08/03/2026
ঋতুচক্রে বসন্ত এসেছে, প্রকৃতিতে পালাবদলের আবহ নিয়ে এসেছে ফাল্গুনের দিন। উত্তরের শীতল বাতাসের প্রবাহ এই সময় থেমে যায়, দখিনা উষ্ণ সমীরণ নিয়ে আসে কী এক বিমুখী টান! দখিনা বাতাসের হিমেল স্পর্শ ফুরফুরে অনুভূতি জাগায় বটে, আবার ড্রাই স্কিনের চ্যাড়চ্যাড়ে টানও তখন অনুভূত হয়! এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছি। এলাকাটা টিলাঞ্চল, বনবনানীর বুনোটে আচ্ছাদিত টিলার পাশ দিয়ে চলে গেছে ফিতার মত পথ। এরকম এক পথের বাঁকে টিলার ঢালু গায়ে চোখে পড়ে ফুটে এক জাতের সাদা রঙের ফুল। এই ফুলের নাম- ভাঁট ফুল, ইংরেজি নাম- Hill Glory Bower. যার বৈজ্ঞানিক নাম- Clerondendron viscosum. চৈতাঘাড়া ফুল, বনজুঁই, ঘেঁটুফুল এরকম কিছু নামেও পরিচিত এই ফুল। এই ফুলের পাতা দেখতে কিছুটা পানপাতার মতো ও খসখসে। ডালের শাখায় পুষ্পদণ্ডে ফুল ফোটে। পাপড়ির রং সাদা এবং এতে মৃদু বেগুনি রঙের মিশেল আছে। ভাঁট ফুলের রয়েছে বেশ মিষ্টি সৌরভ। রুপসী বাংলার কবি খ্যাত জীবনানন্দ দাশ হয়তো বিমোহিত হয়েছিলেন এই সুঘ্রাণে, তাই তো তার কাব্য পংক্তিতে গেয়েছেন ভাঁট ফুলের স্তুতি- “ভাঁট আঁশ শ্যাওড়ার বন, বাতাসে কী কথা কয় বুঝি নাকো, বুঝি নাকো চিল কেন কাঁদে; পৃথিবীর কোনো পথে দেখি নাই আমি, হায়, এমন বিজন।"
ফুল ফোটার সময়ে মধু সংগ্রহের জন্য ভাঁট ফুলের কাছে মৌমাছির আনাগোনা লেগেই থাকে। ফুল ফোটে বসন্ত থেকে গ্রীষ্ম অবধি। ভাঁট গাছের মূল শাখা সোজাভাবে দণ্ডায়মান হয়, গাছ সাধারণত ২ থেকে ৪ মিটার লম্বা হয়। পাহাড়ের ঢাল, ঝরনার প্রবাহ ধারার আশপাশ, টিলাঞ্চল, গ্রামের মেঠো পথের ধার, এবং পতিত জমির কাছে এর গাছ জন্মে থাকে এবং প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠে।
ভাঁট গাছের ঔষধি গুণও অনেক। এর পাতার রস শিশুদের জ্বর প্রশমনে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এতে প্রচুর পরিমাণে ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে। ফ্ল্যাভোনয়েডের উপস্থিতির জন্য এটি ক্যানসার দমনে সহায়ক হিসেবে বিবেচনাধীন বলে জানা যায়। এছাড়াও সনাতন ধর্মালম্বীদের ভাঁটি পূজায় ব্যবহৃত হয় ভাঁট ফুল। মায়ানমার, বাংলাদেশ সহ ভারতীয় উপমহাদেশ এই ফুলের আদি নিবাস।