কষ্ট হয়নি তার।
,
এটাই হল প্রকৃত বন্ধু।
,
-- এতদিন কোথায় ছিলিরে, তুই নাকি মরে গেছিস, আমার বিশ্বাস হয়নি। তোকে ফোন দিয়েও পাই নি। তবুও হাল ছাড়িনি। প্রতিদিন এখানে এসে বসে থাকতাম।।। আমি জানি তুই একদিন ফিরে আসবি।।। ( কাদতে কাদতে)
-- কি আর করব বল।। আমার সব কিছু তো শেষ হয়ে গেছে, এখন আল্লাহ যেভাবে রেখেছিল সেভাবেই ছিলাম। তুই কেমন আছিস।।
-- আমি ভালো আছি।।। তোর ফোন কি হইছে রে।।
-- আমার ফোন চুরি হইছে ।আমাদের বাড়ির অবস্থা কেমন রে, বাবা মার কি অবস্থা রে।আমার ছোট বোনটা কেমন আছে রে,, চাচা চাচিরা আমার ভাই গুলা কেমন আছেরে।।।।
-- তাদের খবর শুনে কি হবে রে।। তুই কি আর ওদের আছিস।
-- বলনা কেমন আছে রে। আমি তাদের না থাকলেও তারা তো এখনো আমার আছেরে।তারা আমাকে ফেলে দিলেও আমি তো তাদের ফেলে দিতে পারব না। বলনা কেমন আছে রে।
-- আছে সবাই ভালো আছে।
--তারা কি যানে আমি মারা গেছি?
-- না জানে না।
-- তাহলে তুই কিভাবে জানলি আমি মারা গেছি।
-- সেদিন পর থেকে যখন তোর ফোন বন্ধ পেলাম, তখন আমি তোর ভাবির কাছে গেলাম, তোর ভাবিকে অনেক জোড় করার পর ভাবি আমাকে বলল,,
তুই নাকি খুব অসুস্থ, আর কিছুক্ষনের মধ্যে মারা যাবি।। ভাবি শুধু আমাকে কথাটা বলেছিল। আর কাউকে বলেনি।।। আমাকেও বলতে নিষেধ করেছিল। তাই আমি আর কাউকে বলিনি। আমি সেদিন খুব কেদেছিলাম তোর অসুস্থতার কথা শুনে।
-- ভাবি এখন কেমন আছে রে।।
-- সবাই ভালো আছে রে।।
-- আর, রাইশা। রাইশার বিয়ে হয়ে গেছে তাই না।
-- নারে আর বিয়ে হয় নি।।। বিয়ের দিন নাকি ওর বড় পালিয়ে গেছে।।। তাই বিয়ে টা আটকে গেছে।
-- ওওও,,, আচ্ছা তোর নাম্বারটা দে।
-- এই নে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
-- আচ্ছা আজ চলি রে, ভালো থাকিস। আমাকে ফোন দিস।
-- কই যাবি এখন।।।
-- যেখান থেকে এসেছি।।
--ওওও,,, সেখানে থাকতে কষ্ট হয় না।।।
-- নারে। আল্লাহর রহমতে একটা ভালো মানুষের বাড়িতে আছি। অনেক আদর করে আমাকে।।
-- ভালো থাকিস,
-- দোয়া করিস এই অভাগাটার জন্য।।
-- নিজেকে অভাগা ভাবিস না। একদিন অবশ্যই তোর ভালো হবে দেখিস।।
,
,
তার কাছে বিদায় নিয়ে এশার নামাজ পরলাম। এশার নামাজ পরে নিলাম একটা ফাকা মাঠে। মসজিদ গুলোতে তালা দেয়া।
,
নামাজ শেষ। এখন বাসে চরে ফিরে যাবার পালা।
,
কেন জানি না, আমার খুব ইচ্ছা করছিল আমাদের বাড়িটা দেখতে ।
তাই গেলাম দেখতে। খুব ইচ্ছা করছিল উকি দিয়ে বাড়ির ভিতর টা দেখতে। যদিও উকি দেয়া ঠিক না। চার দিক অন্ধকার, নিজেকে সামলে রাখতে পারলাম না,
,
অবশেষে উকি দিলাম। উকি দিতে গিয়ে দরজার কপাট টা একটু জোরেই শব্দ করে উঠল।,,
,
-- বাড়ির ভিতর থেকে বলে উঠল কে, ওখানে কে।
-- আমি তারা তারি মাথায় চাদর পেচিয়ে , সেখান থেকে পালাতে লাগলাম।
--আমার ভাই আমাকে চোর মনে করে, আমার পিছনে দৌড়াতে লাগল আর চিৎকার করে বলতে লাগল চোর চোর।। এর ফলে আমার সব ভাই বের হয়ে আসল।
তাই আমি ভয় পেয়ে আরও জোরে দৌড়াতে লাগলাম। দৌড়াতে দৌড়াতে একটা ইটে হোচট খেয়ে পরে গেলাম।
আর সবাই এসে আমাকে না দেখেই, উধাল পাতাল মাইর শুরু করে দিল।
,
আমাকে আধা মরা করে দিয়ে। আমার চাদরটা টানতে লাগল আমাকে দেখার জন্য। আমিও চাদর টেনে ধরলাম মুখ দেখাতে দিব না তাই।
তারা আবার আমাকে মারতে শুরু করল।
,
কেউ একজন বলছে এই দড়ি নিয়ে আয়। এটা কে পুলিশে দিতে হবে।
,
এবার আমার সত্যই চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করছিল হে আল্লাহ বার বার আমিই কেন বিপদে পরি আমার সাথে কেন এমন হয়।
,
আমি কি পাপ করেছিলাম যে এমন টা শুধু আমার সাথেই হয়।।।তুমি কি আমাকে দেখো না।
,
অবশেষে তারা তাদের জোর দিয়ে আমার চাদর টা টেনে নিল।
,আমি আমার হাত দিয়ে মুখ লুকানোর চেস্টা করলাম। কিন্তু তাদের জেদের কাছে হেরে গেলাম।
,
ইতি মধ্যে একটা শোরগোল লেগে গেছে। বাবা চাচারা সবাই জড়ো হয়েছে।
চলবে
পাশে থাকবেন কেমন লাগল জানাবেন।

গল্প: বিবেক পর্বঃ_০১লেখকঃ শুভ্র ভাবি দরজা বন্ধ করলেন কেনো। (আমি)-- আজ আমি তোকে একটা উপহার দিব,তাই।-- তাই, তা কি উপহার দি...
06/10/2021

গল্প: বিবেক
পর্বঃ_০১
লেখকঃ শুভ্র
ভাবি দরজা বন্ধ করলেন কেনো। (আমি)
-- আজ আমি তোকে একটা উপহার দিব,তাই।
-- তাই, তা কি উপহার দিবে আমার প্রিয় ভাবি টা।
-- তোকে এমন জিনিস দিব তুই কল্পনাও করতে
পারবি না।
-- তাই বুঝি, আমার ভাবি তো দেখছি আমাকে অনেক
ভালোবাসে।
-- হুম্ম। তার জন্যেই তো এই দিনটার অপেক্ষা।
-- ভাবি তাহলে তারা তারি দেন আমার আর তর সইছে
না।
-- আরে দারাও দারাও এত তারা কিসের। তার আগে বল
যেটা দিব সেটা কিন্তু কাউকে বলা যাবে না।
-- আচ্ছা ঠিক আছে।
-- এবার ভাবী তার কাপড় খুলতে শুরু করতে ধরল।
-- আমি সাথে সাথে চিৎকার দিয়ে বললাম ভাবি এটা কি
করছেন।
-- তোকে আমি আমার সবচেয়ে বড় উপহার টা
দিচ্ছি, কেন তুই নিবি না।
-- তাই বলে কাপর কেন খুলতেছেন।
-- আরে বাহ কাপড় না খুললে কিভাবে দিব।
-- ভাবি আপনি আসলে কি চাচ্ছেন বলুনত।
-- আমি চাচ্ছি তুই আমাকে আজ এমন কিছু দিবি যাতে
আমি মা হতে পারি।
-- না ভাবি, এটা কখনই হতে পারে না, আমি ওই রকম
ছেলে না ভাবি। আপনি ভালো করেই জানেন। আর
এটা আমি আপনার কাছে আশা করিনি। (আমি)
আপনাকে অনেক ভালোবাসি , কিন্তু এভাবে নয়।
একটা বোনের মত করে ভালোবাসি আপনাকে।
-- আমি এত কিছু শুনতে চাইনা তোর কাছ থেকে৷
তুই আমার ইচ্ছা পুরন করবি কিনা বল।
-- না ভাবি, এটা আমি কখনই করতে পারব না। মরে
গেলেও না। আপনার যা করার আছে আপনি করেন।
-- নিলয়, তুই কি ভুলে গেছিস। আমি যেটা চাই সেটা
পেয়েই ছাড়ি। আর না পেলে আমি সব কিছু ছাড় খাড়
করে দেই।
-- ভাবি আমি কোন কিছুর ভয় করিনা। আপনি নিশ্চয়ই
ভালো ভাবে জানেন আমি এরকম কাজ কখনোই
করবনা, মরে গেলেও না। হে ঠিক আছে, আমি
একটু আধটু খারাপ কাজ করি। তাই বলে আমি এত বড়
খারাপ কাজটা করতে পারব না।।।।।
-- চুপ, অনেক হয়েছে আমি শেষ বারের মত
বলতে চাই আমার প্রস্তাবে রাজি হয়ে যা।।। না হলে
তোর কপালে দুঃখ আছে। তুই কিন্তু ভাল করেই
জানিস আমি যত ভালো তত খারাপ। আর তুই বুঝার
চেস্টা কর এতে দুইজনেরই ভালো, আমার সংসারটাও
বেচে যাবে। আর তুই মজাও পাবি৷।। আর তুই যখন
চাইবি আমার কাছে আসবি, বাধা দিব না।
-- ছি ভাবি ছি , আপনার এসব কথা বলতে একটুকুও
লজ্জা লাগতেছে না। আপনি সংসার বাচানোর জন্য এটা
করছেন, ছি: । আপনার লজ্জা হওয়া উচিৎ। আপনার স্বামি
আপনাকে কত ভালোবাসে আর আপনি, ছি:। বাড়ির
কেউ যদি এসব কথা জানতে পারে আমি,আপনি তখন
তাদের সামনে মুখ দেখাব কিভাবে, ছি ভাবি। (আমি আর
সহ্য করতে পারলাম না।আমারি চোখ দিয়ে পানি বের
হয়ে আসল। )
আমি আর একটা কথাও না বলে কাদতে কাদতে দরজা
খুলে বাইরে চলে আসলাম। আসলে আমার কিছু
সয্য হচ্ছে না এখন। আমার প্রিয় ভাবিটা আমার সাথে
এরকম করতে পারল। । আমারে নিজরই খুব লজ্জা
হচ্ছে এখন।।।।
তিনি আমার নিজের ভাবি না। আমার চাচাতো ভাইয়ের
স্ত্রী। আমার কোন ভাই নাই, তাই চাচাত ভাই
ভাবীদের খুব সন্মান দেই। নিজের মনে করি।।।
কিন্তু আজ যা ঘটল, আমি নিজেকে এখনো বিশ্বাস
করতে পারছি না।
আমি ওরকম ছেলে নই। আমি জানি একটা সম্পর্ক
টিকিয়ে রাখা কত কঠিন। এসব অবৈধ সম্পর্কের কথা
প্রতিদিন শুনা যায়। এসব অবৈধ সম্পর্কের ফলে
আমাদের সমাজ আজ ধংসের পথে।
আমিও একটা মেয়েকে খুব ভালবাসি।তাই আমি জানি
ভালোবাসা টিকিয়ে রাখা কত কঠিন। তাই মেয়েদের
খুব সম্নান দিয়ে চলি। আর এই সন্মান দেয়াটা আমার
ভালোবাসার মানুষটিই আমাকে শিখিয়েছে।
সেই ভালোবাসার মানুষ টা আর কেউ নয় সেও
আমার নিজের চাচাতো বোন রাইশা। সেও আমাকে
প্রচন্ড ভালোবাসে।
আমি জানি ভাবীর এই চাওয়াটার কারন কি। ভাবির বিয়ে
হয়েছে ৪ বছর হল। এখনও তার কোন বাচ্চা হয় নি।
তিনি অনেক ডাক্তারের সংগে যোগাযোগ
করেছেন। তবুও কাজ হয়নি। সমস্যা টা নাকি আমার
ভাইয়েরই। তাদের মধ্যে একটা মধুর সম্পর্ক
রয়েছে। এখন সেই সম্পর্ক টা তে ধিরে ধিরে
ফাটল ধরতেছে,বেবি না হওয়ার জন্য।। কিন্তু ভাবি চায়
না সেই ফাটল টা আরোও বড় হতে। তাই হয়ত
আমাকে এভাবে নিয়ে গিয়ে এরকম করল। কিন্তু
আমি এটা আশা করি নি ভাবির কাছ থেকে। বাসায় আজ
কেউ নেই সবাই গেছে বিয়ে বাড়িতে, ভাবি
আমাকে যেতে নিষেধ করেছিল তাই আমিও যাই নি।
এখন বুঝলাম ভাবি আমাকে কেন যেতে দিল না। আমি
আর সহ্য করতে পারছি না, কিছুক্ষন আগে ঘটে
যাওয়া ঘটনাটা আমাকে দারুণ ভাবে আঘাত করছে ।
আমি বাসায় এসে সুয়ে সুয়ে ভাবতেছি, ভাবি আমার
সাথে এটা কি করল৷ কেন করল। তার সাথে থাকা এত
ভালো সম্পর্ক টা আজ শেষ হয়ে গেল।।।শেষ
যদি এখানে হত, তবু্ও মনে হয় আমার জীবন টা ভালই
যেত। কিন্তু এই ঘটনা টা এত বড় ভাবে গড়াবে আমি
বুঝতে পারিনি।
বিকেলের দিক বাবা মা চাচা চাচি সবাই আসল বিয়ের
দাওয়াত খেয়ে। সবাই একসাথে বাড়ির বাইরে বসে
গল্প করতেছে, বাড়ির ভিতর খুব গরম।।আমিও
তাদের সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছি মন ভালো করার
জন্য। আর মনে মনে ভাবতেছি ভাবিকে ভালো
কিছু একটা উপহার দিব, আর তাকে আবার নতুন করে
বুঝাব, যে আপনি যেটা করতেছেন সেটা সম্পুর্ণ
ভুল।। এটা হয় না।তার আর আমার সম্পর্ক টা নতুন করে
জোড়া লাগাব। কিন্তু সেই সুযোক টা আর পেতে দিল
না।
এসব কথা ভাবতে ভাবতেই, এমন সময় ভাবি কাদতে
কাদতে আসল। এসে সবার সামনে কিছু ছেড়া জামা
আর কাপর বের করে বলল, আমি নাকি তার সাথে
অবৈধ সম্পর্কে জড়াতে চেয়েছি। আমি তাকে
বলেছি আমি তাকে মা বানাতে সক্ষম হব।আর যা যা
মিথ্যা বলার ছিল সব বলে দিল।
এদিকে সবাই তার কথা বিশ্বাস করে নিল। আমি বার বার
বলছিলাম এসব মিথ্যে, এসব মিথ্যে। কিন্তু কেউ
বিশ্বাস করল না। কিভাবেই বা বিশ্বাস করবে, বিশ্বাস না
করার অনেক কারন ছিল। তার মধ্যে একটি হল, একদিন
আমি বন্ধুদের পাল্লায় পরে একটা মেয়েকে
ইভটিজিং করেছিলাম ।তারপর মেয়েটি এসে আমার
বাবাকে বলে দেয়,, সেদিন আব্বু আমাকে হেব্বি
কেলানি দেয়। তখন থেকে আমি আব্বুর কালো
তালিকায় পরে যাই।
আর তাছাড়া ভাবির সাথে আমার একটা মধুর সম্পর্ক ছিল।
ভাবির কাছে আমি প্রিয় ছিলাম, এটা বাড়ির সবাই জানত।
আর সেই প্রিয় মানুষ টা যদি এই ভাবে অভিযোগ
করে তবে কে না বিশ্বাস করবে।।।।
তাই ভাবির বলা কথা গুলো আব্বু আম্মুরও বিশ্বাস হয়ে
গেল। আমি হাজারো বার বললাম আমি এসব করিনি,
উল্টো ভয়ে সব সত্যি বলে দিলাম, কিন্তু কেউ
আমাকে বিশ্বাস করল না।
ভাইয়া আমার দিকে অগ্নি চোখে তাকিয়ে আছে।
আব্বু আছে বিধায় আমাকে কিছু বলতে পারতেছে
না বা মারতে পারতেছে না।
সবাই সুধু আমার দিকে তাকিয়ে আছে, যেন আমার
বলা কথা গুলো কেউ বিশ্বাসই করতে চাচ্ছে না।
অতঃপর বাবা এসে আমায় ঠ্যাস ঠ্যাস করে এলোপাথারি চর
মারলেন।আমার মাথা ভন ভন করছিল। আমার মুখ দিয়ে
আর কোন কথা বের হচ্ছিল না। আব্বু বললেন
আজ থেকে তুই আমার ছেলে না এই মুহূর্তে
আমার সামনে থেকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যা।
এসব ছেলেদের তো বাড়ি থেকে বের করে
না দিয়ে পুলিশকে দেয়া উচিত। আবার অন্য কোন
মেয়ের ক্ষতি করবে।,
আমি ভাবতে পারিনি আব্বু এরকম একটা কথা বলবে।
মুখ দিয়ে কথা বের হওয়া না সত্তেও বললাম বাবা আমি
এসব করিনি।
কে তোর বাবা। খবরদার আমাকে আর বাবা বলবি না।
আমি আর কোন কথা শুনতে চাই না। তুই এই মুহুর্তে
আমার সামনে থেকে চলে যা না হলে এর ফল
ভালো হবে না কিন্তু।
এবার আমি বাবা কে ছেড়ে মায়ের কাছে গেলাম,,
মাও মুখ ফিরিয়ে নিল।। আমি মনে মনে বলতেছি মা
তুমিও আমাকে বিশ্বাস করতে পারলে না ।।।এভাবে
চাচা চাচি, ভাই বোন সবার কাছে গেলাম সবাই মুখ
ফিরিয়ে নিল।
অবশেষে ভাবির কাছে গিয়ে বললাম, ভাবি এত বড়
ভুলটা আপনি করতে পারলেন। আমার ভাবতেও খুব
কষ্ট হচ্ছে।।
এত দিন জানতাম দেবর ভাবির জন্য মৃত্যু স্বরুপ(আল
হাদিস)।
আজ সত্যি সত্যি দেখলাম ভাবি দেবরের জন্য মৃত্যু স্বরুপ।
অতঃপর বাধ্য হয়ে রাস্তা ধরতে হল।।। রাস্তা দিয়ে
হাটতেছি আর ভাবতেছি ভাবি এমনটা না করলেও পারত।
তিনি তার ওয়াদা পুরন করেই ছারলেন।তিনি আবার প্রমান
করে দিলেন তার চাওয়া পুরন না হলে তিনি সব কিছু ছাড়
খার করে দেন।
সামনে দেখতে পেলাম রাস্তার ধারে রাইশা দাড়িয়ে
আছে। দৌড়ে তার কাছে গেলাম তার হাত দুইটা ধরে
কাদতে কাদতে বললাম তুই তো আমাকে বিশ্বাস
করিস, তুই আমার আব্বু কে বুঝানা আমি কিছু করিনি।
বলনা।
--বিশ্বাস, বিশ্বাস তো অনেক আগেই
উঠেগিয়েছিল। যখন ভাবির সাথে তোর মেলামেশা
দেখতাম। আর আজ তো নিজের চোখে
দেখলাম।
-- এই পাগলি তুই এসব কি বলতেছিস। বলনা আমি এরকম
না, বলনা।।।
-- ছি, তোর মত ছেলের মুখের দিকে তাকাতেই
আমার লজ্জা হচ্ছে ছি.. আরে আমিতো তোর মত
ছেলেকে ভালোবেসে ভুল করেছি। আমার কি
কম ছিল যে তুই এই রকম একটা কাজ করলি, ছি।তোর
যদি এতই ইচ্ছা ছিল, আমাকে বলতি বিয়ের আগে
আমিই সব কিছু দিয়ে দিতাম।।৷ চলে যা আমার
চোখের সামন থেকে।
-- তুইও আমাকে বিশ্বাস করতে পারলি নারে,,, এই
ভালোবেসেছিলি আমায়।
এই বলে চলে আসলাম, দুই চোখের পানি ঝর ঝর
করে পরতেছিল, চাইলেও আর আটকাতে পারছিলাম
না। এখন রাস্তা মাপা ছাড়া আর কোন উপায় নেই আমার
হাতে।।।
আছে নানুর বাড়ি আছে। কিন্তু এই মুখ নিয়ে আর
নানুর বাড়ি যেতে চাই না। সেখানে গেলেও হাজার
প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
পকেটে বেশি টাকা নেই, শুধু 500 টাকা আছে।
সাথে ছোট মোবাইলটা নিয়ে এসেছিলাম, কোন
sim ছিল না, শুধু গান সুনতাম।ভাবতেছি এই শহর ছেড়ে চলে যাব।
একটা বাসে করে চলে আসলাম।
যেতে যেতে সব টাকা শেষ হয়ে গেছে।
খুব খুদা লাগছে। পকেটে আর এক টাকাও নেই।
অবশেষে পাশে থাকা পুকুরের পানি পান করলাম।।
জানি না জীবন এ কোন ভুল করেছিলাম, যার শাস্তি
আজ পেতে হচ্ছে। চার দিক থেকে সব আতংক
যেন আমাকে গ্রাস করে ধরেছে। আমার কিছু
করার নেই,, কিছুই করার ছিলনা। আমি হয়ে গিয়েছিলাম
নিরুপায়।
তার পরেও ভেবে ছিলাম সব কিছু একদিন ঠিক হয়ে
যাবে।
এসব ভাবতে ভাবতে ক্লান্তের মাঝে কখন ঘুমিয়ে
গেছি মনে নেই।
সকাল হয়ে গেছে। আমি এক মাঠের মাঝে সুয়ে
ছিলাম। খুব খিদা লাগছে, এ খুধার ব্যাথা যেন সহ্য করার
নয়।তার পরেও, একটু সকাল হতে আশে পাশে ইট
ভাটা খুজতে লাগলাম। কিছু তো করতে হবে, না
করলে টাকা পাব কোথা থেকে।
ভাটার মেনেজারের সাথে কথা বললাম, তিনি আমাকে
কাজে নিবেন না। অনেক জোড়া জুড়ি করার পর
বলল যদি ভালো করে কাজ করতে পারি তাহলে টাকা
দিবে আর না হলে দিবে না। আমি রাজি হয়ে গেলাম।
আমকে বলল ইট বানাতে হবে। কাজ শুরু করে
দিলাম। ইট বানানো সহজ কাজ নয়। ৫০ টা ইট বানাতে
আমি খুব ক্লান্ত হয়ে গেলাম। এই কয়টা ইট বানাতে
বানাতে দুপুর হয়ে গেল।।
সবাই তাদের নিয়ে আসা খাবার খেতে গেল। আর
আমি এদিকে বসে আছি। আমার বার বার মনে হচ্ছিল
আমাকে কেউ একজন বলুক বাবা খাবার নিয়ে আসনাই।
আসো আমারা ভাগাভাগি করে খাই। না, কেউ বল্লনা।
আমি খুবই ক্লান্ত। অজ্ঞান হবার মত অবস্থা। তবুও
কারো কাছে হাত পাততে ইচ্ছা করছে না। বার বার
মনে হচ্ছিল, একটু কাদা খেয়ে নেই, কিন্তু তাও
আমার দাড়া সম্ভব হল না। অবশেষে ইট তৈরিতে
ব্যবহৃত পানি খেয়ে নিলাম।।।
সারাদিনে মাত্র ১৫০ টা ইট বানালাম। সন্ধ্যা হয়ে
এসেছে। মেনেজার সবাইকে ৩০০ করে টাকা
দিল। আমাকে ২০০ টাকা দিয়ে বলল কাল থেকে না
আসতে। যে যার বাড়ি চলে গেল।
আমি একটা বাজারে গিয়ে ৫০ টাকার খাবার খেলাম।
হাতে ফোস্কা পরেছে তাই খেতেও কষ্ট
হচ্ছে।এখন বুঝতেছি জীবন কতটা কঠিন। আর ১০০
টাকা দিয়ে একটা sim কিনলাম। আর ৫০ টাকা রাখলাম
ভবিষ্যতের জন্য।
নতুন sim কিনে আমার এক বন্ধুকে ফোন দিলাম।
যার বাড়ি আমাদের বাড়ির পাশেই।আমার ছোট বেলার
বন্ধু। একই সাথে পরি। তার নাম্বারে ফ্লাক্যিলোড
দিতে দিতে তার নাম্বারটা মুখস্ত হয়ে গিয়েছিল।
তাকে ফোন দিতেই, সে ফোন ধরল।।
-- তাকে আমি সালাম দিলাম।
-- সে মনে হয় বুঝতে পেরেছিল,এটা আমি সাথে
সাথে হাউ মাউ করে কেঁদে দিল। আর বলল আমি
জানি তুই এরকম কাজ করবি না। কেমন আছিস রে।
(যেখানে কাঁদার কথা আমার, সেখানে সে কেঁদে
দিল। আসলে বন্ধুর সমতুল্য কেউ হয় না।)
--আমি ভাল আছি রে তুই কেমন আছিস, বাড়ির সবাই
কেমন আছে রে।
-- সবাই ভাল আছে রে। ওরা তো সুখে থাকবেই।
এ তোর কাছে টাকা পয়সা আছে তো। ঠিক মত
খাওয়া দাওয়া করিস তো। টাকা লাগলে আমাকে বলিস
বিকাশ করে দিব।
এবার আমিও সত্যি সত্যি কেঁদে দিলাম। সাথে সাথে
ফোনটাও কেটে দিলাম।
বার বার চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা হচ্ছিল, হে আল্লাহ
আমার সাথেই কি এটা হওয়ার ছিল।
আজকের আকাশটা খুব খারাপ। বাতাস হচ্ছে। মনে হয়
বৃষ্টি আসবে। তাই আজ মাঠ ছেড়ে অন্য কোথাও
গেলাম ছাউনির মত কোন জায়গায়।
খুজতে খুজতে পেয়ে গেলাম, একটা বিল্ডিং। নতুন
বিল্ডিং হচ্ছে এর কাজ চলতেছে। সেখানে সুয়ে
পরলাম। রাতে হেব্বি বৃষ্টি হচ্ছিল। আজ সারারাত মশার
জন্য ঘুমাতে পারলাম, না।
পরের দিন সকাল হতেই আবার কাজ খুজতে গেলাম।
আজ আর কাজ পেলাম না। ভাবতেছি এই ৫০ টাকা ভাড়া
দিয়ে একটা রিকশা চালাবো। কিন্তু আমি তো রিকশা
চালাতে পারি না। তারপর অন্য কাজ খুজার চেষ্টা করলাম৷
কিন্তু আজ আর পেলাম না।
অতঃপর ওই ৫০ টাকার কিছু টাকা দিয়ে খুদা নিবারন করলাম।
এখানে আমার কষ্ট দেখার মত কেউ নেই।
সবাই চলে নিজের গতিতে।
এভাবেই চলল এক বছর।
এই এক বছরে সামান্য তম পরিবর্তন বা উন্নতি হল না,
আমার দিন দিন যেন অবনতিই হচ্ছে। আগের
থেকে খুব কালো হয়ে গেছি।। প্রতিদিন পুকুর
নদীর ময়লা পানিতে গোসল করতে হয়।।।।জামা
কাপর ছিল না যে কাপড় বদলাবো। গায়েই কাপড়
শুকাতে হয়। কিছু
করার ছিল না আমার। কারো বাসায় আশ্রয় ও পাই নি।।
কাজের লোক হিসেবে ও অনেকে রাখেনি।
প্রায় বন্ধুটার সাথে কথা হয়। তাকে বলতে নিষেধ
করেছিলাম যেন বাড়ির কেউ না জানে তার সাথে
আমার কথা হয়। সে আমাকে বলে, বাড়ির কেউই নাকি
আমার কথা তোলে না। এটা শুনতে আমার খুব কষ্ট
হয়। বুকটা ফেটে যায়। ,
আজ বিকালে আমাকে আমার বন্ধু ফোন দিয়ে
বলল আজ নাকি রাইশার বিয়ে। কথাটা শুনা বুকটা কেপে
উঠল। আমাকে ছাড়া ভালোই আছে পাগলিটা। আজ
সে অন্য কারো হবে। ভাবতেই চোখ বেয়ে
পানি পরল। কিছুই করার নেই আমার। তার পরেও বন্ধুর
কাছ থেকেই এক প্রকার জোড় করেই নিলাম ভাবির
নাম্বার টা। শুনেছি ভাবি নাকি এখনও ভাইয়ের সাথেই
থাকে ওই বাড়িতে, ওই ঘটনার পর থেকে নাকি ভাইয়া
তাকে আরও আপন করে নিছে। যদিও এখনও
তাদের বাচ্চা হয়নি।।
মোবাইলে টাকা নেই, আমি তিন দিন থেকে কাজে
যেতে পারিনি। খুব অসুস্থ আমি। এখনও আমাকে
রাস্তার ধারে থাকতে হয়। সন্ধ্যা হয়ে গেছে।
আমার হাতে ২০ টা টাকা , ভাবতেছি এই টাকা দিয়ে খুদা
নিবারন করব নাকি ফ্লাক্সি লোড দিব। এপাশে আমি
খুধায় কাতর আর অপাশে রাইশা আর পরিবার হারানো
ব্যাথা। তার পরেও খুদার ব্যাথা কে চাপা দিয়ে
মোবাইলে টাকা ঢুকালাম।
রাত আট টার দিকে,
আমি এক খোলা মাঠের মধ্য খানে বসে আছি।
হয়ত বিয়ে শুরু হয়ে গেছে। হয়ত ভাবি আজ খুব
ব্যাস্ত রাইশাকে সাজাতে।। তার পরেও ফোন দিলাম,
সেই প্রিয় ভাবিটাকে।।। কয়েকবার ফোন দিলাম ফোন ধরল
-- কেমন আছেন ভাবি।।।(আমি)
-- কে বলছেন।?
-- এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলেন ভাবি।
-- কে নীল ??
-- হ্যা ভাবি। কেমন আছেন।।
-- সাথে সাথে চিৎকার দিয়ে বলল , নীল তুই এখন
কই,, তোকে আমি অনেক কষ্ট দিছি। আমি অনেক
ভুল করেছি তুই ফিরে আয়।।। আমি আমার পাপ সবার
সামনে বলেদিব, তুই ফিরে আয়।আমার খুব কষ্ট
হচ্ছে তোকে না দেখে।।আমি রাগের বসে
এসব করে ফেলেছি।।। তুই চলে আয়।।।( ভাবি
কাদতে কাদতে বলতেছেন)
-- সেই সুজুক আর নাই ভাবি। ভাবি আমি তিন ধরে না
খেয়ে আছি ভাবি। ভাবি আর মনে হয় না আমি বাচব ।।।
খুব কষ্ট হচ্ছে ভাবি। খুব কষ্ট হচ্ছে।
-- তুই তাড়াতাড়ি বল কোথায় আছিস, আমি তোকে
গিয়ে নিয়ে আসব তারাতাড়ি বল।
--ভাবি আমি অনেক দূরে আছি ভাবি। আর
কিছুক্ষণের মধ্যে মনে হয় অজানা দেশে চলে
যাব। ভাবি আমি সয্য করতে পারছিনা ভাবি। আমাকে ক্ষমা
করে দিয়েন ভাবি। ভাবি আমি আপনাকে এখনও
ভালোবাসি একটা বোনের মত করে। কেন জানি না
আপনার প্রতি আমার ঘৃণা টা আসে নি ভাবি। ভাবি আমার
জীবনের শেষ ইচ্ছাটা রাখবেন ভাবি।
-- আমি আর কোন কথা শুনতে চাই না। শুধু বল
কোথায় আছিস।
-- ভাবি সেটা জেনে আর কি হবে ভাবি। বলেন না
আমার ইচ্ছা টা পুরন করবেন কিনা।
-- বল।(কেঁদে কেঁদে)
--ভাবি আমার আব্বু আম্মুকে বলবেন আমাকে যেন
ক্ষমা করে দেয়।।আর আমার ঘরের পড়ার
টেবিলের ড্রয়ারে একটা উপহার রেখেছিলাম রাইশা
কে দেয়ার জন্য কিন্তু তা আর দিতে পারিনি, জানি না
ওটা এখন আছে কিনা। ওটা পাইলে রাইশাকে দিয়ে
দিয়েন, বলার দরকার নেই কে দিছে।। আর সত্যটা
গোপন রাখিয়েন,আমাকে ভালোবাসার খাতিরে ।
কাউকে বলিয়েন না, এটা বললে আপনার জীবনটাও
নষ্ট হয়ে যাবে।ভাবি পারলে আমার ভুল ত্রুটি গুলো
ক্ষমা করে দিয়েন। আর পারলে সবাইকে আমার
অগ্রিম মৃত্যুর সংবাদ দিয়ে দিয়েন। ভালো থাকিয়েন
ঠিক সেই মুহুর্তে মোবাইল বন্ধ হয়ে গেল, চার্য
শেষ। জীবনের তো সব শেষ হয়ে গেছে
আর তুই বাকি থাকিস কেন।।
অনেক কান্না করেছি, এখন অনেক ঘুম পাচ্ছে
আমার, এ ঘুম যেন আর জাগার নয়। এই ঘুম যেন
জীবনের শেষ ঘুম। এখন কেন যানি মরতেও ভয়
হচ্ছে, যানি না পরকালে আল্লাহ আমার জন্য কোন
শাস্তি অপেক্ষা করে রাখছে। তার তো কোন
গোলামিই করি নাই।তারপরেও চোখকে আটকে
রাখতে পারলাম, জানি না পরের দিন এই চোখ দুটো
খুলবে কি না।।।।
আপনাদের সাড়া পেলে next পার্ট দিবো।
চলবে_কি?

Address

Khustia Dhaka
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শুভ্র নীলার ভালোবাসা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share