18/04/2026
মোটু আর পাতলু ,
পাতলু -সাল মেবি ২০০৯ বা ২০১০
জীবনের প্রথম পহেলা বৈশাখে নিজের হাতে করা শাড়ি পরে ভার্সিটির বন্ধু-বান্ধবদের সাথে জাহাঙ্গীরনগর ঘুরতে আসছিলাম, শাড়ি পড়ে পহেলা বৈশাখে ঘুরার এ এক অন্যরকম অনুভূতি ছিল।
তার আগে আমার কাছে পহেলা বৈশাখ মানেই ছিল পন্ডিতের মেলা, আর এটা শুধু মেলা না মিলন মেলা ।
বৈশাখ আসলেই মনের মধ্যে একটা আনন্দ বিরাজ করতো, তখন পহেলা বৈশাখে এরকম শাড়ি পরে ঘুরে বেড়ানো হত না কারণ গ্রামে এই দিনগুলো কখনো সেরকম ভাবে কেউ উদযাপন করে না, তাই একমাত্র আনন্দই ছিল পন্ডিতের মেলাকে ঘিরে আর এই পন্ডিতের মেলা হয় বৈশাখ মাসে প্রথম শনিবার।
এই মেলাটা শুধুমাত্র আমাদের গ্রাম না আশেপাশের ৪/৫ গ্রামের মানুষের মিলন মেলা।
মিলন মেলা এই জন্যই বলা হচ্ছে এই মেলা কে কেন্দ্র করে গ্রামের প্রতিটা বাড়িতে তাদের মেয়ের জামাই থেকে শুরু করে, ফুপু, চাচা, খালা ,মামা যত আত্মীয়স্বজন আছে সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হত।
আত্মীয়-স্বজনে বাড়ি ভর্তি, প্রতিটা বাড়ির কর্তা বালতি,কলসি হাতে করে সকালবেলা যাইতো বাজারে মিষ্টি কিনতে কারণ অল্পস্বল্প মিষ্টিতে হবে না কলসি ভর্তি করে ,বালতি ভর্তি করে মিষ্টি কিনতে হবে মানুষ যে অনেক বেশি।
আমার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে আব্বা সকালবেলা আমাকে সাথে নিয়ে আর একটা কলসি নিয়ে যাইতো বাজারে মিষ্টি কিনতে।
মিষ্টি কিনার আগে দোকানদারকে বলতো মেলামাইনের যে হাফ প্লেটগুলো থাকে ওইটা ভর্তি করে মিষ্টি দিতে আমাকে খাওয়ার জন্য।
এত মিষ্টি দেখে আমি তো খুশিতে ওখানেই বসে যেতাম খেতে।
তারপরে অনেক প্রকারের মাটির খেলনা কিনে নিয়ে বাড়িতে আসতাম কারণ বিকেলবেলা আবার বট গাছের নিচে মেইন মেলায় যেতে হবে। আর এই মেলাকে কেন্দ্র করেই কিন্তু বাজারে এত মিষ্টির দোকান, অন্যান্য দোকান আসতো।
মেলার চেয়ে বেশি মিষ্টি তারা এই বাজারেই বিক্রি করত সকালবেলা গ্রামের লোকজনের কাছে।
তো পুরা গ্রামে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ থাকতো এই দিনে
মিষ্টির সাথে সাথে প্রতিটা বাড়িতে অন্যান্য খাবার দাবার পিঠা এগুলার আয়োজন তো থাকতোই। এখনো হয় কিন্তু আগের মতো কোন কিছুই নেই।
এরপর অপেক্ষায় থাকতাম বিকেল হওয়ার, বিকেল হলেই আব্বা,কাকা চাচাতো ভাই,পাড়া-প্রতিবেশী সমবয়সী এদের সাথে চলে যেতাম বট গাছের নিচে পন্ডিতের মেলায় যেটা আমাদের গ্রাম থেকে এক দেড় কিলো দূরে।
মেলায় ঢুকেই আব্বা আগে সাজ বিন্নি কিনে আমার হাতে দিত। তারপর তরমুজ, ১২ ভাজা, আমেরতি আরও অনেক খাবার দাবার ,পাশেই বসতো সাজগোজ কসমেটিক অন্যান্য দোকান,কিন্তু আব্বা সাজার জিনিস কম কিনে দিত, এজন্য মা এক্সট্রা করে আমাকে টাকা দিয়ে দিত।
কিন্তু আব্বা সাথে থাকলে কি আর ইচ্ছামত জিনিস কিনতে পারি।
মন খারাপ করে টাকা ঘুরায় নিয়ে আসতাম কারণ পরের দিন ওই মেলার দোকান গুলা আমাদের স্কুল মাঠে বসবে ওই দিন কিনব সেই আশায়।
পরের দিন স্পেশালি মহিলাদের মেলা, গ্রামের সব মহিলারা, আত্মীয়-স্বজন নিয়ে মেলায় আসে কেনাকাটা করার জন্য।
ফুফু ভাতিজা,ভাতিজাকে কিনে দিচ্ছে দুলাভাই,খালা ,মামা, চাচা, সবাই সবাইকে মেলা থেকে জিনিস কিনে দিচ্ছে কি যে সুন্দর ছিল সময় গুলা।
আজকে সেই শনিবার, সকাল থেকে গ্রামের ছেলে মেয়েদের ভিডিও দেখতেছি, সেই মিষ্টি কেনা সেই বট গাছের নিচে মেলা চোখের সামনে সেই পুরনো স্মৃতিগুলো ভেসে উঠতেছে, যদিও কালকে শ্বশুর শাশুড়ি বাবা-মা , চাচাতো ভাই সবাই বারবার কল করে বলছে বাড়িতে যেতে কিন্তু শরীর এতটাই খারাপ যেতে পারিনি।
তবে অনেক ভালো লাগছে সবার ভিডিও দেখে স্পেশালি Alfe Sani - Manikganj 1800 ভাই। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ লাইভ করার জন্য।
যাইহোক এবার মোটুতে আসি।
মোটু-মোটু এখন যে শাড়িটা পড়ে আছে এটাও তার নিজের হাতে করা ২০২৬ সালের পহেলা বৈশাখে সকাল বেলা মানে ভোরবেলা, এবার পহেলা বৈশাখে কোন প্ল্যানই ছিল না বাইরে ঘুরতে যাওয়ার শাড়ি পরার, সব প্ল্যান ছিল Cake Artistry by Eti কে ঘিরে।
কয়েকদিন আগে প্ল্যান করছিলাম আমি আর কলিক মিলে যে পহেলা বৈশাখের পরের দিন শাড়ি পরে অফিসে আসবো,তো আমার পুরানো যে শাড়িটা ছিল সেটাই পড়তে চাইছিলাম, হঠাৎ মনে হল যে অনেকদিন আগে ৪৫০ টাকা দিয়ে একটা শাড়ি কিনছিলাম অফ হোয়াইট, এটার মধ্যে তো ব্লক করতে পারি, সারারাত কেক তৈরি করে ভোরবেলা বসে পড়ছি শাড়িতে ব্লক করার জন্য,ব্লক করতেছি আর ভাবতেছি এটা কি আমি আদৌ অফিসে পরে যেতে পারবো, ফাইনালি আল্লাহ রহম করছে মটু শাড়িটা পড়ে আছে।
বাই দ্যা ওয়ে কেউ কিন্তু মোটু বলবেন না প্লিজ 😀
Man is mortal/মানুষ মাত্রই পরিবর্তনশীল😀😂🤣