02/10/2026
হারাম শরিফে কয়েকটা বিষয় লক্ষ্য রাখবেন।
নামাজের সময় এখানে অনেক সময় ভেতরের অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন বারান্দায় বা মসজিদের বাইরের অংশে নামাজ পড়তে হয়। আর তখন যে যেখানে জায়গা পায়, সেখানেই দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু একটা বিষয় খেয়াল করবেন, এই জায়গাগুলো দিয়েই আমরা নিয়মিত জুতা পায়ে হাঁটাহাঁটি করছি। যদিও নিয়মিত ক্লিনিং হচ্ছে, জায়গাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে, তারপরও সতর্কতার জন্য সঙ্গে একটা ছোট জায়নামাজ রাখা খুবই উপকারী।
কারণ নামাজের জায়গাটা পাক থাকা জরুরি। তাই নিজের সঙ্গে একটা জায়নামাজ থাকলে হঠাৎ যেখানে দাঁড়াতে হচ্ছে, সেখানে জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়তে পারবেন। এতে নিজের জায়গার পবিত্রতা নিয়ে অন্তত অযথা চিন্তায় পড়তে হবে না।
দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে, এখানে নারীদের জন্য আলাদা জায়গা আছে, পুরুষদের জন্যও আলাদা জায়গা আছে। কিন্তু অনেকেই বিষয়টা ঠিকমতো জানেন না, কেউ হয়তো বুঝতে পারেন না, আবার কেউ নির্ধারিত জায়গা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন না। ফলে দেখা যায়, নারী-পুরুষ একসঙ্গে মিশে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ছেন।
এখানে একটু সতর্ক হওয়া দরকার। আপনার জন্য আলাদা জায়গা আছে, সেখানে যেতে পারেননি, তাহলে একটু অপেক্ষা করেন। সুযোগ হলে নিজের নির্ধারিত জায়গায় গিয়ে নামাজ পড়েন। এটা কোনো ট্যুরিস্ট প্লেস না যে জায়গা পেলাম আর শত শত অচেনা মানুষের সঙ্গে মিশে দাঁড়িয়ে গেলাম। নামাজ একটা ইবাদত। এর কিছু হুকুম-আহকাম এবং কিছু বিধিনিষেধ আছে। এগুলো জেনে তারপর নামাজ আদায় করতে হবে।
বিশেষ করে নারীদের জন্য তো আল্লাহ তাআলা আরও অনেক সহজতা রেখেছেন। নারীদের জন্য পুরুষদের মতো মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ পড়া বাধ্যতামূলক নয়। একজন নারী চাইলে হোটেলে নিজের রুমে, পর্দার মধ্যে, সুবিধামতো জায়গায় নামাজ পড়তে পারেন। সেখানেও তার নামাজ আদায় হয়ে যাবে এবং জামাতের সওয়াবের বিষয়েও হাদিসে নারীদের ঘরে নামাজের বিশেষ ফজিলতের কথা এসেছে।
অবশ্যই হারাম শরিফে নামাজ পড়ার সুযোগ হলে সেটা কাজে লাগানো ভালো। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগানো এক জিনিস, আর প্রতিবার গিয়ে এমন একটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়া আরেক জিনিস। অনেক সময় আমাদের এই ভুলগুলো হচ্ছে আসলে না জানার কারণে।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, নামাজের অন্তত আধা ঘণ্টা আগে হারাম শরিফে চলে আসার চেষ্টা করবেন। কারণ এত বড় মসজিদ, এত বিশাল জায়গা, আর নামাজের সময় মানুষের যে পরিমাণ ভিড় হয়, একটু দেরি করলে ভালো জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
যারা ভেতরের অংশে ঢুকবেন, তারা সম্ভব হলে আগে থেকেই ওযু করে যাবেন। কারণ একবার ভেতরে ঢোকার পর কোনো প্রয়োজনে বের হয়ে গেলে আবার ভেতরে ঢুকতে অনেক সময় লাগতে পারে। এমনও হতে পারে, পরবর্তীতে আপনার আগের জায়গাটায় বা পছন্দের জায়গায় আর ঢোকার সুযোগ হলো না।
তাই হারাম শরিফে নামাজ পড়তে গেলে এই ছোট বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন। সঙ্গে একটা জায়নামাজ রাখবেন, নারী-পুরুষের নির্ধারিত নামাজের জায়গা সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে নেবেন এবং চেষ্টা করবেন নামাজের অন্তত আধা ঘণ্টা আগে চলে আসতে। ছোট বিষয় মনে হলেও হারাম শরিফের মতো জায়গায় এগুলো অনেক বড় ঝামেলা থেকে আপনাকে বাঁচাতে পারে।
ছবিতেঃ মাসজিদে কোবা